somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তৈল সঙ্কট, অনলাইন জুয়া এবং এমএফএস ব্যাংকিং

২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমসাময়িক তিনটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমার মতামত বলছি, জনমতের চেষ্টা আর কি। আমার মত আপনারাও আওয়াজ তুলবেন কি না সেটা আপনাদের চয়েস, আমি আমার জায়গা থেকে আওয়াজ তুলছি, তুলব।

১.
আমাদের বর্তমান মোটর ফুয়েল সঙ্কটের যে চিত্র আমরা রোজ দেখি, এ নিয়ে বিপিসি একদম শুরুর দিকেই বলে দিয়েছিল, কোথাও কোন মজুদ সংকট নেই। আগামী ছয় মাসেও ঘাটতি দেখা দেবে না! কারণ এসব জ্বালানি আমাদের দেশেই পাওয়া যায় খনিতে। ওদিকে যুদ্ধের আলামত দেখেই ভোজ্য তেল জ্বালানি তেল দুই পক্ষের ব্যবসায়ীরাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রস্তাব করেছিল মূল্যবৃদ্ধির! প্রধানমন্ত্রী নাকোচ করে দিয়েছেন তো বটেই, এরপরই হিমশিম খাচ্ছেন, এই সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে! রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকার পরও এদের নিয়ন্ত্রণ করা গেল না, ওদিকে অমুক তমুক ব্যবসায়ীর হাজার হাজার লিটার লুকিয়ে রাখা তেল ধরা পড়ছে রোজ, পাম্পগুলো নোটিশ টাঙিয়ে রাখছে, তেল নাই!
যেসকল লুকিয়ে রাখা তেল ধরা পড়ল, তা সরকার কেন বাজেয়াপ্ত করল না এটা আমার প্রশ্ন! সরকার বনাম তেল ব্যবসায়ী— এই দুই পক্ষের প্রত্যক্ষ যুদ্ধও যদি হয়, জিতবে সরকার। এবং নিঃসন্দেহে আপামর জনতাই সরকারকে সাপোর্ট দেবে। সেক্ষেত্রে এদের প্রতি এত সিম্প্যাথি দেখানোর দরকার কী? এই কৃত্রিম তেল সংকটের নাটকটাই বা কেন এত প্রলম্বিত করা হচ্ছে??

প্রত্যেকের মজুদ চেক করা হোক, যাকে মজুদ কোলে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যাবে তাকেই রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের মামলা দিয়ে লাইসেন্স বাতিল ও তেল বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হোক, রাতারাতি সবাই সোজা হয়ে যাবে! আমার দেশ, আমার নিয়ম। আমার দেশে থাকতে হলে আমার দেশের নিয়ম মেনে থাকবা, আমার দেশে ব্যবসায় করতে হলে আমার দেশের নিয়ম মেনে করতে পারলে করবা, না পারলে বাদ দাও, ব্যবসায় করার সুযোগ নিতে আগ্রহী মানুষের এখনও এদেশে অভাব নাই। জাতীয় ক্রাইসিস তৈরি করে ফাইজলামি করার মত দেশদ্রোহীদের কোলে করে পালার কোন মানেই আমি দেখি না!

২.
সরকার চাইলেই অনেক এ্যাপ এদেশে ব্যান করতে পারে। ভিপিএন দিয়েও এ্যাক্সেস করা যাবে না, এমনভাবে রেগুলেট করা সম্ভব। অত হ্যাপা নিতে না চাইলেও আরেকটা উপায় আছে, একদম সহজ!
ওহ, বোঝেননি, কী নিয়ে কথা বলছি?
অনলাইন জুয়ার এ্যাপ নিয়ে কথা বলছি। এসব এ্যাপের বিজ্ঞাপন তো ওপেন। সেই বিজ্ঞাপনে ঢুকেই কোন নম্বরে টাকা পাঠাতে হবে তা বের করে নম্বরটা ট্র্যাক করা তো একদমই কঠিন না! ওপেনে বিজ্ঞাপন চলে, সরকার এসব থামায় না। ওদিকে একজন ওসিকে পাওয়া গিয়েছিল, যিনি তুমুল ব্রেইন খাটিয়ে লাখ টাকা আয় করেছেন জুয়া খেলে! যে টকাটা আয় করেছেন সেটা ওই কোম্পানির টাকা না। এই দেশেরই আর দশটা বেকার বা জুয়ায় আসক্ত মানুষের টাকা। এই জুয়ার চক্করে অনেক পরিবারকেই পথে বসতে দেখছি, লোন নিয়ে লাঞ্ছিত হতে দেখছি, সংসার ভাঙতে দেখছি এমনকি জুয়ায় হেরে সুইসাইড করার নিউজও অহরহ দেখা যায়!

