somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইয়ারিয়ান ও একটি শীতার্ত ছেলে।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাই জান... আপনার কাছে পুরাণ কোন শিতের জামা থাকলে আমারে একটা জামা দেন। চেরা হলেও কোন সমস্যা নাই। রাইতে ঠাণ্ডার লাইগা ঘুমাইতে পারিনা। দয়া কইরা একটা শিতের জামা দেন ভাই জান।

রাস্তার ফুট-ফাট ধরে গন্তব্য হীন পথে হাঁটছে ইয়ারিয়ান। এইভাবে মাঝে মাঝেই বের হয় সে। একা একা গন্তব্য হীন ভাবে নীরব কোন পথের পথিক হয়ে হাটতে অনেকটাই ভাল লাগে তার, আবার অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধও। তাই মাঝে মাঝে নিজেকে মুক্ত করে এদিক ওদিক ছুটে বেরাই। কখনো হাটতে হাটতে চলে যাই ষোল-শহর রেলওয়ে স্টেশন, আবার কখনো বা শাটল ট্রেনের খামরাই চেপে ছুটে যাই ভার্সিটির চত্বরে। ঘুরে বেরাই ভার্সিটির ক্যাম্পাস। কখনো বা হাটতে হাটতে চলে যাই সি.আর.ভি এর চত্বরে। সারাদিন ঘুরা ফেরা করে সূর্য ডুবন্ত সন্ধাই, আধো আধো আলোই বসে পরে কোন এক টং দোকানে। গরম চা এর কাপে চুমুক লাগাতে।

গতকাল ঠিক এমনি ভাবে ঘুরা ফেরা শেষে সি.আর.ভি চত্বরের ছোট্ট একটি টি এস্টল থেকে এক কাপ গরম চা পান করে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে হাটা শুরু করলো ইয়ারিয়ান। কিছুদূর হাটতেই পেছন থেকে একটা ছোট বাচ্চার আওয়াজ শুনতে পায়। ছেলেটিকে দেখতে পেছন দিকে ফিরতেই ইয়ারিয়ানের হাত দরে আবার সেই একই কথা বলতে থাকে ছেলেটি... “ভাই জান... আপনার কাছে পুরাণ কোন শিতের জামা থাকলে আমারে একটা জামা দেন। চেরা হলেও কোন সমস্যা নাই। রাইতে ঠাণ্ডার লাইগা ঘুমাইতে পারিনা। দয়া কইরা একটা শিতের জামা দেন ভাই জান।“

ছেলেটিকে দেখে অনেকটা অবাক-ই হয় ইয়ারিয়ান। বয়স আনুমানিক ৭-৮বছর হবে। পরনে আছে শুধু একটা শর্ট পেন্ট। তাও আবার অনেকটাই চেরা। সারা গাইয়ে এ চারা আর কিছুই নেই। অনেকটা আধার হয়ে এসেছে তাই তার চেহারাটা ভাল ভাবে বুঝা যাচ্ছেনা ইয়ারিয়ান ভাবতে থাকে এত ছোট একটি ছেলে এই ঠাণ্ডার মাঝে কি ভাবে থাকে। এত গুলো দিন কিভাবে পার করেছে? তার কি কেও-ই নেই। আবারো সেই ছেলেটির সেই একই কথাই ইয়ারিনের হুস ফিরে।

ইয়ারিয়ান> তোমার নাম কি বাবু?

-- রাকিব।

ইয়ারিয়ান> কি কর তুমি?

রাকিব> রাস্তাই সারাদিন কাগজ খুঁজি। আর সেগুলো বিক্রি কইরা যা পাই তা দিয়া খাওন খাই।

ইয়ারিয়ান> এখানে তোমার কে কে আছে? কোঁতাই তাকো? আর সারাদিন কাগজ কুরিয়ে পেট ভরে খেতে পার?

রাকিব> কেও নাই। ঐযে ওইখানে একখান রেল স্টেশন আছেনা? রাতে ওইহানেই ঘুমাই। মাঝে মইদ্ধে দুই বেলা খাইতে পারি আর না অইলে এক বেলা খাই আর এক বেলা উপোষ থাকতে অই। কোন দিন পেট ভইরা খাইতে পারিনা।

রাকিবের কথা শুনতে শুনতে ইয়ারিয়ানের অজান্তেই দু-চোখের কোণে দু-ফোটা অশ্রু কণা কখন যে এসে গ্রাস করলো সে বুঝতেই পারলনা। কথা বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলল সে। আর কিছু বলতেই পারছেনা সে। কিই বা বলবে সে আর? স্বাধীন দেশের মানুষ যে এতটাই স্বাধীন সেটা সে আগে কখনো কল্পনাও করেনি। আর আজ সেটা তাকে বাস্তবতাই দেখতে হচ্ছে।

নিজের শরিল থেকে ব্লেজারটা খুলে অনেকটা যত্নে ছেলেটার গাইয়ে পরিয়ে দিল ইয়ারিয়ান। ব্লেজারটা কিনেছে বেশিদিন হয়নি। সম্পূর্ণ সানমার ঘুরা-ঘুরি করে অনেক পছন্দ করে ব্লেজারটি কিনেছিল ইয়ারিয়ান। কিন্তু কি আর করার আছে তার? তার নিজের গাইয়ে তো এখনো একটা কুটি আছে, তার বেতর একটা ফুল হাতা শার্ট আছে, আবার তার বেতরেও একটা টি শার্ট আছে। কিন্তু ছেলেটার সারা গাইয়ে তো একটা চেরা শর্ট পেন্ট চারা আর কিছুই নেই। এই মুহূর্তে তার চেয়ে রাকিবেরই এই ব্লেজারটা খুব বেশিই প্রয়োজন। তাই...আর কি করার? তারপর পেন্টের সব পকেট হাতিয়ে অনেক খুঁজা খুঁজি করে হাজার খানেক টাকা পেল। সেগুলো থেকে সে তার নিজের যাওয়ার গারি বাড়া টুকু রেখে বাকি সব রাকিবের হাতে তুলে দিলও। আর বলল... এই টাকা গুলো দিয়ে তুমি পেট ভরে খেয়েনিও।

এই বলে রাকিবের মাথাই হাত বুলিয়ে দিয়ে অনেকটা মন খারাপের সাথে উদাষ মণে সেইকান থেকে হাটতে হাটতেই বাসাই ফিরে আসল ইয়ারিয়ান। গারি বাড়ার জন্নে রাখা বাকি টাকা গুলোও পরে রইল তার পকেটের এক কোনে। :(
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×