somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গ পরকাল-কুরআন, যুক্তি ও বিজ্ঞান কি বলে?

২৭ শে জুন, ২০১২ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হুমায়ূন আহমেদের যে কয়টা বই পড়েছিলাম (অনেক আগে পড়েছি, আর পড়বার নিয়ত নেই) তাতে তখনও বুঝতাম উনি গল্পের মাঝে মাঝে কৌশলে ইসলামকে কটাক্ষ করেন। তবে সেদিন যায়যায়দিনের সাক্ষাৎকারে সম্ভবত প্রথমবারের মত সরাসরি পরকালকে অস্বীকার করলেন।
এ অস্বীকার করাটা বুদ্ধিমত্তা ও বিজ্ঞানমনস্ককতার পরিচায়ক কিনা একটু দেখি আসুন।
তার দাবী মরে গেলে তো মাটির সাথে মিশে যাব। আবার কেন কীভাবে সৃষ্ট হতে হবে।
এ প্রশ্নটাই করত মক্কার মুশরিক কাফিররা।
আল্লাহ বলেন (সুরা ক্বিয়ামা, ৭৫:৩-৪)
أَيَحْسَبُ ٱلْإِنسَـٰنُ أَلَّن نَّجْمَعَ عِظَامَهُۥ ﴿٣﴾ بَلَىٰ قَـٰدِرِينَ عَلَىٰٓ أَن نُّسَوِّىَ بَنَانَهُ
"মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না? পরন্ত আমি তারঅঙ্গুলির অগ্রভাগ পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।"
এখানে আল্লাহ এক ঢিলে অন্তত দুটি পাখি মেরেছেন। বলেছেন সমগ্র শরীরতো সন্নিবেশিত করবেনই আংগুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনরায় সন্নিবেশিত করবেন। আবার আঙ্গুলের অগ্রভাগের বিশেষ বৈশিষ্ট্যও পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন। সতেরাশত শততের দিকে আবিষ্কৃত হওয়ায় এখন আমরা জানি এমন দুজন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য যাদের আঙ্গুলের অগ্রভাগের বৈশিষ্ট্য, গড়নবিন্যাস সমপ্রকৃতির।
যাইহোক, এখানে আল্লাহ তাঁর ক্ষমতার উল্লেখ করলেন।

সুরা নাযিআত (৭৯, ২৭-২৮)
أَنتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ ٱلسَّمَآءُ ۚ بَنَىٰهَا ﴿٢٧﴾ رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّىٰهَا
"তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন? তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। "
বস্তুতই মানুষের গঠনকাঠামোতো মহাবিশ্বের তুলনায় সরল। এবার হয়তো উনি বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে গিয়ে বলে বসবেন আকাশতো কেউ সৃষ্টি করেনি, এমনিই হয়ে গেছে যে দাবীটা তাপগদতিবিদ্যার সাথে সাংঘর্ষিক।

সুরা ইসরা (১৭: ৯৮-৯৯)
ذَٰلِكَ جَزَآؤُهُم بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَـٰتِنَا وَقَالُوٓا۟ أَءِذَا كُنَّا عِظَـٰمًا وَرُفَـٰتًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا ﴿٩٨﴾ أَوَلَمْ يَرَوْا۟ أَنَّ ٱللَّـهَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ قَادِرٌ عَلَىٰٓ أَن يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ وَجَعَلَ لَهُمْ أَجَلًا لَّا رَيْبَ فِيهِ فَأَبَى ٱلظَّـٰلِمُونَ إِلَّا كُفُورًا
"এটাই তাদের শাস্তি। কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে এবং বলেছেঃ আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাব, তখনও কি আমরা নতুনভাবে সৃজিত হয়ে উত্থিত হব?
তারা কি দেখেনি যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমিন সৃজিত করেছেন, তিনি তাদের মত মানুষও পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্যে স্থির করেছেন একটি নির্দিষ্ট কাল, এতে কোন সন্দেহ নেই; অতঃপর জালেমরা অস্বীকার ছাড়া কিছু করেনি।"

