আমি প্রায়শই মাঝরাতে বারান্দায় বসি। চারদিক শুনশান নীরব, শুধু রাস্তার দুই ধাড়ে ল্যাম্পপোস্ট গুলো নীরবতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পাশের বারান্দায় তখনো কেও অপর প্রান্তে কাওকে সময় দিচ্ছে। মাঝে মাঝে উষ্ণতা বিনিময়ের শিহরণ ও শোনা যায়। হয়তো বেণী সুতোয় সপ্ন বুনছে।
আমার ঠিক সামনের বারান্দায়, মানে রাস্তার ওপারের বারান্দায় এক স্কুল পড়ুয়া তরুণী মাঝরাতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি ভাবি আহ মেয়েটাও হয়তো আমার মতো প্রকৃতি প্রেমী। না তা হয় নি। সে ও কাউকে সময় দিচ্ছে। মিহি সুতোর হেডফোনে ভালবাসা ট্রান্সফার হচ্ছে।
সময় আসে, সময় যায়। আস্তে আস্তে ও প্রান্তের মানুষ গুলোও পরিবর্তন হয়ে যায়। হয়তো বলে দেয় আই ক্যান ডিজার্ব বেটার দ্যান ইউ। নয়তো সেটা হয়ে যায় ' ইউ চিটিং উইথ মি '।
ঠিকি দিনশেষে বেটার খুঁজতে যাওয়া মানুষ গুলো ক্লান্ত হয়। ততোক্ষণে পেছনের রাস্তার নিয়ন বাতিটা ও যে নিভে যায়।
সত্তি বলতে আমরা ভালবাসতে পারি না। পারলেও মোহ ত্যাগ করতে পারি না। কারো হাত ধরেও হয়তো আনমনে খুঁজি 'ইশ হাতটা আর একটু সুন্দর হলে'। হয়তো বা কেও ভাবে ইশ ওর বাপ যদি আর একটু মাল দার পার্টি হতো।
মাঝে মাঝে তাই মনে হয় ভালবাসা বলতে কিছু নেই। যা আছে তা হচ্ছে মন ভাঙবার আভিপ্রায় মাত্র।
মাঝ রাস্তায় অনেক কে বলতে শুনি বাস্তবতা অনেক কঠিন। আবেগ দিয়ে জীবন চলে না। তাই চলে এসেছি। তাদের কাছে খুব জানতে ইচ্ছে করে " যখন রাতজেগে ফোনের ওইপাশ গরম রাখতেন, চুমু চুমু খেলতেন " তখন কোথায় ছিল আপনার বাস্তবতা?? নাকি চেতনা দন্ড দাঁড়িয়ে গেছে। বুজে গেছেন এ মাল দার পার্টি না। তাই হয়তো নতুন সুখ সন্ধান...
প্রায় শেষ রাত। না বেণী সুতোয় মালা গাঁথা এখনো শেষ হয় নি। ছেড়া স্ক্রাচ কার্ডগুলো বাতাসে উড়েছে। নিকোটিন গুলো দ্রুত শুষে নিচ্ছে জমাট রক্ত। তারপরেও সবাই বেঁচে আছে। আমরা বেঁচে আছি। আমি বেঁচে আছি।।।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