এদের যে ডিপোজিট প্রোসেস আর ওপেন বিজ্ঞাপন তাতে এদের ট্রেস করে পাকড়াও করা একদমই কঠিন না। সরকার এটা করছে না কেন সেটাই আমার প্রশ্ন!!

৩.
টেলিগ্রাম সহ অনলাইন জুয়া এমনকি অন্যান্য সকল স্ক্যামেই দেখি নগদ এ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলে! টিউশনির মিডিয়াতেও যারা নগদে টাকা সেন্ড করতে বলে, তারা ফ্রড প্রমাণিত হয়েছে। এখানে নগদের কোন একটা সিকিউরিটি লুজ আছে বলে মনে হচ্ছে, যা নিয়ে কেউ কথা বলছে না এখনও! বিষয়টা সামনে আনা দরকার।

একইসঙ্গে বিকাশের ভুল নম্বরে টাকা চলে যাওয়া এবং টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়াতেও স্পষ্ট নীতিমালা আনা দরকার। এ নিয়ে আগেও একবার লিখেছিলাম, সমাধান আমার কাছে আছে। ওদের এত বড় বড় যোগ্য ব্রিলিয়ান্ট অফিসার থাকতে আমি কেন ফ্রিতে সমাধান বলে দেব— এই কারণেই বলিনি। বাট এখন মনে হচ্ছে, যোগ্য অফিসারেরা ও পথ মাড়াবেই না, কাস্টমার হিসেবে আমার নিজের হয়রানি থেকে বাঁচতেই আমাকে আমার সমাধান নিয়ে চিৎকার করতে হবে!

ভুলক্রমে কোথাও টাকা চলে যাবার পর সে ব্যক্তি যদি টাকা তুলে ফেলে আর কিছু করার থাকে না। কেন থাকে না? যার কাছে ভুলে টাকা গেছে তার নাম ঠিকানা নাই??? তো, কেন থাকবে না আদায়ের উপায়???

যাহোক, আমার মতে সমাধানটা হল, কাউকে টাকা পাঠানোর পর দশ মিনিটের মধ্যে এনশিউর করার একটা অপশন থাকতে হবে কনফার্মেশনের। এই দশ মিনিটের মধ্যে অপরপক্ষ টাকা তুলতে পারবে না। এবং এখন টাকা দিয়ে এখনই যদি টাকা অপরপ্রান্তে তুলতে হয়, তাহলেও সিস্টেম থাকবে কনফার্মেশন এক মিনিটের ব্যবধানে পাঠানোর। অর্থাৎ এক মিনিটের মধ্যে কনফার্ম করা যাবে যে এই নম্বরে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্তটি সঠিক আছে। এবং দশ মিনিটের বেশি এটা কনফার্ম করতে লাগার কথা নয় যে টাকা ভুল জায়গায় গেছে না সঠিক জায়গায় গেছে। দশ মিনিট পার হয়ে গেলে এমনিতেই আর কনফার্মেশন লাগবে না। আমার মনে হয় এটুকুই এনাফ।
আরেকটা জিনিস, ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠাবার সময় যেমন একাউন্ট হোল্ডারের নাম কনফার্ম করা যায়, বিকাশ নগদেও তেমন সিস্টেম থাকা উচিত।

এগুলো এপ্লাই করতে পারলে আমাদের ডিজিটাল মানি আমাদের কাছেই নিরাপদ থাকা সম্ভব। যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো কোন দায় এমনিতেও নেয় না। আমাদের সিকিউরিটি আমাদেরই চেয়ে নিতে হবে।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×