সুরা নাহল (১৭, ৩৮-৩৯)
وَأَقْسَمُوا۟ بِٱللَّـهِ جَهْدَ أَيْمَـٰنِهِمْ ۙ لَا يَبْعَثُ ٱللَّـهُ مَن يَمُوتُ ۚ بَلَىٰ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٣٨﴾ لِيُبَيِّنَ لَهُمُ ٱلَّذِى يَخْتَلِفُونَ فِيهِ وَلِيَعْلَمَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّهُمْ كَانُوا۟ كَـٰذِبِينَ
"তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে যে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। অবশ্যই এর পাকাপোক্ত ওয়াদা হয়ে গেছে। কিন্তু, অধিকাংশ লোক জানে না। তিনি পুনরুজ্জীবিত করবেনই, যাতে যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল তা প্রকাশ করা যায় এবং যাতে কাফেরেরা জেনে নেয় যে, তারা মিথ্যাবাদী ছিল।"

সুরা মারইয়াম (১৯, ৬৬-৬৮)
وَيَقُولُ ٱلْإِنسَـٰنُ أَءِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا ﴿٦٦﴾ أَوَلَا يَذْكُرُ ٱلْإِنسَـٰنُ أَنَّا خَلَقْنَـٰهُ مِن قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْـًٔا ﴿٦٧﴾ فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَٱلشَّيَـٰطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا
"মানুষ বলেঃ আমার মৃত্যু হলে পর আমি কি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব? মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে ইতি পূর্বে সৃষ্টি করেছি এবং সে তখন কিছুই ছিল না।সুতরাং আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে একত্রে সমবেত করব, অতঃপর অবশ্যই তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চারপাশে উপস্থিত করব।"

সুরা আম্বিয়া (২১:১০৪)
يَوْمَ نَطْوِى ٱلسَّمَآءَ كَطَىِّ ٱلسِّجِلِّ لِلْكُتُبِ ۚ كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُۥ ۚ وَعْدًا عَلَيْنَآ ۚ إِنَّا كُنَّا فَـٰعِلِينَ
"সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে।"

সুরা রূম (৩০:১৯)
يُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ وَيُحْىِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ وَكَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ
তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বহির্গত করেন জীবিত থেকে মৃতকে বহির্গত করেন, এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এভাবে তোমরা উত্থিত হবে।"

সুরা ফাতির (৩৫:৯)
وَٱللَّـهُ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ ٱلرِّيَـٰحَ فَتُثِيرُ سَحَابًا فَسُقْنَـٰهُ إِلَىٰ بَلَدٍ مَّيِّتٍ فَأَحْيَيْنَا بِهِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ كَذَٰلِكَ ٱلنُّشُورُ
আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চারিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদ্বারা সে ভূ-খন্ডকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান।

কুরআনের পাতায় আরো অসংখ্য বলিষ্ঠ যুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাতে কি! অন্ধ, বোবা, কালারা সেগুলো পড়লেতো!

পরকালের ধারণার অভাবেই মানুষ একে অপরের নির্বিচারে অত্যাচার চালাতে পারে, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই চলে সমানে। অথচ পরকালের ধারণা যদি পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষ রাখত তাহলে মানুষ দরজা খুলে রেখে ঘুমাতে পারত। কোন তালার দরকার হতোনা। কেউ কারো প্রতি বিন্দুমাত্র অন্যায় করার আগে পরকালের কথা ভেবে থেমে যেত।
যুক্তিটা এখানেই। পৃথিবীকে সুশোভিত, শান্তিপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হলে মাথায় থাকতে হবে এ জগতে যাই করিনা কেন তার কড়ায়গন্ডায় প্রতিফল পরকালে ভোগ করতে হবে।
সুরা জাছিয়া (৪৫:২১-২২)
أَمْ حَسِبَ ٱلَّذِينَ ٱجْتَرَحُوا۟ ٱلسَّيِّـَٔاتِ أَن نَّجْعَلَهُمْ كَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ سَوَآءً مَّحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ ۚ سَآءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿٢١﴾ وَخَلَقَ ٱللَّـهُ ٱلسَّمَـٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ بِٱلْحَقِّ وَلِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
"যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ। আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।"
দুনিয়ায় যেহেতু পরীক্ষা চলছে সবাই যা ইচ্ছা করতে পারে কিন্তু তাই বলে কারো প্রতি জুলুম করে বসলে পরকালে রেহাই নেই।

