somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাছের মানুষ...

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৪ই ফেব্রুয়ারী ২০০৮:
-------------------------
রাফি ও তারেক গতরাতেই ঠিক করে রেখেছে সকালে উঠে একসাথে ঘুরতে বের হবে। প্রেম করে না বলে কি তারা ১৪ই ফেব্রুয়ারী পালন করবেনা?
আগের দিনের পরিকল্পনা মতোই তারা ঘুরতে বের হলো।
তাদের প্রথম টার্গেট সানমার ওশান সিটি।
আজ তারা Couple দের টিজ করার প্ল্যান করেই মাঠে নেমেছে। অনেক্ষন ঘুরাঘুরির পর নাস্তার দোকানগুলোতে এসে নাস্তার অর্ডার দিতে গিয়েই চোখ পড়ে পাশের টেবিলে বসে থাকা শ্যামবর্ণের অসাধারন সুন্দর মেয়েটির দিকে। দুজনেই তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে।
এক্সকিউজ মি! এই ৫০০ টাকার নোটটা কি ভাংতি হবে?- মেয়েটার কথায় হঠাৎ সম্বিৎ ফিরে পেল, সাথে কিছুটা লজ্জাও পেল।
স্যরি বলেই তারেক মেয়েটাকে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। তার আগেই রাফি তার কাছে থাকা ভাংতি ৪৮৫ টাকা দিয়ে বললো "১৫ টাকা কম আছে"। মেয়েটা মিষ্টি হাসি দিয়ে থ্যাংকস বলেই হারিয়ে গেল। এরপর রাফি মনে মনে মেয়েটাকে অনেক খুঁজেছে। কিন্তু খুঁজে পায়নি।

২৪শে নভেম্বর ২০০৮:
-------------------------
ওয়াসা মোড়, বাম পাশে তাকাতেই তারেক দেখলো সেই মেয়েটি দাড়িয়ে আছে। তারেক ভেবে পাচ্ছেনা মেয়েটির সাথে কথা বলা ঠিক হবে কি না।
ভাবতে ভাবতেই মেয়েটি হাওয়া...!

৩১শে ডিসেম্বর ২০০৮:
-------------------------
রাফি আফমি প্লাজার হলমার্কে এসেছে তার বন্ধুদের জন্য ১লা জানুয়ারির উইশিং কার্ড কিনতে। গুনে গুনে ৪ টি কার্ড কিনেছে সে। শেষ কার্ডটি কিনতে গিয়েই সে স্থির হয়ে গেছে।
তার আর পা চলছে না। তার চোখের সামনেই এতদিন ধরে খুঁজতে থাকা মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে সে মেয়েটির নাম জানতে চাইবে। তার আগেই মেয়েটি রাফিকে বলে বসলো "এই কার্ডটির প্রাইজ কত"? সে কিছু না বলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেলসম্যান কে ডেকে দাম জানতে চাইলো।
এরপরও রাফি মেয়েটার কাছে তার পরিচয় দিয়ে মেয়েটির নাম ঠিকানা জেনে নিলো। এরপর ১লা জানুয়ারির উইশিং মেয়েটি, মানে ফারজানাকে দিয়েই শুরু করে।
এরপর প্রতিদিন কথা হয়, দিনও যায়।

১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০০৯:
-------------------------
রাফি আজ ফারজানার সাথে দেখা করবে। তারেকের খুব মন খারাপ। তারেক খুবই আত্মকেন্দ্রিক একটি ছেলে। সে একবারের জন্যও রাফিকে বুঝতে দেয়নি যে সে-ও ফারজানাকে পছন্দ করতো। আজকেও তারেক রাফিকে তার মনের অবস্থা বুঝতে দেয়নি। কেন দিবে? রাফি হচ্ছে তারেকের সব চেয়ে কাছের বন্ধু। প্রিয় বন্ধুটি আজ তার (তারেকের) প্রিয় মানুষটিকে ভালো লাগার কথা বলবে।
সারাদিন ঘুরাঘুরির পর রাফি বাসায় এসেছে। আজকে তারেক একাই ঘুরেছে।

১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০১১:
-------------------------
তারেকের সাথে রাফির দুরত্ব আস্তে আস্তে বাড়ছে। কিন্তু রাফির এতে খেয়াল নেই।
সে শুধু ফারজানাকে নিয়েই ব্যাস্ত। তারেক এখন আর রাফির সাথে থাকে না।
এই দুই বছরে ফারজানা আর রাফির সম্পর্কটা অনেকদূর এগিয়েছে।
আজকে আবারো দেখা হবে ফারজানার সাথে রাফির। একটু অন্যভাবে। গতকালই রাফি তার মা কে মেয়েটির কথা জানিয়েছে। মায়ের সম্মতিও পেয়েছে সে। এছাড়া ফারজানাও যেন কি একটা কথা বলবে বলেছিল রাফিকে।
সারাদিন ভালোভাবেই কেটেছে দুজনের। বিদায় নেবার আগে ফরজানা চিন্তা করছে, কিভাবে রাফিকে কথাটা বলা যায়।
অনেক ভেবেচিন্তে ফরজানা রাফিকে বলতে শুরু করেছে, দেখ রাফি তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি। মন দিয়ে শুনবে কিন্তু...।
আবার সে থেমে গেছে। হঠাৎ বললো, না থাক। আরেকদিন বলবো।

৯ই এপ্রিল ২০১১:
-------------------------
কাল রাফির জন্মদিন। সেলফোনটি হাতে নিয়ে ৯ টা থেকে সে বেলকনিতে গিয়ে বসে আছে ফারজানার এসএমএস এর অপেক্ষায়। ১১.৫৯ মিনিটে হঠাৎ রাফির ফোনে এসএমএস আসার শব্দ।
এসএমএস টা ওপেন করেই রাফি অজ্ঞান...
সকালে উঠেই সে নিজেকে আবিস্কার করলো হাসপাতালে। টানা ১৪ ঘণ্টা পর তার জ্ঞান ফিরেছে।
কোন কিছুই মনে করতে পারছেনা সে।
সে মনে করতে পারছেনা তার হাসপাতালে আসার কারণটিও।
হঠাৎ রাফির কান্না শুরু হয়ে গেছে।
তার জন্মদিনে ফারজানা তাকে এতবড় উপহার দেবে, কল্পনাও করেনি।
এভাবে একা করে দিলো মেয়েটা?
অনেক আগে থেকেই ফারজানার কিডনি নষ্ট ছিল। কিন্তু চিকিৎসা যতটুকু করা দরকার, তার খরচ বহনের সামর্থ্য ফারজানার বাবার ছিল না।

১৪ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪:
-------------------------
আজ অনেকদিন পর রাফি তারেকের সাথে আবারো বের হয়েছে। সারাদিন সে তারেককে নিয়েই ঘুরেছে। আর সেই সাথে ফারজানার সাথে সময় কাটানো প্রতিটা জায়গা দেখিয়েছে তারেককে।
আজ একটু তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পরেছে দুজন। সারাদিনের ঘুরাঘুরিতে একদমই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তারেক। অবশ্য রাফি ততোটা নয়। ঘুমাতেও তারেক আগেই গেছে।

১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪:
-------------------------
রাফি...
রাফি...
কিরে শালা, এতো ডাকি তবুও উঠছিস না কেন? Already ১১:৩০ ক্রস করেছে।
একি...
এতো ঘুমের ট্যাবলেট একসাথে...। রাফি... তুইও...।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×