somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নবম শ্রেণীতে বিভাগ নির্বাচন অযৌক্তিক।

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভীষণ জরুরী একটি বিষয় নিয়ে অন্তর্জালে আলোচনা শুরু হয়েছে, অবশ্য এই আলোচনাটি অনেক আগেই শুরু করা উচিৎ ছিল। তারপরেও যে এতদিনে আলোচনা শুরু হয়েছে এটাই স্বস্তির, বিষয়টি হল। নবম শ্রেণীতে বিভাগ নির্বাচন কতটা যৌক্তিক।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগ নির্বাচন, দুটি কারণে এস এস সি'র পর থেকে শুরু হওয়া উচিৎ বলে মনে করি।
প্রথম কারণটি হল, সদ্য অষ্টম শ্রেণী পাশ করা একজন ছাত্র ছাত্রী এত অল্প বয়সে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মত পরিপক্ব হয়ে ওঠে না। ফলে সিদ্ধান্তটি প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই তার পরিবার এবং শিক্ষক দের দ্বারা তার উপরে চাপিয়ে দেয়া হয় অথচ এই সিদ্ধান্তটি তার জীবনের গতিপথকে সুনির্দিষ্ট করে ফেলে। এটা অন্যায়। চাপিয়ে দেয়া এই সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা আনন্দ চিত্তে পাঠ ক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারে না। পড়ালেখার প্রতি তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। শেষে অনেকটা বাধ্য হয়েই সে লেখাপড়া চালিয়ে যায়। যা তাকে শিখতে অনুপ্রাণিত করে না, সে তখন ভাল ফল লাভকেই লেখাপড়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করে এবং যেন তেন উপায়ে ভাল ফল লাভের চেষ্টা করে যায়। যা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।

দ্বিতীয় কারণটি হল, সুনাগরিক হিসেবে তৈরি হবার জন্য একজন শিক্ষার্থীর সকল বিষয়ের উপরেই প্রাথমিক ধারনা থাকা জরুরী। এস এস সি অবধি আমাদের যে সিলেবাস, তাকে আমরা বলতে পারি বিজ্ঞান, মানবিক অথবা ব্যবসা সব শাখারই প্রাথমিক স্তর। এটুকু জ্ঞান অর্জন সকলের জন্যই বাধ্যতামূলক হওয়া উচিৎ।
একজন মানবিক শাখার শিক্ষার্থীর যেমন ব্যবসায় উদ্যোগ কিংবা রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা জরুরী ঠিক তেমনি জরুরী বলে মনে করি একজন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর পৌরনীতি ও নাগরিকতা বা বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকা।
অনেকে হয়ত বলবেন এতে শিক্ষার্থীদের উপর চাপ পরে যাবে। সে ক্ষেত্রে বলব, যাতে চাপ কম পরে সে অনুযায়ী পাঠক্রম ঢেলে সাজান। তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ান। এতে একদিকে যেমন তারা কোন বিষয়েই একেবারে অন্ধকারে থাকবে না তেমনি একইসাথে বিশেষ অধ্যায়নের ক্ষেত্রে যে শাখাটি বেছে নিতে চাইবে পুর্বেই তার একটি সম্যক ধারনা লাভ করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা জেনে বুঝে তাদের পথ বেছে নিতে পারবে।

এখন যেটা হচ্ছে সেটা তো অনেকটা জোর করে দেয়া বাল্য বিয়ের মত। যেখানে দুটি নিতি মানা হয়। এক হল, পরিবারের ইচ্ছেই হচ্ছে শেষ কথা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, মানিয়ে গুছিয়ে নিতে হবে। কিন্তু তাতে আখেরে লাভটি কি হল সে প্রশ্ন এখানে অবান্তর।

আজকেই এই সময়ে এসে আমরা যেমন এটা বুঝতে পারছি। বাল্য বিয়ে শুধু শারীরিকভাবেই মানুষের ক্ষতির কারণ নয় একইভাবে এটি একটি সারা জীবনের জন্য মানসিক পীড়নও বটে। আজ আমরা দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মধ্যেও যেমন তাদের অমতে জোর করে বিয়ে দেওয়াকে অপরাধ বলে স্বীকার করি। ঠিক একইভাবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্র ছাত্রীদেরকে তাদের জানায় অজানায় জীবনের পতি পথ নির্দিষ্ট করে দেওয়াও এক ধরনের অপরাধ বৈকি। আজ না হোক কাল একদিন এ সত্যও আমরা স্বীকার করে নেব। যত দ্রুত সেটা স্বিকার করে নেব ততই মঙ্গল।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৫৫
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×