somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নিঃশব্দের কথামালা
নিজের সাথে বলে যাওয়া কথাগুলো ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করি।নিজের কল্পনা গুলোকে একটা রূপ দেওয়ার চেষ্টা করি।নতুন লিখছি, আপনাদের মন্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।

নিজের সাথে কথামালা ০২

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ ভোর ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চার চাকার ছোট্ট একটি গাড়ি... লাল রঙের। ছুটে চলছে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে ধরে। আরোহী দু'জন। আমি আর তুমি, দুজনেই গাড়ি চালাতে জানি কিন্তু এখন ড্রাইভিং সিটে আমি আর পাশের সিটে বসে অনবরত কেঁদে চলেছ তুমি। ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে খুব স্বাভাবিক ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি আমি। এয়ারপোর্ট-টঙ্গী-বোর্ডবাজার হয়ে এখন আমরা চৌরাস্তার কাছাকাছি।

খুব স্বাভাবিক ভাবে ড্রাইভ করলেও আসলে আমি মোটেও স্বাভাবিক নেই। ভেতরে ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে আমার। একটু আগে পাশে বসে থাকা মেয়েটিকে জোর করে তুলে আনতে হয়েছে। কাজটা মোটেও সহজ ছিল না... কারণ সে সব রকম ভাবে এভয়েট করে গিয়েছে আমাকে গত কয়েক দিন। ফোন, বাসা, অফিস, মিচুয়াল ফ্রেন্ড... সব চেঞ্জ!! রীতিমত খড়ের গাঁদায় সূচ খোঁজার মত করে খুঁজতে হয়েছে তাকে।

: কাঁদছ কেন তুমি ময়না... মনে সাহস সঞ্চয় কর। আর আমি বলছি তো তোমার কিচ্ছু হবে। কাজ শেষ হলে তুমি গাড়ি নিয়ে চলে আসবা। ব্যস...
: চুপ থাক তুই... ইতর... বদমাইশ... লজ্জা করে না তোমার কথা বলতে??
: হা হা হা... মাথা ঠাণ্ডা কর বাবাই... এত মাথা গরম করলে তো চলে না। শোন... আমি তোমাকে পুরো প্লানিং না বলি...
: না... প্লিজ। তুমি এটা করবা না। প্লিজ...
: না রে বাবা... এখন আর এখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব না।
: প্লিজ, দোহাই তোমার... এরকম কইরো না...
: শোন, মাথা ঠাণ্ডা করে শোন... গাড়ির পেছনে একটা সাইকেল রাখা আছে। কাজ শেষে তুমি সাইকেল নিয়ে সোজা বের হয়ে যাবা। এখান থেকে ময়মনসিংহ যাবা প্রথমে। ময়মনসিংহ পৌছানোর আগে তুমি এমন কিছু জায়গা পাবা জনশূন্য। ওরকম একটা জায়গায় সাইকেলটা ফেলে দিবে। তারপর কিছুটা পথ হাঁটবে। এরপর সিএনজি বা রিক্সা নিয়ে সোজা বাস টার্মিনাল। সেখান থেকে বাসে করে ঢাকা। ব্যস।
: আমি কিচ্ছু করব না। আমি কিচ্ছু করতে পারব না। আর তোমার এই সব ভন্ডামি বন্ধ কর। প্লিজ। আমি আর নিতে পারতেসি না।
: পারতেসি না বললেই ত আর হয় না রে পাগলা... তোমাকে পারতে হবে। তোমার জন্য তোমাকে পারতে হবে। মনটা শক্ত কর ময়না। আমরা প্রায় চলে এসেছি।
: সায়েম, প্লিজ... তোমার পায়ে পড়ি। এরকম করো না। প্লিজ... চিন্তা কর তোমার আব্বু আম্মুর কথা... তোমার আপুর কথা। আমাকে ছেড়ে দাও। মনে কর গত চারটা বছর ভুল ছিল। আমি মেনে নিতে পারছি, তুমি কেন পারবা না? তুমিও পারবা সায়েম। প্লিজ, এমন কোরো না... দোহাই লাগে... দেখো... সময়ের সাথে সাথে তুমিও সব ভুলে যাবা... সব ঠিক হয়ে যাবে... সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে... আমার কথা শোন তুমি... প্লিজ...
: আমি সব চিন্তা চেতনার ঊর্দ্ধে চলে এসেছি রে ময়না। আমার আর ফেরার পথ নেই। আমাকে ক্ষমা কোরো তুমি।

