বেশ কিছুদিন ধরেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
সাথে আড্ডা হচ্ছে। সন্ধ্যায় পাড়ার চায়ের
দোকানে গিয়েই দেখি ঠাকুর বসে বসে
ঝিমাচ্ছেন । আমাকে দেখেই দাঁত মুখ
খিচিয়ে বলেন; এসেছো তবে? দাও, এক
কাপ চায়ের অর্ডার দাও! ঠাকুর দা' রঙ চায়
পান করেন। তার মতে রঙ চা মূলত চা। বাকি
সব গরম শরবত।
সেই যাই হোক, রবি ঠাকুর বললেন ; 'আজকে
কি জানতে চাও বলে ফেলো দেখি ?'
আমি মুখ হাসি হাসি করে বললাম; 'কবিতার
ব্যাপারে যদি একটু বলতেন, বড় ভাল
লাগতো'
ঠাকুর দা' চায়ে চুমুক দিলেন। বললেন;
'কবিতা ? সে তো এক রহস্যময়ী নারী! ধরা
যায় আবার যায় না বোঝা যায় আবার যায়
না'
আমি শুকনো মুখ করে বললাম 'দাদা কিছুই
বুঝলাম না! '
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থুঃ থুঃ করে একদলা ছেপ
ফেললেন। বললেন : 'তোর তো কবিতা
বোঝার যোগ্যতাই হয় নি,তুই আমার কথা
বুঝবি কি করে? দুই চার লাইন লিখলেই কি
কবি হওয়া যায়? যত্তসব অপসংস্কৃতি!'
আমি মুখ কালো করে মাহিম আর গোলাম এর
কথা ভাবতে লাগলাম। ওরা কবিতা ভাল
বোঝে। এখন থাকলে ঠাকুর দা' কে অবশ্যই
নাস্তানুবাদ করতে পারতাম।
আমার ভাবনায় মাঝে বাদ সাধলেন ঠাকুর।
বললেন ; 'কবিতা কারা লিখে জানিস?'
আমি বললাম ;'কবিরা লিখে।'
-'কারা পড়ে তা জানিস?'
-হ্যা। যারা কবিতা ভালবাসে, বোঝে বা
বোঝার চেষ্টা করে তারা পড়ে'
ঠাকুর এবার বিষ দৃষ্টি দিয়ে আমাকে একদম
ভস্ম করে দিলেন।
বললেন ; 'কবিতা লিখে পাগল ছাগল রা। আর
কবিতা পড়ে যারা তারা আরো পাগল!'
-'তবে কি আপনিও পাগল?' আমি প্রশ্ন
করলাম।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে
বললেন; বিল টা দিয়ে দেয়। আর শোন
'গীতাঞ্জলী'' টা পড়ে দেখিস। কাল এ
ব্যাপারে আলোচনা হবে'
আমি বললাম ; গীতাঞ্জলী নাহ বরং
'সোনারতরী' নিয়ে আলোচনা হোক'
রবি ঠাকুর বললেন ; এক পেকেট বিস্কুট
নিলাম। টাকা টা দিয়ে যা। যত্তসব
অপসংস্কৃতি , থুঃ থুঃ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




