somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিণত ভালবাসা

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভার্সিটিতে প্রথম ক্লাশ ছিল সেদিন।একটু পরিপাটি হয়েই ক্লাশে এসেছিলাম। গ্রাম থেকে এসেছি বলে কেউ আবার গাউয়া না বলে! এই ভয়েই কেটে যাচ্ছিল সময়।
একটু বাদেই ম্যাডাম ক্লাশে আসলো! কিন্তু রুটিনে তো স্পস্ট লেখা ছিল এক স্যার নিবেন আমাদের প্রথম ক্লাশ। আর ম্যাডামের বয়সই বা এতো কম কেন! দেখে তো মনে হয় আমাদের বয়সী। ভুল ভাঙ্গল যখন দেখি ম্যাডাম আমার ঠিক পাশের সিটেই এসে বসল!বসেই সুন্দর একটা হাসি দিল! বুঝলাম এ আর যাই হোক ম্যাডাম না।
মেয়েটির নাম নীলা।নামের সাথে মিলিয়েই হয়ত নীল একটা জামা পড়েছিল, সাথে ছিল ধবধবে সাদা ওড়না।দেখতে আহামরি সুন্দরী না হলেও চেহারার মাঝে কিছু একটা ছিল ওইদিন।প্রথম দিনের সেই হাসিতেই কি ছিল কে জানে? আমি শুধু ভাবতেই থাকি নীলার কথা। সারাদিন সারারাত অপেক্ষা করতে থাকি আবার কখন সেই হাসি দেখব! মোটকথা আমি মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেছি।অথচ দেখেছি মাত্র একদিন। ভালবাসা বুঝি এমনই হয়!
যতই নীলাকে দেখতে থাকি ততই আমি ওর প্রতি দুর্বল হতে থাকি। জানি না ও কখনো আমার ভাল্বাসার দাম দিবে কিনা! মাঝে মাঝে এক আধটু কথা হত আমাদের মাঝে, সবটুকুই লেখাপড়া বিষয়ে।ততদিনে আমাদের মাঝে খুব ভাল একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে। একদিন দেখি নীলা অন্য একটি ছেলের সাথে কথা বলছে। দেখেই আমার খারাপ লাগতে শুরু করল।ক্লাশ শেষে নীলাকে ডেকে অন্য কোন ছেলের সাথে কথা না বলতে অনুরোধ করি, মানা করার অধিকার আমার নেই। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল ওর উত্তর ছিল- আচ্ছা, ঠিক আছে।
পরের দিন নীলা আমাকে নির্জনে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেশ করে-আকাশ, তুমি কি আমাকে ভালবাসো?
-হ্যা
-তাহলে বল নাই কেন এতদিন?
-কোথায় তুমি? আর কোথায় আমি! আমাদের ভালবাসা কখনোই আলোর মুখ দেখবে না। তাই আমি বন্ধু হয়েই থাকতে চেয়েছিলাম! বন্ধুত্ব হয় সারাজীবন থাকবে!
-কিন্তু আমিও যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি!
বলেই আমাকে জরিয়ে ধরল সারা ক্যাম্পাসের সবার সামনেই।আমিও এতটা পাষন্ড ছিলাম না যে নীলার মত মেয়ের ভালবাসাকে উপেক্ষা করব! দীর্ঘ ৪ টি বছর নীলা আমাকে একরকম জড়িয়েই রেখেছিল।আমার জীবনের প্রতিটা শাখায় শাখায় মিশে গিয়েছিল মেয়েটা।
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×