somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্ব-বিরোধী বিশ্বাস আর দ্বি-মুখী জীবন

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি কি স্ব-বিরোধী বিশ্বাস লালন করে দ্বি-মুখী জীবন অতিবাহিত করছেন ?
প্রশ্নটা শুনে আপনি অবাক হচ্ছেন নিশ্চই? ব্যাপারটা একটু আলোচনা করা যাক ।
যদি প্রশ্ন করা হয়, আমাদের এই নিখিলবিশ্ব এবং প্রাণের সৃষ্টি কিভাবে হয়েছিল? তবে উত্তরে আপনি হয়তো বলবেন,- বিবর্তনের মাধ্যমে নতুবা সৃষ্টিকর্তার মাধ্যমে । যে কোনো একটিই বলবেন । আপনার উত্তর যাই হোক না কেন, কখনো কি একটু ভেবে দেখেছেন, আপনার এই বিশ্বাসের পক্ষে আপনি কতটুকু নিশ্চিত? কারণ বাস্তবতা হচ্ছে, যদিও অধিকাংশ লোকই যে কোনো একটিই উত্তর দেয় কিন্তু দুটোকেই ধারণ করে চলে । যদি তা না হতো তবে কেন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ত্বকে স্বীকার করা সত্বেও স্কুল-কলেজে বিবর্তনের শিক্ষাতে দ্বিমত পোষন করে না । আবার বিবর্তনের সম্বন্ধে জোর গলায় সাফাই দেওয়া সত্ত্বেও নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্ম পালন করে । এতে কি এটাই প্রতীয়মান হয় না যে তাদের হৃদয়ে একটা আর মস্তিষ্কে অন্য একটা বলে, আর তাই স্ব-বিরোধী বিশ্বাস লালন করে দ্বি-মুখী জীবন অতিবাহিত করছে ?
সাধারণত আমরা বাড়িতে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস গড়ে তুলে বড় হয়েছি এবং স্কুল-কলেজে বিবর্তনের শিক্ষা রপ্ত করেছি । আপনি হয়ত বিবর্তনে বা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী । এমতাবস্থায় আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আপনার বিশ্বাসের পক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ কি? এবং আপনি কি সেই সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো যাচাই করে দেখে যুক্তিসংগত প্রমাণ পেয়েছেন ? তারপর কি এই উপসংহারে পৌঁছেছেন ।
এই পরিস্থিতিতে আপনার বিশ্বাসের পক্ষে, প্রমাণ পরীক্ষা করে দেখা উচিত । আপনার বিশ্বাস শুধুমাত্র এই জন্য হওয়া উচিৎ নয় যে, তা আপনি আপনার মাতা-পিতার কাছ থেকে শিখেছেন, বরং এই জন্যে যে আপনি প্রমাণ পরীক্ষা করে দেখেছেন, তারপর আপনি এই উপসংহারে এসে পৌঁছেছেন । কখনো কখনো শিক্ষকদের যখন বিবর্তনকে প্রমাণ করতে বলা হয়, তখন তা তারা করতে পারে না আর তাই তারা বুঝতে পারে যে এই বিষয়টা শুধুমাত্র তাদেরকে শেখানো হয়েছে বলে তারা এই মতবাদকে গ্রহণ করে নিয়েছে । আপনার বিশ্বাস যাই হোক না কেন আপনিও এই ফাঁদে পড়তে পারেন । সেই জন্য আপনার বিশ্বাসের পক্ষে প্রমাণ, নিজে পরীক্ষা করে দেখা উচিত ।
চলুন বিবর্তনবাদী ও স্রষ্টাবাদী, এই দুই পক্ষেরই সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো বিশেষজ্ঞ গবেষকদের দৃষ্টিতে ফলাফলগুলো একটু পর্যালোচনা করে দেখি । তারপর কোনপক্ষের মতবাদ যৌক্তিক এবং চূড়ান্ত সত্য বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি, আসুন দেখা যাক ।