পুরো মানবদেহকে একটা সচল কম্পিউটারের মত তুলনা করা যায় যাতে শরীরটা হল হার্ডওয়্যার আর রুহ হলো সফটওয়্যার। যখন শরীর নষ্ট হবে তার আগেই আল্লাহ রূহটাকে [যেমন পেনড্রাইভে করে ] রূহের জগত নামক অকল্পনীয় বিশাল স্টোরে সংরক্ষণ করে রাখবেন। হাশরের সময় পুনরুথান হলেই আবার নতুন করে শরীর গঠন করে সফটওয়্যার আবারো ইনস্টল করে দিবেন।
প্রশ্ন করি কারো পিসি নষ্ট হলেই কি নতুন করে আর সেটআপ দেওয়া যাবেনা?
এখানে ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:১২
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সমুদ্র-৪

লিখেছেন সোনালী ডানার চিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৪৬



আমি জানিনা কেন, তবুও সূর্যাস্ত আমার সবচেয়ে প্রিয়।
প্রতি সন্ধ্যায় যখন সমুদ্র ঘেঁষে ঘরে ফিরি,
তখন অস্তগামী সূর্যটা আমাকে কিছুটা মন খারাপের গল্প শুনিয়ে টুপ করে ডুবে যায়।
আকাশে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে দেশে জন্মই আজন্ম পাপ

লিখেছেন আবদুর রব শরীফ, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:৪৭

চীনের এক দম্পতি ইতালির লম্বারডি অঞ্চলের কডঙ্গও শহরে বেড়াতে গিয়েছিলো সেখান থেকে পুরো ইতালিতে করোনা ছড়িয়ে পরে,
.
স্প্রেফ্ একটা দম্পতি ৷ দুইজন মানুষ ৷ আর আমাদের ডাক্তার সাবরিনারা ১৫ হাজার ৪৬০... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপে একটুকরো আফগানিস্তান, ইয়েমেন গড়ছে এরদেগান।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২১



তুরস্কের মুল ভুখন্ড এশিয়ায় হলেও, ইউরোপিয়ানরা তুরস্ককে ইউরোপের দেশ হিসেবে গণ্য করে আসছিলো এতদিন; এই ১ম বার তুরস্ক ইউরোপের বলয় থেকে বের হচ্ছে, নিজকে ধর্মীয় জাতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক ভুলে দশ বছর--- :P :P

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৬




করোনাকালিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা দুই বন্ধুর ফোনালাপ -
প্রথম বন্ধু : দোয়া করিস দোস্ত,আমি বর্তমানে তৃতীয় স্টেজ -এ আছি।
দ্বিতীয় বন্ধু :বুঝিয়ে বল, তৃতীয় স্টেজ মানে কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ গরু আর কৃষকের শ্রমের ফসল....

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:১১



‘করোনা করোনা’ করে বন্ধ করে রেখেছো সব,
গৃহে বসে থেকে সবাই করছো ‘যুম’ উৎসব।
খাদ্য ফুরিয়ে গেলে থাকবে না কোন বন্ধু বান্ধব,
যতই তোমাদের কাছে থাক অথৈ বিত্ত বৈভব!

মধ্য দুপুরে গরু আর আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×