এর মধ্যে গাড়িটি গাজীপুর গজারী বনের ভেতরে ঢুকে যাওয়া একটি পথে চলতে শুরু করেছে। প্রায় ২০ মিনিট চলার পর থামল গাড়িটি।

: শুনতে পাচ্ছো বাবাই... চারদিক কত নিরব। শুধু কিছুক্ষণ পরপর পাখির ডাক আর শুকনো পাতায় বাতাসের শব্দ। নিরবতারও একটা আওয়াজ আছে... কান পাতো বাবাই... শুনতে পাবা...
: প্লিজ সায়েম। আমার কথা শোন। অনেক পাগলামি হইসে, চল এখন ফিরে যাই। ঢাকায় ফিরে আমরা ব্যপারটা নিয়ে কথা বলব। কথা দিচ্ছি আমি, কথা বলব আমরা।
: হা হা হা... মনে আছে তোমার বাবাই... একবার কথা বলার জন্য তোমার সাথে কি করতে হত... মিনিমাম তো ১০০ বার ফোন দিতে হত। আর রিসিভ করে তুমি কি বলতা... এই যে তুমি সারাদিন এতবার ফোন দিলা, তুমি জান, আমার একটা বারও এই ফিলিংস আসে নি যে আমি ফোনটা রিসিভ করি। চিটাগাং গিয়েছি আমি বাবাই... খুঁজে খুঁজে তোমার বাসা বের করেছি... ছবি তুলে তোমাকে পাঠিয়েছি... তারপর তুমি কথা বলেছ। আর এখন এত সহজে রাজি হয়ে যাচ্ছ কথা বলার জন্য!!
: বাজে কথা বন্ধ কর। প্লিজ, চল ফেরত যাই।
: পৃথিবীটা কত সুন্দর, তাই না? অনেক দিন বাঁচার ইচ্ছা ছিল আমার... জান... আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ পাওয়া হচ্ছো তুমি। তোমার মত একজনকে আমি আমার পাশে পেয়েছি... এটা আমার সাত জনমের ভাগ্য।
: প্লিজ, চুপ কর তুমি।
: তোমার হাতটা একটু দিবে আমার হাতে।
: নাও। কিন্তু প্লিজ, পাগলামি বন্ধ কর। আমার ভাল লাগতেসে না... চল ফিরে যাই।

বাম হাত দিয়ে তার ডান হাতটা ধরল সায়েম।

: বাবাই... শোন... আমি একটা মিথ্যে কথা বলেছি। কিন্তু এর মানে এই না যে আমার ভালবাসা মিথ্যে। আমার চোখের দিকে তাকাও বাবাই... আমি সত্যি তোমাকে ভালবাসি।

ভোতা একটি আওয়াজ। ডান হাত দিয়ে পকেট থেকে সাইল্যান্সার লাগানো রিভালভারটি বের করে নিজের পেটে গুলি করেছে সায়েম। এতটা নিরিবে নিঃশব্দে কাজটা হল যে বনের পাখিগুলোও কিচ্ছু টের পেল না। শুধু ধীরে ধীরে ধরে থাকা বাবাই এর হাতটা লাল হয়ে উঠল। সেও টের পেল যখন সায়েম আস্তে করে পড়ে গেল মাটিতে।

: এটা কি করলে তুমি সায়েম। না... (চিৎকার করে উঠল বাবাই)
: পালাও বাবাই... এটা চিৎকার করার সময় না। যাও, চলে যাও। যেভাবে বলেছি সেভাবে চলে যাও। মনে রেখ বাবাই... আমি তোমাকে অনেক ভালবাসতাম। অনেক অনেক।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ ভোর ৫:১৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×