somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোশাক শিল্পের অস্থিরতা নিরসনে

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ও বৃহত্তর খাত পোশাক শিল্প।এ শিল্প বাংলাদেশের রফতানিরও প্রধান খাত।রপ্তানি আয়ের শতকরা ৭৫ ভাগ আসে তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে।বাংলাদেশে সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত খাতও এটাই।শ্রমঘন এ শিল্পে প্রায় এক কোটি শ্রমিক কাজ করে।বলা যায় দেশের এক কোটির অধিক পরিবার এ শিল্পের সাথে জড়িত।সর্বোপরি দেশের কয়েক কোটি মানুষের জীবনধারণ এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল।এত গুরুত্বপূর্ণ পোশাক শিল্প ক্ষেত্রেই চলছে আজ চরম অস্থিরতা।

স্থানীয় আইন প্রণয়নকারী,প্রশাসক ও পোশাক শিল্পের মালিকদের মাঝে সমঝোতা ও সহযোগিতার অভাবে সরকারের নির্ধারিত অস্থিরতা ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষে পোশাক শিল্পে বিদ্যমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।এই কমিটির ভূমিকা পালনে তাদের অভ্যন্তরীণ কিছু অব্যবস্থাপনাও রয়েছে।যেমন তাদের প্রতি মাসেই পোশাক শিল্প নিয়ে আলোচনা বৈঠক করার কথা ছিল,যা কেবল মাত্র দেখা যায় যখন কোন অস্থিরতা দেখা যায় তখনই।এই কারণেও শ্রমিকরা ও কর্মসংস্থানগুলো নিজেরাই নিজেদের কমিটি তৈরি করেছে।২০১০ সালে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের সমস্যা নিরসনের জন্য আরও পাঁচটি ভিন্ন অঞ্চলে পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় এই ব্যবস্থাপনা কমিটি পরিচালিত হয় দেশের ‘শ্রম ও কর্মসংস্থান’ মন্ত্রি মুন্নুজান সুফিয়ান এর দ্বারা,যেখানে স্থানীয় আইন প্রণয়নকারীরা সেই কমিটিগুলোর প্রধান হিসেবে যোগ দেয়।এই পদ্ধতিটি এমন সব আঞ্চলিক কমিটিগুলোর দ্বারা ধ্বংস হয়ে যায়,যেগুলো জেলার ডেপুটি কমিশনারের মাধ্যমে পরিচালিত হতো এবং স্থানীয় আইন প্রণয়নকারীরা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতো।এই পদ্ধতিকে পরে বদলে ফেলা হয় অস্থিরতাকে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে।
এখন শুধু স্থানীয় আইন প্রণয়নকারীরাই এই কমিটির অংশ হননি,বরং স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা,কোম্পানির মালিক ও কোম্পানির শ্রমিকরাও এই কমিটির অংশ।যেখানে প্রতি মাসেই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল,আইন প্রণয়নকারীদের ব্যস্ততার জন্য তা আর তেমন গুরুত্বের সাথে হয়না; শুধুমাত্র তখনই বৈঠক হয় যখন কোন অস্থিরতা দেখা দেয়।কেউ কেউ এটাকে অস্বীকার করেছেন এই বলে যে শুধুমাত্র আইন প্রণেতাদের কারণেই এটা হচ্ছে না বরং অন্যেরা তাদের সময়ের সামঞ্জস্য বিধান করতে না পারায় এটা হচ্ছে।তৈরি পোশাক শিল্পে যখনই অস্থিরতা তৈরি হয়, তখনই মালিকপক্ষ আর সরকার পক্ষ অদৃশ্য কোন শক্তির কাঁধে দোষ চাপিয়ে বাঁচেন।

যাইহোক এই বিষয়টিকে সহজেই সমাধান করা যায় যদি পোশাক শিল্পের মালিকরা ও বিজিএমইএ এর কর্মকর্তাগণ এই কমিটিকে নিয়মিত বৈঠকে বসার জন্য সামান্য তাগিদ দেয়।পোশাক শিল্পের অস্থিরতা দূর করতে হলে শুধু মালিক ও শ্রমিকপক্ষই নয়,বরং সরকারকে অতি দ্রুত বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বোপরি দেশের পোশাক শিল্পকে রক্ষা করতে হলে সরকারকেই বিশেষ নজর দিতে হবে।সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে সকল পক্ষকে সাথে নিয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।সরকারের অবশ্যই উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে তৈরি পোশাক শিল্প খাতে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী, অভ্যন্তরীণ কুচক্রী মহল কিংবা স্বাভাবিক শ্রমিক অসন্তোষ যাই হোক না কেন সমাধান করা হোক।সরকারকে মনে রাখতে হবে এই খাতটি একবার ধ্বংস হয়ে গেল যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার্জন থেমে যাবে, তেমনি লাখ লাখ বেকার মানুষকে হতে হবে ঘর ছাড়া।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×