somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

--আত্মপূজো—

০৭ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

--আমার স্বাদ—

বসন্তের আমি এক মাতাল হাওয়া
ফুরফুরে উড়ে বেড়ানোই আমার নিয়তি ।
এ জগত সংসার আমার ফুলের বাগান
পরশে আমার , ফুলেরা ঐ দোলে আর দোলে
ওদের সুখে হৃদয় আমার , ওড়ে শুধু ওড়ে ।


--স্রষ্টার ঘর--
স্রষ্টার ঘর- ঝক ঝকে , তক তকে , ফাকা
স্রষ্টার ঘর- স্নিগ্ধ শীতল ফুর ফুরে হাওয়া
স্রষ্টার ঘর- কৃত্রিমতামুক্ত , স্বচ্ছ সতেজ
স্রষ্টার ঘর- স্বার্থ শুন্য
স্রষ্টার ঘর- নীরব , নিস্তব্ধ , আনন্দময়
স্রষ্টার ঘর- একমাত্র আশ্রয়
একজন ভালো মানুষের হৃদয়- “স্রষ্টার ঘর”
শুধু ভালো মানুষের হৃদয়ে বসবাস করেন তিনি
তাই, ভালো মানুষের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই , কেউ নেই ।

--আত্মপূজো—

আমায় তুমি মায়া করো কি করো না
আমি তোমায় মায়া করি কি করি না
এটা কোন বিষয় না
আসল বিষয় হচ্ছে-
তুমি নিজেকে নিজে মায়া করো কি না?
আমি নিজেকে নিজে মায়া করি কিনা?
নিজেকে নিজে মায়ার চেয়ে মায়াবী কিছু নেই
নিজেকে নিজে ভালোবাসার চেয়ে প্রানোময় কিছু নেই
নিজেকে নিজে সম্মানের চেয়ে শ্রদ্ধার কিছু নেই
নিজেকে নিজে যতনের চেয়ে বড় কোন সেবা নেই
নিজেতে ভরসার চেয়ে নিরাপদ কোন আশ্রয় নেই
নিজেকে বিশ্বাসের চেয়ে বিশ্বস্ত কেউ নেই
আত্ম-পূজার স্নিগ্ধ হাওয়ায় অহর্নিশি করো স্নান- হও সুরোভিত সতেজ
তোমার সৌরভের মাতাল ঘ্রানে- চারিপাশ পাগল ।



--বিরাট--
উড়াল দিলে আমি , আকাশে এসে হাজির- পাখিরাজ ঈগল
আমি বিদ্রোহ করলে , ঠায় দাঁড়িয়ে যায় হিমালয়
আমি দিলে , অঝর ধারায় ঝরে পরে বৃষ্টি
আমি হাসলে, বয়ে যায় স্নিগ্ধ হাওয়া
আমার আবেগের ঢেউ এ উত্তাল সমুদ্র
আমি দিলে হুঙ্কার , গর্জে ওঠে বজ্র


--আত্মজ্ঞান—
নিজেকে ভালোবাসার চেয়ে বিশুদ্ধ প্রেম নেই
নিজ শক্তির চেয়ে শক্তিধর কেউ নেই
নিজেতে ভক্তির চেয়ে মহিমান্বিত কিছু নেই
নিজেকে বিশ্বাসের চেয়ে খাটি কোন বিশ্বাস নেই
নিজের চেয়ে বড় কোন আনন্দ নেই
নিজের স্বাধীনতার চেয়ে আর কোথাও মুক্তি নেই
নিজের চেয়ে চাক্ষুস কোন স্বাক্ষী নেই
নিজ ভরসার চেয়ে পর-ভরসায় কাজ নেই
নিজের চেয়ে গুরুত্বপুর্ন কেউ নেই
নিজের চেয়ে আরামদায়ক কেউ নেই
নিজের চেয়ে ঐশ্বর্য্যশালী কেউ নেই
নিজের চেয়ে সুন্দর কেউ নেই
নিজের চেয়ে মার্জিত কেউ নেই
নিজের চেয়ে সঠিক কেউ নেই
নিজের চেয়ে কামনীয় কেউ নেই
নিজের চেয়ে প্রেমময় কেউ নেই
নিজের চেয়ে মায়াবী কেউ নেই
নিজের চেয়ে পূজোনীয় কেউ নেই
নিজের চেয়ে বড় কোন নেতা নেই , ক্ষমতাবান নেই
নিজের চেয়ে দায়িত্বশীল অভিভাবক নেই
নিজের চেয়ে সুগন্ধি কিছু নেই
নিজের চেয়ে সুস্বাদু কিছু নেই
নিজের চেয়ে বিস্তৃত কিছু নেই
নিজের চেয়ে বিচিত্র কিছু নেই
নিজের চেয়ে নতুন কিছু নেই
নিজেকে নিজে বিরক্তির মাঝে আমি নেই
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততার মাঝেও নেই আমি
নিজেকে নিয়ে নিজের আমার গর্বের শেষ নেই
নিজেতে নিজেই আমার আশীর্বাদের কমতি নেই
নিজের আশ্রয় নিজে ছাড়া আমার আর কোন আশ্রয় নেই



--আপন ঘর—

আজ আমি কোথাও যাবো না
আজ শুধু আমার এ ঘরেই থাকবো
দেয়াল নেই, ছাদ নেই- “উদোম ফুরফুরে হাওয়ার ঘর আমার”
এ আমার প্রানের ঘর
নিঃশব্দের চর
দিলখোলা আমার এ ঘরে কিছু নেই
বসতে যে দেবো পিড়ে নেই
শুতে দেবো পালঙ্ক নেই
এই নাও তোমায় দিলাম- “বাতাসার মুক্ত প্রশাদ”
এবার বাড়ি যাও , আমাকে আমার মত থাকতে দাও



