হাহাকারভরে কলঙ্কে সাজিয়ে মুখ
কেঁদে বলে চাঁদ, আমি কেন একা ?
চোখের জল তার
জোছনার ফোটা হয়ে ঝরে
সবুজাভ কলাপাতার আঁচলে,
শান্ত দীঘির জলে, এই পৃথিবীর পরে!
সম্বুদ্ধ দূর নক্ষত্ররা মিটিমিটি হাসে,
শেয়ালের হরিসভা বসে সান্দ্র হিম ধান বনে ।
হয়ত ঝোলা কাঁধে হেঁটে যায় মুগ্ধ যুবক এক, জোছনায় পথ চিনে ।
কিংবা জানালার কাঁধে মাথা রেখে
ফুঁপিয়ে কাঁদে কোন বিরহী বধু—
চাঁদ তার কিছুই জানে না
শুধু তার হাহাকার জোছনায় ঝরে যায়
দূরে নক্ষত্ররা মিটিমিটি হাসে,
সে হাসির কুটিল শ্লেষ ঘুমন্ত পৃথিবীর কানে এসে পৌঁছয় না ।
অতঃপর সাহস করে এগিয়ে আসে
গোঁফ না ওঠা পাশের বাড়ির কিশোর ছেলেটি,
কাঁচুমাচু স্বরে বলে, রেণুদি, চলো আমরা পালিয়ে যাই,
এই ভূষণ্ডির গ্রাম ছেড়ে ওই দূর দূরের শহরে ।
ছোট্ট দু'হাত মুঠো করে বলে,
এ হাতে খাটব আমি বাবুদের মিলে,
বার্ধক্যের শেষ চুলটি পেকে গিয়ে
ঝরে যাওয়া পর্যন্ত আমি রবো
তোমার পাশে, তোমাকে ছুঁয়ে,
কেবলই তোমার হয়ে ।
কিছু মেঘ উড়ে যায় আচমকা
বাতাসে, ফের উঁকি দেয় চাঁদ,
থমথমে মুখে বলে, তুমি ছোট্ট তারা,
কী দিয়ে আগলাবে এই বহুগুণ বড়ো
চাঁদের শরীর ?
ছোট্ট তারাটি শরীর বোঝে না
সে শুধু ভালোবেসে ধেয়ে আসে চাঁদের পানে
যুগ যুগ ধরে রাখে তার প্রেমের
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হবে জেনেও,
দূরত্ব ঘোচে না কভু ।
রেণুদি'র সমাধির পাশে
প্রতি রাতে ছেলেটি এসে
রাখে কিছু বুনো ফুল,
নিরবে চোখ মুছে দাঁড়িয়ে রয়
অনন্তকাল ।
শুধু তার হাহাকার জোছনায় ঝরে যায়
দূরে নক্ষত্ররা মিটিমিটি হাসে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



