ভাই জান... আপনার কাছে পুরাণ কোন শিতের জামা থাকলে আমারে একটা জামা দেন। চেরা হলেও কোন সমস্যা নাই। রাইতে ঠাণ্ডার লাইগা ঘুমাইতে পারিনা। দয়া কইরা একটা শিতের জামা দেন ভাই জান।
রাস্তার ফুট-ফাট ধরে গন্তব্য হীন পথে হাঁটছে ইয়ারিয়ান। এইভাবে মাঝে মাঝেই বের হয় সে। একা একা গন্তব্য হীন ভাবে নীরব কোন পথের পথিক হয়ে হাটতে অনেকটাই ভাল লাগে তার, আবার অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধও। তাই মাঝে মাঝে নিজেকে মুক্ত করে এদিক ওদিক ছুটে বেরাই। কখনো হাটতে হাটতে চলে যাই ষোল-শহর রেলওয়ে স্টেশন, আবার কখনো বা শাটল ট্রেনের খামরাই চেপে ছুটে যাই ভার্সিটির চত্বরে। ঘুরে বেরাই ভার্সিটির ক্যাম্পাস। কখনো বা হাটতে হাটতে চলে যাই সি.আর.ভি এর চত্বরে। সারাদিন ঘুরা ফেরা করে সূর্য ডুবন্ত সন্ধাই, আধো আধো আলোই বসে পরে কোন এক টং দোকানে। গরম চা এর কাপে চুমুক লাগাতে।
গতকাল ঠিক এমনি ভাবে ঘুরা ফেরা শেষে সি.আর.ভি চত্বরের ছোট্ট একটি টি এস্টল থেকে এক কাপ গরম চা পান করে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে হাটা শুরু করলো ইয়ারিয়ান। কিছুদূর হাটতেই পেছন থেকে একটা ছোট বাচ্চার আওয়াজ শুনতে পায়। ছেলেটিকে দেখতে পেছন দিকে ফিরতেই ইয়ারিয়ানের হাত দরে আবার সেই একই কথা বলতে থাকে ছেলেটি... “ভাই জান... আপনার কাছে পুরাণ কোন শিতের জামা থাকলে আমারে একটা জামা দেন। চেরা হলেও কোন সমস্যা নাই। রাইতে ঠাণ্ডার লাইগা ঘুমাইতে পারিনা। দয়া কইরা একটা শিতের জামা দেন ভাই জান।“
ছেলেটিকে দেখে অনেকটা অবাক-ই হয় ইয়ারিয়ান। বয়স আনুমানিক ৭-৮বছর হবে। পরনে আছে শুধু একটা শর্ট পেন্ট। তাও আবার অনেকটাই চেরা। সারা গাইয়ে এ চারা আর কিছুই নেই। অনেকটা আধার হয়ে এসেছে তাই তার চেহারাটা ভাল ভাবে বুঝা যাচ্ছেনা ইয়ারিয়ান ভাবতে থাকে এত ছোট একটি ছেলে এই ঠাণ্ডার মাঝে কি ভাবে থাকে। এত গুলো দিন কিভাবে পার করেছে? তার কি কেও-ই নেই। আবারো সেই ছেলেটির সেই একই কথাই ইয়ারিনের হুস ফিরে।
ইয়ারিয়ান> তোমার নাম কি বাবু?
-- রাকিব।
ইয়ারিয়ান> কি কর তুমি?
রাকিব> রাস্তাই সারাদিন কাগজ খুঁজি। আর সেগুলো বিক্রি কইরা যা পাই তা দিয়া খাওন খাই।
ইয়ারিয়ান> এখানে তোমার কে কে আছে? কোঁতাই তাকো? আর সারাদিন কাগজ কুরিয়ে পেট ভরে খেতে পার?
রাকিব> কেও নাই। ঐযে ওইখানে একখান রেল স্টেশন আছেনা? রাতে ওইহানেই ঘুমাই। মাঝে মইদ্ধে দুই বেলা খাইতে পারি আর না অইলে এক বেলা খাই আর এক বেলা উপোষ থাকতে অই। কোন দিন পেট ভইরা খাইতে পারিনা।
রাকিবের কথা শুনতে শুনতে ইয়ারিয়ানের অজান্তেই দু-চোখের কোণে দু-ফোটা অশ্রু কণা কখন যে এসে গ্রাস করলো সে বুঝতেই পারলনা। কথা বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলল সে। আর কিছু বলতেই পারছেনা সে। কিই বা বলবে সে আর? স্বাধীন দেশের মানুষ যে এতটাই স্বাধীন সেটা সে আগে কখনো কল্পনাও করেনি। আর আজ সেটা তাকে বাস্তবতাই দেখতে হচ্ছে।
নিজের শরিল থেকে ব্লেজারটা খুলে অনেকটা যত্নে ছেলেটার গাইয়ে পরিয়ে দিল ইয়ারিয়ান। ব্লেজারটা কিনেছে বেশিদিন হয়নি। সম্পূর্ণ সানমার ঘুরা-ঘুরি করে অনেক পছন্দ করে ব্লেজারটি কিনেছিল ইয়ারিয়ান। কিন্তু কি আর করার আছে তার? তার নিজের গাইয়ে তো এখনো একটা কুটি আছে, তার বেতর একটা ফুল হাতা শার্ট আছে, আবার তার বেতরেও একটা টি শার্ট আছে। কিন্তু ছেলেটার সারা গাইয়ে তো একটা চেরা শর্ট পেন্ট চারা আর কিছুই নেই। এই মুহূর্তে তার চেয়ে রাকিবেরই এই ব্লেজারটা খুব বেশিই প্রয়োজন। তাই...আর কি করার? তারপর পেন্টের সব পকেট হাতিয়ে অনেক খুঁজা খুঁজি করে হাজার খানেক টাকা পেল। সেগুলো থেকে সে তার নিজের যাওয়ার গারি বাড়া টুকু রেখে বাকি সব রাকিবের হাতে তুলে দিলও। আর বলল... এই টাকা গুলো দিয়ে তুমি পেট ভরে খেয়েনিও।
এই বলে রাকিবের মাথাই হাত বুলিয়ে দিয়ে অনেকটা মন খারাপের সাথে উদাষ মণে সেইকান থেকে হাটতে হাটতেই বাসাই ফিরে আসল ইয়ারিয়ান। গারি বাড়ার জন্নে রাখা বাকি টাকা গুলোও পরে রইল তার পকেটের এক কোনে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

