somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করা গাইবান্ধা বাসীর প্রাণের দাবি"

২৭ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটকে কৃষি িশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করা গাইবান্ধা বাসীর প্রাণের দাবি"
গাইবান্ধা দেশের উত্তরাঞ্চলের পশ্চাৎপদ অবহেলিত জেলা। ব্রহ্মপুত্র, যমুনার করাল গ্রাসে নদী ভাঙ্গনে ও বন্যাজনিত কারণে এ জেলার অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। এ জেলায় নেই কোন শিল্প কলকারখানা যাকে কেন্দ্র করে মানুষ জীবন জীবিকার আশ্রয় খুঁজে পাবে। বিগত পাকিস্তান আমল থেকে ভি-এইড পরবর্তীকালে এনডিটিআই বর্তমানে এটিআই এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান। যাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর শত শত ছাত্র/ছাত্রী কৃষি ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ গ্রহন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। তারা দেশ- জাতি গঠনেও কৃষিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। এ প্রতিষ্ঠানটিকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি আপামর গাইবান্ধা জেলাবাসীর প্রাণের দাবি। আর এ প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তরিত করতে সরকারকে বাড়তি কোন ভূমি অধিগ্রহন করতে হবে না। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অবকাঠামো নির্মানসহ প্রয়োজনবোধে প্রয়োজনীয় দপ্তর ভবন, আবাসিক ঘরবাড়ীর নির্মাণ করা যেতে পারে। আর সে জন্য রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে সরকারী অধিগ্রহনকৃত বহু জমিজিরাত। নতুন করে কোন জমি অধিগ্রহন করতে হবে না। এ প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে বহু অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসিক হোষ্টেল, দপ্তর ভবন, অধিগ্রহনকৃত কৃষি জমির পরিমাণ প্রায় ৪৭.৯৫ একর, ৫টি পুকুরের এরিয়া ৮.০৫ একর, আবাসিক এরিয়া ৬.০৫ একর, ধান/গম ইত্যাদি ফসল মাড়াইয়ের জন্য ০.১৮ একর জমি। বনায়নের দিক থেকেও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পিছিয়ে নেই, নারিকেল গাছ ১০৭টি, আম গাছ প্রায় ২৭৫টি, লিচু গাছ প্রায় ৯টি, পেয়ারা গাছ প্রায় ২৭৫টি , কাঠাল গাছ ৭০টি (কৃষি তথ্য সূত্র কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত অঞও-ঞঐঊ ঐঊঅজঞ ঙঋ উঅঊ থেকে সংগৃহিত) সুন্দর মনোরম পরিবেশ, চারিদিকে লেক যে লেকে মাছ চাষ হচ্ছে। পরিকল্পিত লেকটিকে ঘিরে আধুনিকায়ন করে আরও ব্যাপক মাছ চাষের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। কৃত্রিম স্রোতের সৃষ্টি করে আরও নয়নাভিরাম করা যেতে পারে। চতুর্দিকে ঘেরা এই লেকটিতে ছোট ছোট নৌকায় শিশুদের নৌভ্রমনের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এ প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে মিনি শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এই কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকে “কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়” রুপে রুপান্তরিত করার সকল উপকরণ এখানে যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে, শুধুমাত্র সরকারী উদ্যোগ, প্রচেষ্টায় শিক্ষকসহ সকল জনবলের সেটআপ প্রণয়ন করতঃ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করা যেতে পারে। যেমন দিনাজপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটকে রুপান্তরিত করা হয়েছে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে। এ কৃষি ইনষ্টিটিউটকে ঢেলে সাজাতে পারলেই গাইবান্ধা জেলা সদরে একটি “কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। শুধু তাই নয় এটিকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা যেতে পারে। সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথ প্রতিপালন করতে পারলে এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার দ্বারই উন্মোচিত হবে। গাইবান্ধা জেলাবাসীর প্রাণের দাবিও পূরণ হবে। সরকার স্থান করে নিতে পারবে গাইবান্ধা মাটি ও মানুষের হৃদয়ের সাথে। এ অঞ্চলের মানুষ কৃতজ্ঞতার সাথেই স্মরণ করবে যে সরকারের হাতে এ প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষনা পাবে। যার দক্ষিণেই প্রাণী সম্পদ বিভাগের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পাশেই গাইবান্ধা জেলা পুলিশ লাইন ট্রেনিং সেন্টার, সংলগ্ন প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গাইবান্ধা সদর উপজেলা কার্যালয়, গণপূর্ত্ত, টিএন্ডটি, উপজেলা সদর উপজেলা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, সরকারী টেক্সটাইল ভকেশনাল স্কুল, এসব সরকারী প্রতিষ্ঠান ঘিরে রয়েছে এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চারিদিকে। এ প্রতিষ্ঠানটিকে “কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়” রুপে রুপান্তরিত করতে পারলে, বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো। এছাড়া নদী ভাঙ্গন কবলিত চিলমারী, রৌমারী, মোল্লারচর, এরেনডাবাড়ী, জিগাবাড়ী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীসহ বগুড়া, জয়পুরহাট, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী ও লালমণিরহাট জেলার হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য বিরাট সুসংবাদ বয়ে আনবে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে দেশে বিদেশে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে পারবে। উত্তর জনপদের জন্য হবে আশীর্বাদ। দেশের উত্তরাঞ্চলে আগামী প্রজন্মের জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালযটি একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। যা জাতি গঠনে বিরাট ভূমিকা রাখবে। সে সাথে আমাদের অবহেলিত পশ্চাৎপদ জেলাটি নতুনভাবে প্রানচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে। কৃষিতে এক নবদিগন্তের সৃষ্টিসহ গাইবান্ধা জেলাবাসী সার্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। যারা দেশ ও জাতির বিবেক, বিশেষ করে মহান জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্যগণসহ সকল স্তরের সচেতন নেতৃবৃন্দের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি যেখানে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সেখানে গাইবান্ধা জেলা শহরে বিদ্যমাণ কৃষি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিউটকে ঘিরে “কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করলে গাইবান্ধা তথা উত্তর জনপদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আবেদন বর্তমান সরকারের মেয়াদেই গাইবান্ধায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। বিশেষ করে এবার যারা মহান জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে গাইবান্ধার ৫টি আসন ও সংরক্ষিত মহিলা আসন দায়িত্ব পালন করছেন তাঁদেরকে বিষয়টি প্রস্তাব আকারে সংসদে উত্থাপন করে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য অনুরোধ করছি। বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় এনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পীকার, মাননীয় হুইপ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রপতির কাছে গাইবান্ধাবাসীর প্রাণের দাবি গাইবান্ধা “কৃষি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট”কে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়রুপে রুপান্তরিত করণের সদয় প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:২৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×