--বিরাট--
“সমুদ্র” বিরাট
“ঢেউরা” ক্ষুদ্র
সিংহের মতো যখন হেসে উঠে সমুদ্র , শিহোরিত চারিদিক
সমুদ্রের জয় নামে , ঢেউরা বয়ে চলে- সাবলিল


--আত্মতুষ্টি--

নিজেকে নিয়েই আমি খুশী , আমি আমার জন্যে যথেষ্ঠ ,
আমার আর কিছু দরকার নেই
তাই আমাকে নিয়ে তোমাদের ভালোলাগা কিংবা খারাপ লাগায় , আসলে কিছুই বলার নেই
নিজের রূপে নিজে আমি মুগ্ধ
নিজের কন্ঠে নিজে আমি আলোড়িত
নিজের প্রভাবে নিজে আমি বশীভূত
নিজের উপস্থিতিতে নিজে আমি নির্ভার নিশ্চিন্ত
নিজেকে নিয়ে নিজে আমি ধন্য ।

--মজার “আমি”--
নিজেকে আমার জোকার জোকার লাগে
আমাকেই আমার বেশ মজা লাগে
যাই করি তাই মজা লাগে
যাই খাই তাই মজা লাগে
যেখানেই যাই সেখানে মজা লাগে
ঘুমালে মজা লাগে , ব্যস্ততাও মজা লাগে
আরামে মজা লাগে , মজা লাগে ব্যারামেও
কথা বললে মজা লাগে , নির্জন নিরবতাও মজা লাগে
মজা লাগে হতে প্রেমের শিকার
ঘৃনার আক্রমনেও লাগে মজা
সহজে মজা লাগে , জটিলেও মজা লাগেনা যে তা নয়
মানুষকে দেখলেই আমার মজা লাগে।


--স্বগৌরভের সৌরভ—

কে আগে? তুমি? নাকি এই “জগত সংসার”?
তুমি আসলে , তারপর তো প্রকাশ পেলো এই সংসার
তুমি প্রথমে , তারপর এই সংসার
তুমি আছো তো এই সংসার আছে, তুমি নেই এই সংসারো নেই
তাই তুমি এই সংসারের থেকেও অনেক অনেক বেশী গুরুত্বপুর্ন ।
সবার আগে এই নিজেকে ভালোবাসো , এ ভালোবাসার সৌরভ অপরকেও ছুয়ে যাবে ।
নিজেকে সম্মান করতে জানলে , অপরের প্রতি হতে পারবে বিনম্র ।
তোমার নিজের মূল্য- এই সংসারের থেকে হাজার কোটি গুন বেশী
নিজেকে নিচু করে এই সংসারকে বেশী মূল্য দিলে বরন করে নিতে হয় কুকুরের জীবন ।
“জীবন-মৃত্যু”র উর্ধ্বে তোমার অবস্থান
“জীবন” তোমার কাছে পাক আশীর্বাদ , “মৃত্যু” তোমার ভয়ে হোক ভীত ।
কাকে করতে চাও খুশী?
নিজেকে আগে নিজে খুশী করো
সেই খুশীর আলোয় আপনাতেই চারিদিক হবে আলোকিত ।
কাকে করতে চাও মুক্ত?
নিজেই নিজের মুক্ত প্রানের লও স্বাদ
তারপর অন্যকে মুক্তির ভাবনা ভাবো।
কার যত্ন আগে নিবে?
তোমার শরীর দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান
নিজের শরীরের যতন নাও , তারপর করো সংসার সেবা ।
কোন সময়টা বেশী গুরুত্বপুর্ন?
যখনই সংসারে দৃষ্টিপাত করছো, সেটি কিন্তু এরই মধ্যে অতীত হয়ে গেছে , আর অতীত মানেই মৃত ।
একমাত্র তোমাকেই তুমি মুহুর্তে করতে পারো উপলব্ধি
সময়- তোমার হাতের মুঠোয় ।
নিজেই নিজের ভক্ত হও , নিজেকে পরমগুরু মানো , দেখবে হাজারো কোটি তোমায় করছে অনুসরন ।
আশ্রয় খুজছো?
সবাই তোমায় ছেড়ে গেলেও কে এখনও তোমায় ছেড়ে যায় নি?
তুমিই শুধু নিজেকে ছেড়ে যাওনি, তোমার চেয়ে পরম নিরাপদ আশ্রয় আর নেই ।
১০০% দোষ মুক্ত কিছু খুজছো?
এ রকম কোন কিছু তুমি সংসারে কোথাও কোনদিন পাবেনা
তুমি শুধু নিজেকে দোষমুক্ত বিশুদ্ধ জেনো ।
নির্ভর করার মত কাউকে পাচ্ছো না?
সবাই তোমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করতে পারে , কিন্তু সত্যিই যদি তোমার নিজের ওপর নিজের আস্থা থাকে , তুমি নিজেই নিজের জন্যে যথেষ্ঠ ।
টিকে থাকার এই মহাসংগ্রামে শক্তিসালী কাউকে আশ্রয় করে বাচতে চাচ্ছো?
তোমার ৬২ কেজি শরীরটাকে কে সর্বোক্ষন বহন করে চলেছে? সংসারের ভি আই পি শক্তিসালী কেউ কি তোমাকে বহন করছে? না করছে না , তুমি নিজে ছাড়া আর কেউ তোমাকে বহন করছে না, অতএব তোমার চেয়ে শক্তিসালী কেউ নেই এই জগত সংসারে।নিজেই নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতায় হও বিনীত , নিজেকে নিজে ধন্যবাদ দাও যতটা পারো।

কাব্য রচনায়ঃ মোঃ আব্দুল গফুর রবিন
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:২৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×