ঢাকা, অক্টোবর ২৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- হিযবুত তাহরীরের সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়েছে। তবে সংগঠনটির কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ধর্মভিত্তিক এ সংগঠনটি এক দিন আগেই নিষিদ্ধ করে সরকার।
নিষিদ্ধ ঘোষণার পর হিযবুত তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহম্মেদ সকাল ১১টায় তেজগাঁওয়ে আইবিএ হোস্টেলে তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন ডাকেন।
সম্মেলন শুরু হওয়ার আগ থেকেই হোস্টেলের আশপাশে পুলিশ অবস্থান নেয়। সম্মেলন শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে পুলিশ এসে জানায়, নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে সংগঠনটি কোনও প্রচার কিংবা কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না।
মহিউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) সহযোগী অধ্যাপক।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে এদের যে কোনও ধরনের প্রচার বা কর্মকাণ্ড চালানো অবৈধ। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা এতে বাধা দিয়েছি।"
মহিউদ্দিনসহ হিযবুত তাহরীরের কোনও সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কিনা- প্রশ্ন করা হলে পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের উপপুলিশ কমিশনার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, "তারা (হিযবুত তাহরীর) কোনও তৎপরতা চালাতে পারেনি। সংগঠনটি নিষিদ্ধ। তাই কেউ এর পক্ষে তৎপরতা চালালে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।"
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "হিযবুত তাহরীর নিয়ে চূড়ান্ত গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পরই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।"
হিযবুত তাহরীর ২০০১ সালে বাংলাদেশে প্রথম কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকেই তারা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছিলো।
২০০৭ সালে মহিউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে তাদের কর্মী সংখ্যা এক হাজারের মতো। আর সমর্থক ১০ হাজারের বেশি।
তখন তিনি আরও বলেছিলেন, "আমরা প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থা সমর্থন করি না। কারণ, এর মাধ্যমে শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়। কিন্তু সরকার ব্যবস্থা বা আদর্শিক কোনও পরিবর্তন হয় না। এ কারণে জনগণকে সম্পৃক্ত করে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে হবে।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



