somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শান্তি বর্ষীত হোক

১২ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব সম্ভবত বাট্টাড রাসেলের 'টাট্টায়' পড়েছিলাম যে 'মেয়েরা শুনে অন্যের কানে' কথাটার শানে নজুল আবারও পেলাম রাগ ইমনের লেখায়। নিজে বুঝতে ব্যর্থ হইয়া বান্ধবী কতর্ৃক প্ররোচিত...। দ্যাট ইজ, বান্ধবী বললেন, ব্লগকে হালকা ভাবে নেয়া উচিত নয়। যুক্তিযুক্ত। আপনিও তাই করলেন। সিরিয়াসলি নিলেন। (সঙ্গত কারণে জেন্ডার ইসু্যাতে বিষয়টা চলে এসেছে। জানি, আপনি এটাকে Gender discrimination বলবেন না। আপনার লেখায় মনে হলো আপনি Proactive । রাগ ইমন। আসলেই আপনার রাগী মন। বাপস্ এত্তো রেগেছেন। জানেন তো [গাঢ়]রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন[/গাঢ়]। আর হেরে গেলে মানুষ, যা ইচ্ছে করতে পারে, বলতে পারে। যেমনটা আপনি করেছেন আপনার লেখায়। কারণ আমার মনে হয় 'বন্ধুর বন্ধু' পোস্টটায় আপনার লেখার স্বভাব বৈশিষ্ট মার খেয়েছে। আর তাই আমার মনে হয় আপনারও উচিত জীবনকে আরো সহজভাবে নেয়ার। আমার একটা বনেদী বদ অভ্যাস আছে। সেটা হলো অন্যের ভাল কোন গুণ স্বীকার করতে আমি কার্পণ্য করি না। সে আমার পছন্দের কিংবা অপছন্দের হোক। এই যেমন আপনার লেখা ভাল লেগেছে তাই আমার এ সরল প্রকাশ। কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি সহজ সরল মন্তব্য হজম করতে বদ হজমের পরিচয় দিয়েছেন। একটা গল্প বলি, পুরনো গল্প, শুনেছেনও নিশ্চয়? [গাঢ়]এক লোক প্রতিদিন এক বাড়িতে ঘি দিত। তো একবার হল কি? ঘি খেয়ে বাড়ীর সবার পেট খারাপ হয়ে গেল। যথারীতি সবাই মিলে ধরলো সেই ঘি ওয়ালাকে। জিজ্ঞেস করা হলো ব্যাট তুই এতদিন ধরে ঘি দিয়ে আসছিস তা খেয়ে আমাদের কোন সমস্যা হয়নি। কিন্তু গতকালের ঘি খেয়ে আমাদের পেট খারাপ হল কেন? নিশ্চয়ই ভেজাল ঘি দিয়েছিস। ঘি ওয়ালা কাচুমাচু হয়ে বলল, না স্যার, গতকাল আমি একেবারে খাটি ঘি দিয়েছি। বাড়ি ওয়ালার প্রশ্ন, তাহলে পেট খারাপ হলো কেন? ঘি ওয়ালা আমতা আমতা করে বলল, সত্যি কথা বলি স্যার, আমি এতদিন আপনাদের ভেজাল ঘি দিয়ে আসছিলাম। গতকালই প্রথম...।[/গাঢ়] আমি অরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ। বুদ্ধি-সুদ্ধি কম। তাই বুঝিও কম। যা বুঝি নিজের চেষ্টায় বুঝি। বন্ধু, কিংবা বান্ধবী দ্বারা কোন কিছু বুঝতে চেষ্টা করি না ধঃঃ ষবধংঃ বিরত থাকি। কেননা আমি বিশ্বাস করি, তাতে আমার নিজস্বতা নষ্ট হবে। হ্যাঁ মানছি আপনার ব্লগ আপনার কাছে নিজের বাড়ির মতো। যা ইচ্ছে তাই করবেন, তাই বলে তো ঘরকে আর হেরেমখানা বানানো যাবে না। ঘরেরও একটা বঃযরপং আছে। নিজের ব্যাপারে ভালো ধারণা থাকা দরকার। তাই বলে উচ্চ ধারণা করা ঠিক নয়। সেটা বিপদজনক। আপনার নিজের ব্যাপারে ধারণাটা মনে হচ্ছে বিপদজনক পর্যায়ে চলে এসেছে। একটু সাবধানী হোন। কারণ ব্যাপারটা [গাঢ়]'খালি কলসি বাজে বেশি টাইপ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এমন যদি চলতে থাকে তবে আপনি অংকারী হয়ে যাবেন। জানেন তো 'অহংকার পতন ডেকে আনে।'