somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনলাইন কথন

১৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ কয়েক দিন যাবত একটা অপরিচিত আইডি বারবার ফলো দিচ্ছে আবার আনফলো দিচ্ছে। প্রথম প্রথম খুব একটা গায়ে মাখিনী। যখন দেখলাম ব্যাপার টা নিয়মিত ঘটছে তখন কিছুটা খটকা লাগে।

একটু ইচ্ছে করেই প্রোফাইল টা তে ঢু মারি। নিষ্পাপ একটা মুখ সাথে গুটিগুটি করে লেখা 'রাইসা মাহমুদা '। মেয়েটা কে আগে কখনো দেখেছি বলে মনে হয়না। আবার কোন মিউচুয়াল ফেন্ড ও নেই। অবাক করা ব্যাপার হলেও কেন জানি আর আগ্রহ পাইনি। তাই হয়তো আর আগ বাড়িয়ে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি।

ব্যাপার টা একরকম ভুলেই গেছিলাম। সত্তি বলতে কি একরকম বাধ্য হয়েই ব্যাপার টা দূরে ফেলে দিয়েছি। কাওকে ফলো করা বা না করা সম্পূর্ণ মেয়েটার ব্যক্তিগত। আমিই বা আগ বাড়িয়ে বলার কে?

জানুয়ারি মাস। একটু মনে হয় বেশিই ঠান্ডা। প্রায়শই মাঝরাতে ঘুম ভাঙার সমস্যা। তবে ফেসবুক থাকতে চিন্তা কিসের। আমার মতো যাদের চ্যাট করার কেও নেই তাদের ভরসা হচ্ছে হোমপেইজ। অকারনে বারবার লোডিং। এতো রাতে নক করার মতো কেও নেই তারপরেও একটা মেসেজ। হয়তো কারো দরকার। আমাকে কেও আবার দরকার ছাড়া মনে করেনা। গুটিগুটি করেই লেখা

_ কেমন আছেন?

ঃ জ্বী ভালো। আপনি?

_ ভালো। তবে এখন একটু বেশি।

ঃ হুম। ভালো...

আগ বাড়িয়ে কেন জিজ্ঞেস করাটাই আধিখ্যেতা। এ আর কেও না। রাইসা বলেই একটু ভয় পেয়ে গেছি।

_ আপনি কি কম কথা বলেন?

মেয়ে তুমি তো আমার পাল্লায় পড়নি। তাই মনে হচ্ছে কম কথা বলি। কাওকে তো আর এমন করে বলা যায়না, তাই হয়তো রিপ্লাই...

ঃ :-) :-)। না এমনিতেই আর কি...

_ বুঝে ফেলেছি। আপনার আর মুখ ফুটে কিছু বলতে হবে না। আচ্ছা আমি কি আপনাকে রিকু দিলে এক্সসেপ্ট করবেন?

ঃ আচ্ছা দিন। করবো... :-)

তারপর থেকে প্রায় নিয়মিত বার্তা আদান প্রদান হতো। সবচেয়ে বড় কথা মেয়ে ভিকারুননেসা তে পড়ে সেকেন্ড ইয়ারে। মাস পাঁচেক কারো সাথে টানা চ্যাট হলে যা হয় আরকি। নিজেদের অনেক কথাই শেয়ার করা হয়। পরিচয় টা একটু একটু করে গভীরতম হচ্ছে। আমি চাচ্ছিলাম দেখা করবো। তবে চক্ষুলজ্জা র কারনে বলতে পারছিলাম না।

জুলাই এর শেষ নাগাদ। শরীর টা একটু কেমন জানি নড়বড়ে। তাই আর ক্লাসে যাইনি। সকাল সকাল ফেবু তে লগইন করেই দেখি রাইসা র মেসেজ

_ Can you meet with me?

ঃ Okey. but why?

_ I need to talk that's y.

ঃ Where?

_ Dhanmondi 27. Opposite of the lake. You just here exactly 5:30pm. okey?

ঃ ohhh. okey.

রাইসা র পছন্দ মতো রেড শার্ট পড়েছি। কিছুটা এক্সাইটেড তাই হয়তো পাঁচটা ত্রিশ এর আগেই চলে এসেছি। তবে রাইসা এখনো আসেনি। ঠিকঠাক জায়গায় বসে আছি তবে জায়গা টা আমার পছন্দ হয়নি। যথেষ্ট দিনের আলো থাকা সত্ত্বেও অন্ধকার মনে হচ্ছে। তবে যাই হউক রাইসা আসছে তবে সাথে কি কেও আছে??

ঃ কেমন আছো??

পাশে থাকা ছেলেটা বুক বরাবর লাথি মারতেই আমি পড়ে যাই। সাথে রাইসার শব্দ শুনতে পাই। পাশে থাকা ছেলেটা কে বলছে " শালার পুত দেখা করতেই আট মাস লাগাইছে। এই প্রথম একটা পোলার লাইগা এতো সময় নষ্ট করছি। শালারে মাইরা লুলা বানা। পকেট এ কি আছে তারাতারি বের কর হারামজাদা। "

সত্তি বলতে আমি কিছুটা বিহ্বল। একটা মানুষ এতটা নামতে পারে কিভাবে?

ছেলেটা যখন পকেট এ কি আছে দেখার জন্যে টেনে উঠাচ্ছিলো তখন আর দেরি করিনি। হাতটা মুঠো করে নাক বরাবর মারি। ছেলেটা পড়ে যেতেই আমি কোনমতে উঠে দৌড়। আমি নিশ্চিত উসাইন বোল্ট ও আমার কাছে ফেইল মারতো। তবে সে যাত্রায় বেঁচে গেছি।

রাতের বেলা যখন ফেবু তে বসি তখনো আইডি টা নীল হয়ে ছিলো। আমি সুন্দর করে একটা পাপ্পি রিপ্লাই সাথে গুটিগুটি করে লিখে দিলাম Baby I love u. U make my day.. :-D

তারপরে আর আইডি টা নীল দেখিনি। পুরোপুরি ব্লাস্ট হয়ে গেছে।

এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে। অনেক ঘটনাই আমাদের অগোচরে। আমি বেঁচে গেছি তাই বলে এর মানে এই না যে আপনিও বেঁচে যাবেন। ভালো থাকুন তবে সবকিছুর চাইতে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।।।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×