somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আতিক আফজাল
আমি যা চাই, যা ভাবি, যা সিদ্ধান্ত করছি, আমি যে আগাগোড়া কেবল তাইই, তা তো নয়। আমি যা ভালবাসিনে, যা ইচ্ছে করিনে, আমি যে তা-ও!

আয়, আরেকটি বার প্রাণের মাঝে আয় রে সখা!

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিসেবটা করে চমকিয়েই গেলাম। ৯ বছর! এতদিন! কোন দিকে গেল এত দিন! কখন হারিয়ে ফেললাম পুরানো অভ্যাসটা! আশপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকালাম, নাহ, ঐ মুখগুলো নাই। যে ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে ছিল মনে, একটু হলেও ভাটা পড়ে গেল তাতে।
ব্যাপারটা অত বড় কিছু না। আজকে টানা ৩ ঘন্টার লেকচার ক্লাস ছিল। মাসুদ রানা'র একটা বই পড়ে কাটিয়ে দিয়েছি এই ১৮০ মিনিট! অনেকদিন পর... ছোট ব্যাপার, কিন্তু মারাত্মক নস্টালজিক করে দিল।
সেই ক্লাস ৮ এ থাকতে ক্লাসে বইয়ের মাঝে লুকিয়ে রেখে পড়তাম। যদিও, মাসুদ রানা শুরু করি ক্লাস ৩ থেকে! খালাতো বোনের সাথে একবার চ্যালেঞ্জ লাগলাম, কে আগে বই শেষ করতে পারে! আমি নিলাম "বাঘের খাঁচা", সে নিলো "মৃত্যুপথের যাত্রী" (খুব সম্ভবত)। কে জিতলো? আর ভাই জিতা! সে তো ২ দিনেই শেষ করে ফেলছে আর আমার উপর রানা ভর করেছে! একটা কিছু না বুঝলে পিছনে ফিরতাম। ৪/৫ দিন পর শেষ হলো বইটা। চ্যালেঞ্জ তখন আর মাথায় নাই, আরেকটা নি্লাম! ঐ তো, সেখান থেকেই শুরু! বাসার ছাদে, বইয়ের ফাঁকে, স্কুলে, লেপের নিচে টর্চ জ্বালিয়ে, বাথরুমে দাঁড়িয়ে, কত ভাবে না পড়ছি রানা! সবার চোখ এড়িয়ে! তখন খুব নেশা ছিল। মাসে ৬ টা শেষ না করতে পারলে পিনিকটাই তো উঠলো না!
যা হোক, গল্পের মাঝে হারানোর পর পরই অজান্তেই মনে হচ্ছিলো, আমি পাইলট স্কুলের মাঝের দিকের একটা বেঞ্চে বসে আছি, ২ পাশে বন্ধুবরদের নিয়ে, তাদের তীব্র বাক্যবাণ কটাক্ষ রানাকে নিয়ে, সামনে স্যার লেকচার দিয়ে যাচ্ছেন, ক্লাসমেটরা ছুটির প্রহর গুনছে, শুধু আমি একমনে পড়ছি মনযোগী ছাত্রের মত!
ব্রিটিশ আমলের ফ্যানগুলো এত উপরে ছিল যে বাতাস লাগতোই না বলতে গেলে। ঘামতে ঘামতে পড়তাম; আজকে ফ্যান থেকে অনেক দূরে ছিলাম, তাই ঘামলাম, তবে বিরক্ত হলাম না, ভালো লাগলো। ঘামের অনুভূতিটাও তো নস্টালজিক করে দিচ্ছিলো!
আরও ভালো লাগতো যদি, বই পড়ার মাঝে সেই খোঁচা গুলো শুনতাম!

স্কুলে থাকতে শুধু আমি পড়তাম মাসুদ রানা, বাকি সব গুলো পড়তো তিন গোয়েন্দা। আমাদের একটা হেড-কোয়ার্টারও ছিল! সেটা স্কুলের লাইব্রেরীর সামনের বারান্দাকে বুঝাতো! ২ তালায় ছিল, প্রায় সারা বছরই বন্ধ থাকতো, কেউ যেত না। আমরা ওখানে গিয়ে কি করতাম? প্রথম ২/৩ দিন এমনে এমনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। পরে, উপর থেকে সারা স্কুলের উপর গোয়েন্দা দৃষ্টি রাখতাম। পরে দেখলাম, আসলে কি যে দেখতেছি কেউই বুঝতেছি না। তাই এই কাজও বাদ। শেষ পর্যন্ত একটা স্ট্যাবল কাজ পেয়ে গেলাম।
আমাদের হেড-কোয়ার্টারে বসে আমরা টিফিন খেতাম! B-)

এস এস সি/এইচ এস সি'র পর দূরত্ব বাড়ে জানি। কিন্তু, আমি ঐ সময়টুকুও পাই নাই! এক বন্ধু ক্লাস ৮ এ থাকতেই মিশর চলে গেল। ক্লাস ৯ এ একজন অজ্ঞাত কারণে দূরে সরে গেল, তার সাথে আরেকজন চলে গেল। রইলো বাকি ২! এস এস সি'র পর তাদের একজন চলে গেল ঢাকা। আর একজনকে নিয়ে এই এস সি পর্যন্ত থাকলাম। ভার্সিটি কোচিং'এ থাকার সময় আর কেউ অবশিষ্ট থাকলো না আর। বলতে গেলে সবাই তখন ঢাকায়। একা হয়ে গেলাম। আছি।
সেই সময়টা খুব জরুরি সময় জীবনের। ভার্সিটি এডমিশনের সময়। মানুষের জীবন, কত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই না ঘটে, অনেক স্বপ্ন হয়তো অসময়ে এসে ধরা দেয়! আমি একা পারলাম না সামলাতে। অনেক গুলো ভুল পর পর করে ফেললাম। ফলাফলে, এখন এমন লাইফ স্টাইল আমার, যেটা কখনোই চাই নাই। বলা উচিৎ না, তবু না বলেও পারি না, আমি হয়তো আরও ভালো থাকতে পারতাম, বিকালে বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে পারতাম, দল বেঁধে ঘুরতে যেতে পারতাম, হাসি-আনন্দে মেতে থাকতে পারতাম, দুনিয়ার সব হাবিজাবি জিনিস নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গভীর আলোচনা করতে পারতাম, কঠিন বাস্তবকে তোয়াক্কা না করে চলতে পারতাম! অনেক কিছুই!
(দীর্ঘশ্বাস)
বাস্তবতা এত খারাপ কেন! আমরা এক সাথে থাকলে কি ক্ষতি হত? এই যে আলাদা আছি, তাতেই বা কার কি লাভ হল? না হয় এত কিছু নাই বা পেলাম অন্তত একলা বিকালে একটু সময় তারা আমার কাছে থাকতো!

খুব কি বেশি চাওয়া ছিল?
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১:৫৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×