[/গাঢ়] আমি জানি আমার এমন ধারণার ব্যাপারে আপনি ব্যাখ্যা দিয়ে বসবেন 'আমি আপনার লেখা বুঝিনি'। কিন্তু আমার মনে হয় যে কেউ আপনার সেই পোস্ট পড়লে আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন না। এমনকি আপনিও। যদি ঠান্ডা মাথায় নিরপে দৃষ্টি নিয়ে নিজের লেখাটা পাঠ করেন। আশা করি বিষয়টা স্রেফ বিরোধিতার বিষয় হিসেবে নেবেন না। বন্ধুর বন্ধুর পোস্ট... এই শিরোনামে আপনি যে পোস্টটা দিয়েছেন তাতে আরিফ জেবতিক, হাসান মোরশেদ ও নজমুল আলবাব ভাইয়ের নাম অপ্রাসঙ্গিক ভাবে টেনে আনায় বিরক্ত হয়েছি। তাদের সাথে আমার কোন টাইপ সম্পর্ক সেটা যেমন আমি কোথাও বলেছি বলে মনে করতে পারছি না তেমনি আমাকে বন্ধু হিসেবে নিতেই হবে এমন আবদার নিশ্চয়ই আপনার কাছে করিনি। বন্ধু কিংবা বন্ধুতা কনসেপ্টগুলো আসলেই বিশাল এবং এ্যাবস্ট্রাকট চাইলেই অপারেশনালাইজ করা যায়না। ইমপেরিকাল লেভেলে কেবল এগুলোকে অনুভব করা যায়। আপনি (বন্ধুর বন্ধু, বন্ধু বলা যায় কিনা) ইত্যাদি লিখে আসলে বন্ধু এবং বন্ধুতার ডেফিনেশনকে লজ্জা দিয়েছেন না নিজেই লজ্জা পেয়েছেন সেটা ঠাহর করতে পারছি না। তবে আমার মনে হয় এখানে আপনি কিঞ্চিত স্থুল চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন। এই তিন ভদ্রলোকের নাম ব্যবহার করে বিষয়টার মধ্যে তাদের জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন বলে মনে হয়। আমার এই ছোট্ট জীবনের মেঠোপথে চলতে চলতে অনেক অনেক প্রিয়, অপ্রিয়, শুভাকাঙ্খী, অশুভাকাঙ্খী, বন্ধু, অবন্ধু পেয়েছি এবং পাচ্ছি। এর মধ্যে অনেকে বন্ধুর মতো, কিন্তু বন্ধু না। তাদের কখনও 'বন্ধু নয়' কথাটি বলিনি। কারণ আমি (আপনিও) এমন কিছু হয়ে যাইনি যে আমার বন্ধু হওয়ায় তার সাত পুরুষ ধন্য হয়ে যাবে। আমি আসলে আপনাকে রাগানোর জন্য কিংবা আপনার মতো বিখ্যাত (মনে মনে) ব্যক্তির বিরুদ্ধে পোস্ট করে বিখ্যাত হওয়ার খায়েশেও পোস্ট করিনি। ঐ যে বললাম লেখা ভালো লেগেছিলো তাই ধরেই নিয়েছিলাম আপনি মানুষটাও সে মাপের। আর তাই মিথিলাদের মতো সস্তা জনপ্রিয়তার পন্থা নেয়ায় খারাপ লেগেছে তাই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছি। প্লিজ রাগটা এবার ঝেড়ে ফেলুন। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ৮:৫০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×