somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবীন্দ্রনাথ এর সাথে কাল্পনিক আড্ডায় একদিন [রম্য রচনা ]

০৩ রা আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ কিছুদিন ধরেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
সাথে আড্ডা হচ্ছে। সন্ধ্যায় পাড়ার চায়ের
দোকানে গিয়েই দেখি ঠাকুর বসে বসে
ঝিমাচ্ছেন । আমাকে দেখেই দাঁত মুখ
খিচিয়ে বলেন; এসেছো তবে? দাও, এক
কাপ চায়ের অর্ডার দাও! ঠাকুর দা' রঙ চায়
পান করেন। তার মতে রঙ চা মূলত চা। বাকি
সব গরম শরবত।
সেই যাই হোক, রবি ঠাকুর বললেন ; 'আজকে
কি জানতে চাও বলে ফেলো দেখি ?'
আমি মুখ হাসি হাসি করে বললাম; 'কবিতার
ব্যাপারে যদি একটু বলতেন, বড় ভাল
লাগতো'
ঠাকুর দা' চায়ে চুমুক দিলেন। বললেন;
'কবিতা ? সে তো এক রহস্যময়ী নারী! ধরা
যায় আবার যায় না বোঝা যায় আবার যায়
না'
আমি শুকনো মুখ করে বললাম 'দাদা কিছুই
বুঝলাম না! '
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থুঃ থুঃ করে একদলা ছেপ
ফেললেন। বললেন : 'তোর তো কবিতা
বোঝার যোগ্যতাই হয় নি,তুই আমার কথা
বুঝবি কি করে? দুই চার লাইন লিখলেই কি
কবি হওয়া যায়? যত্তসব অপসংস্কৃতি!'
আমি মুখ কালো করে মাহিম আর গোলাম এর
কথা ভাবতে লাগলাম। ওরা কবিতা ভাল
বোঝে। এখন থাকলে ঠাকুর দা' কে অবশ্যই
নাস্তানুবাদ করতে পারতাম।
আমার ভাবনায় মাঝে বাদ সাধলেন ঠাকুর।
বললেন ; 'কবিতা কারা লিখে জানিস?'
আমি বললাম ;'কবিরা লিখে।'
-'কারা পড়ে তা জানিস?'
-হ্যা। যারা কবিতা ভালবাসে, বোঝে বা
বোঝার চেষ্টা করে তারা পড়ে'
ঠাকুর এবার বিষ দৃষ্টি দিয়ে আমাকে একদম
ভস্ম করে দিলেন।
বললেন ; 'কবিতা লিখে পাগল ছাগল রা। আর
কবিতা পড়ে যারা তারা আরো পাগল!'
-'তবে কি আপনিও পাগল?' আমি প্রশ্ন
করলাম।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে
বললেন; বিল টা দিয়ে দেয়। আর শোন
'গীতাঞ্জলী'' টা পড়ে দেখিস। কাল এ
ব্যাপারে আলোচনা হবে'
আমি বললাম ; গীতাঞ্জলী নাহ বরং
'সোনারতরী' নিয়ে আলোচনা হোক'
রবি ঠাকুর বললেন ; এক পেকেট বিস্কুট
নিলাম। টাকা টা দিয়ে যা। যত্তসব
অপসংস্কৃতি , থুঃ থুঃ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:৫৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×