বিবর্তনবাদ শিক্ষা দেয় সৃষ্টি আকস্মিক একটি ঘটনা এবং সমস্ত প্রাণীকূল ক্রমান্বয়ে ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করেছে। আর স্রষ্টাবাদীরা শিক্ষা দেন সমস্ত সৃষ্টি একজন সৃষ্টিকর্তার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে । যদিও বর্তমানে নাম করা কিছু ধর্মীয় দল এই বিষয়টা মেনে নিতে ইচ্ছুক যে, সৃষ্টিকর্তা কোনো না কোনো ভাবে বিবর্তনের মাধ্যমে জীবন সৃষ্টি করেছিলেন । কেউ কেউ এমনও দাবী করে যে, সৃষ্টিকর্তা আগে থেকেই এই বিশ্বকে এমনভাবে গড়ে ওঠার জন্যে প্রোগ্রাম করে রেখেছিলেন যে, ক্রমাগতভাবে জীবিত বস্তুগুলো নির্জীব রাসায়নিক বস্তু থেকে ক্রমান্বয়ে বিবর্তিত হতে হতে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রাণীকূল সহ মানুষের সৃষ্টি হবে । তারা এটাও দাবী করে যে, এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পর সৃষ্টিকর্তা তাতে আর কোনোরকম হস্তক্ষেপ করেননি । আবার স্রষ্টাবাদীদের কিছু দল মনে করে যে, সৃষ্টিকর্তা প্রোগ্রাম করে বিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণীর গোত্রকে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু প্রক্রিয়াটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাঝে মাঝে হস্তক্ষেপ করেছেন । কিন্তু তারা কি এটা লক্ষ্য করে না যে, বিবর্তনবাদের শিক্ষানুযায়ী মানুষকে নিকৃষ্ট প্রাণী থেকে বিবর্তিত হতে হতে উন্নতশীল প্রাণী হিসাবে তুলে ধরে । আর ধর্মীয় শিক্ষানুযায়ী আধুনিক মানুষকে অধঃপতিত বংশধর হিসাবে তুলে ধরে । তাহলে স্রষ্টাবাদীরা কোন যুক্তিতে বিবর্তনের শিক্ষাকে ধর্মে মান্যতা দেন ?
আবার একটু ধ্যান দিয়ে লক্ষ্য করুন যে, বিবর্তনবাদের শিক্ষা প্রত্যক্ষভাবে স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অর্থপূর্ণ এবং যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা জানার চেষ্টাকে নিরুৎসাহিত ও বাতিল করার চেষ্টা করে । একজন সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন এই তত্ত্বকে স্বীকার করে নেওয়া 'গবেষণায় বাধা সৃষ্টি করবে' । নিউ সাইনটিস্ট পত্রিকার একটি প্রবন্ধ এইরকম ভয় প্রকাশ করে এই দাবী করে যে, "বিজ্ঞান, যেটা হচ্ছে আবিষ্কারের অফুরন্ত সম্ভবনার এক পথ, তা এই অভেদ্য বাধা দ্বারা বন্ধ হয়ে যাবে যে, 'এটা নকশাবিদ করেছেন' "
অন্যদিকে, একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন এটা স্বীকার করা, আমাদেরকে স্রষ্টাকে এবং সৃষ্টিরহস্যের মূল কারণ কি, এটা জানার জন্য উৎসাহিত করে ।
খ্যাতনামা বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানী অধ্যাপক রিচার্ড ডকিন্স দাবী করেন, -"বিবর্তন সূর্য থেকে নির্গত তাপের মতই এক বাস্তব বিষয়"। এটা ঠিক যে, পরীক্ষানীরিক্ষা ও সরাসরিভাবে করা পর্যবেক্ষণই প্রমাণ করে যে, সূর্য প্রচন্ড উত্তপ্ত । কিন্তু পরীক্ষানীরিক্ষা এবং সরাসরি পর্যবেক্ষণ কি একইরকম বিতর্কহীনভাবে প
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×