somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জীয়ন আমাঞ্জা
আমি একটি পথ, আপনি চাইলে হেঁটে দেখতে পারেন....

সেলসম্যান এবং আমরা যারা ক্রেতা

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আপনি একটি মুদি দোকানে গেলে অকারণে জিনিসপাতি ঘেটে না কিনে চলে এসেছেন কখনও? না আসতে পেরেছেন?? না কখনও এমনটা চিন্তা করার সাহসও করেছেন???

ধরা যাক, আপনি একটা মুদি দোকানে গিয়ে দুইটা পণ্য চেয়ে হাতে নিলেন, দাম জানতে চাইলেন, কম কত রাখা যাবে সেটাও জানতে চাইলেন, পণ্যের মেয়াদ ইত্যাদিও খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করলেন, তারপর না নিয়ে চলে আসতে চাইলেন, তখন কী হবে?
ওই দোকানদার আপনার কলার ধরে বেঁধে রাখবে, নিশ্চিত না?? সাথে গালি ফ্রি!!

এবং এটুকু হুঁশ আপনারও আছে বলেই আপনি অকারণে কখনই ওখানে ঘাটতে যাবেন না, যখন আপনার কেনার ইচ্ছেই নেই বা কেনার সামর্থ্য নেই।

কিন্তু আপনি একটি সুপারশপে গিয়ে ঘাটাঘাটি করার বেলায় এই জিনিসটা চিন্তা করেন কখনও??? অনেকে তো এমনও আছে, পকেটে বাসায় যাবার গাড়িভাড়া নেই অথচ সে গাড়ির শোরুমে গিয়ে গাড়ির দরদাম করছে দিব্যি!

আপনার পায়ের ছেঁড়া জুতো দেখেও কিন্তু ওখানকার সেলসম্যানটা আপনাকে প্রথমে সুন্দর করে একটা সালাম দেয়, স্যার বলে সম্বোধন করে, আপনি কিনবেন না জেনেও আপনাকে যত্ন নিয়ে গাড়িটা দেখায়, আপনার হাজারটা বোকাটে প্রশ্নেরও এমন করে উত্তর দেয় যাতে আপনি বলদ হিসেবে লজ্জা না পান।

আপনি সেখানে সেলসম্যানকে অবজ্ঞা করে কথা বলেন, তুই তুকারিও করে বসেন, এবং সেলসম্যানটা তাও হাসিমুখে বলতে থাকে, আই এ্যাম সো স্যরি স্যার।

জাস্ট সী দ্য ডিফারেন্স!

আপনাকে কোন সেলসম্যানই এরপরেও মানা করবে না যে আপনি না কিনলে আসবেন না, বরং আপনি এলেই তারা খুশি হয়, আপনি না কেনেন, কোন সমস্যা নেই।

এতগুলো কথা বলার কারণ হল, আমি একটা জায়গায় সেলসম্যানদের খুব অবহেলিত হতে দেখি, সেটা হল, আপনি যখন কোন একটা কোম্পানির ব্র্যান্ডশপে প্রবেশ করেন, আপনাকে সুন্দর করে সালাম দেওয়া হয়, আপনি পণ্য কেনেন বা না কেনেন, সালামের উত্তরটা তো দিতে পারেন, আচ্ছা, উত্তরও দিতে না চান, একটু হেসে মাথা তো দোলাতে পারেন, আপনাকেই সম্মানিত করা হচ্ছে, সালামের জবাবে জমিদারের মত মাথা দোলালে আপনারই সম্মান বাড়ে। আপনি এটুকু সাড়া অন্তত দেবেন, প্লিজ। অনেক জায়গাতেই দেখেছি, একজন ভিজিটর ঢোকার পরে সালাম বা সম্বোধনটাকে এমনভাবে ইগনোর করে যেন খুব নোংরা কেউ তাকে ছুঁতে আসছে, সে ফিরেও তাকায় না ওদিকে!

কী অদ্ভুত না!

আমি ছাত্রজীবনে কখনও কোন শোরুমেই পণ্য দেখতে যাইনি, কারণ, আমি জানি আমার টাকা নেই, যদি দোকানদার কখনও বলে বসে, না কিনলে আসছেন কেন, আমি খুব লজ্জা পাব- এটা একটা সিম্পল বোধ। এখন চাকরি করি, টাকা আছে, কেনার সামর্থ্য আছে, এখন শোরুমে যাই, কিনি, এবং না কেনার মন থাকলে ভেতরে ঢোকামাত্রই কেউ এগিয়ে এলে আগেই হেসে বলে দেই, ভাই, কষ্ট করতে হবে না, আমি এখন কিনব না, আপনি রিল্যাক্স থাকেন, আমি নিজের মত করে দেখে নিচ্ছি।
আমি যেহেতু কিনব না, লোকটাকে আমি কেন অযথা খাটাব? সে আরেকটা কাস্টমার ডীল করবে সেখানে আমি অযথা কেন ডিস্টার্ব করব??

এটারে অন্তত ভোক্তা অধিকার বলে না। মুদি দোকানদার অবজ্ঞা করে ফিরিয়ে দিলে সেখানে আমাদের ভোক্তা অধিকার চেতনা কাজ করে না, কারণ, সে সেলসম্যান না, সে ব্যবসায়ী, ভোক্তা অধিকার কেবল নিরীহ সেলসম্যানের কাছে এলেই চেতে ওঠে!!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৪০
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালো শিক্ষার্থী কখনো পরীক্ষা পেছাতে চায় না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

কারণ একজন প্রস্তুত শিক্ষার্থী জানে, পরীক্ষা যত দ্রুত শেষ হবে, সে তত দ্রুত জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে। অনিশ্চয়তা, বারবার সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—এসব কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।

বৃষ্টি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×