হৃদয়ে শুনি হিরোশিমা, নাগাসাকি, লিটল বয়, ফ্যাটম্যান;
শুনি সত্তুর বছরের অনুর্বরতার হাহাকার!
শুনি পথে প্রান্তরে হৃদয়ের দোহাই-
আমারে একেলা থুইয়া কেমনে বিদূরে আছ, পাষাণে হৃদয় বাঁধিয়া?
শুনি হৃদয়ে হৃদয় মেশাবার গল্প, আমি কেবল শুনে যাই!
কোন প্রাচীন মুখচোরা কবি এই ক্ষতি করে গেছে কে জানে
রেখে গেছে হৃদয় নামক অদৃশ্য এই বালাই!
মিছিলের শ্লোগানে, বেতারের গানে আর বইয়ের পাতায় পাতায় আমি হৃদয় দেখি রোজ,
প্রেয়সীর মুখেও শুনেছি বেশ কয়েকবার হৃদয়ের নাম!
একদিন হৃদয় খুঁজতে তার বুকে কান পেতেও দেখেছি,
বুঝতে পাইনি কিছুই, কেবল বুকের ঢিপঢিপ শব্দে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম!
দেহতত্ত্ব, পুরাণ, সাহিত্য, ইতিহাস- আমি সবখানেই ঘেঁটেছি
কেতাবে কলমে হৃদয়ের দৌরাত্ম্য খুব
বাস্তবে হৃদয় পাইনি, হৃদযন্ত্র পেয়েছি; সেখানে রক্তের ছলছলানি শুধু!
এ এক অদ্ভুত রাজত্ব হৃদয়ের, সবল-দুর্বল, মার্জিত- রুচিহীন সবার দাবীতেই হৃদয় আছে
বিধাতার মত সর্ব সর্বব্যাপী অথচ নিরাকার!
টাকায় বিকিয়ে যাওয়া নারীটিও সেদিন বলল, আমারও হৃদয় আছে!
যুদ্ধযাত্রার পূর্বে নেপোলিয়নও বুক চিতিয়ে বলেছিল, আমারও হৃদয় আছে!
ছেড়ে যাবার কথায় প্রেয়সীও বলেছে, তোমার নাহয় নেই, আমার তো হৃদয় আছে!
আবহকাল ধরে এই বিমূর্ত অলীক অবাস্তব হৃদয় ফক্কিকারে রাজত্ব করে চলেছে!
আমি এর বিহিত পাই না কোন, এক পরম বিস্ময় কেবল সাপের মত পেঁচানো প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে ফনা তুলে চেয়ে রয় স্মৃতির মলাটে,
হায় হৃদয়, তুমি পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবঞ্চনা!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




