কি করেছি, কি জেনেছি! কি শিখেছি!
সিয়াম সাধনার মাস হিসাবে আমরা জানি এ পবিত্র মাসে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়, সম্পূর্ণতাও লাভ করে এ মাসে। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবদ্দশায় প্রতি বছর রমজান মাসে কোরআন সম্পূর্ণ পাঠ করা হতো; নবুয়্যত প্রাপ্তির ২৩ বছরে শুধুমাত্র তাঁর মৃত্যুর আগের রমজান মাসে দুবার সম্পূর্ণ পাঠ করা হয়।
৪০ বছর স্বাভাবিক জীবন যাপনের পর হেরা পর্বতে নিরক্ষর একজনকে যখন বলা হয় "ইকরা", তিনি স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত উত্তর দেন, "মা-আনা বিকারি" "আমি পড়তে জানি না"। আবার বলা হল, ইকরা; তিনি একই উত্তর দিলেন। তৃতীয়বারে বলা হল, "Proclaim! (or read!) in the name of thy Lord and Cherisher, Who created......" তার পরের ঘটনা আমরা জানি। হেরা পর্বতে শুরু, তিনি তিন বছর শুধু বলে গেছেন, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন অংশীদার নেই। অনেকে পাগলও বলেছে; তাঁর কাজ তিনি করে গেছেন। কিন্তু আমাদের উপর যে দায়ভার ছিল/আছে; আমরা কি করেছি? আমরা কি করছি?
প্রথম নাযিল হওয়া আরবি "ইকরা" শব্দটির মানে শুধু পড়া নয়; Read, Proclaim, Recite, সেটা বোঝা, পালন করা এবং অন্যকে পড়তে উৎসাহী করা এ সবকিছু মিলে ইকরা শব্দটির সম্পূর্ণতা হবে।
আধুনিক যুগে ইসলাম:
আমাদের দেশে আধুনিকতা একটু অন্যরকম। বিশ্বের সকল দেশেই বেশীরভাগ মানুষ যথাসম্ভব তাদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করে। অন্যায় করে, পাপ করে তবু অদৃশ্য কোন শক্তিকে উপেক্ষা করতে পারে না। অনেক দেশের মতো আমাদের দেশের ধর্ম ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকরা ধর্মকে এমন স্থানে এনেছেন যে ইসলাম শুনলেই হয়তো কোন যুদ্ধাপরাধী ধর্ষণকারী বা বাংলা ভাইয়ের মত কোন চেহারা ভেসে উঠে। ধার্মিকরাও এর দায় অস্বীকার করতে পারবে না। কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা ধরেই নিয়েছেন ইসলামের সমালোচনা না করলে নাম করা যাবে না; সমালোচনা না করলে মৌন থাকতে হবে। অনেকের এমন প্রকাশভঙ্গী যে আল্লাহ নামটি ব্যবহার করলে শ্রেণীচ্যুত হবেন। কোন অবস্থা-সম্পন্ন পরিবারের সন্তান ধর্মীয়-শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে বা হবে এমন উদাহরণ দেখা যায় না। নিম্নবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্তদের সন্তানদের গন্তব্য মাদ্রাসা (এ শব্দটির বাংলা অর্থ স্কুল)। ইসলামকে গন্ডিবদ্ধ করা হয়েছে। ইসলাম নিয়ে যারা চিৎকার করে তারা নিজেরা সবচেয়ে বেশী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের সন্তানেরা সকলেই UK বা USA'তে শিক্ষিত হয়েছে আর বাংলার সন্তানদের রাজপথে নামানো হয়েছে।
শিক্ষিত সমাজের অনেকের কাছেই ধর্ম মানে অনগ্রসরতা, দু:খের সাথে বলতে হয় তসলিমা নাসরিন কেন হুমায়ুন আহমেদের মত জনপ্রিয় লেখকদের কাছেও ইসলাম ঠাট্টা করার বিষয়। সহজ-প্রাপ্য কিছু ভ্রান্ত সমালোচনা হস্তগত করে তারা জ্ঞানের পরিসরের পরিচয় দেয়। ধার্মিক, অধার্মিক, বক-ধার্মিক কতজন ইসলাম সম্পর্কে প্রকৃত অর্থে অবগত আছেন তার সংখ্যা না জানলেও খুব বেশী হবে না এটা নিশ্চিত। তাই সমালোচনাকে বিবেচনা করে কিছু বিষয়ের অবতারণা করতে চাই।
কোরআন কি নাযিল হয়েছে নাকি রচিত? রচয়িতা কি মুহাম্মদ (সঃ)?
এটা প্রতীয়মান যে কোরআন বর্তমান বাইবেলের ওল্ড-টেস্টামেন্ট এবং নিউ-টেস্টামেন্টের পরবর্তী রূপ। তবে তার কোনটিই কোরআনের মত মুসা(আঃ) বা যিশু(আঃ) এর জীবদ্দশায় রচিত হয়নি। নিউ-টেস্টামেন্টের সবচেয়ে আদি যে রূপ পাওয়া যায় তা যীশু খ্রিস্টের ২০০ বছর পরের এবং তা গ্রীক-আরামাইন ভাষায় রচিত; আমরা জানি যিশু খ্রিস্টের ভাষা ছিল হিব্রু। অনেক মুসলিমকেও বলতে শুনেছি কোরআন আর বাইবেল'তো প্রায় একই।
• প্রকৃত অর্থে এ দুটি এনসাইক্লোপিডিয়ার সাথে কোরআনের ঘটনাবলীর সামঞ্জস্য কোরআনের ১১৪ টি সুরা(অধ্যায়)র গড় হিসাবে ১০ থেকে ১৫টির সমপর্যায়ের হবে। উল্লেখ্য কোরআন নাযিল হবার পর থেকে নিউ টেস্টামেন্টের ৫টি মেজর রিভিশন হয়েছে। মাইনর নয় মেজর। এটি হয়েছে উচ্চ-পর্যায়ের পণ্ডিত ব্যক্তিত্বদের দ্বারা। মজার বিষয় প্রতিটি রিভিশনে বাইবেল কোরআনের সাথে দূরত্বের পরিবর্তে কাছাকাছি এসেছে। কোরআনের আদি সংস্করণ এখনও মিশর ও রাশিয়ায় আছে যার রূপ এখনও অবিকল। উদাহরণস্বরূপ নিউ-টেস্টামেন্টে যিশু-খ্রিস্টের দুটি বংশ পরিচয় দেয়া আছে; দুটিতে কিছু পার্থক্য থাকলেও একটি মিল তা হলো জোসেফের নাম। আমরা জানি এবং স্বীকার করি যিশু-খ্রিস্টের জন্ম অলৌকিকভাবে হয়েছে। বংশ-পরম্পরার সাথে জোসেফের সম্পর্ক কি? আল-কোরআনে যিশুর পরিচয় ঈশা ইবনে মরিয়ম।
• ঘটনাবলীর মিলের মধ্যে কোরআনের সাথে এরকম ৩০টির বেশী উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। প্রশ্ন হল কে নবী মুহাম্মদ (সঃ)কে সংশোধন করে দিয়েছে?
• অনুবাদের ইতিহাস দেখলে দেখতে পাই ওল্ড-টেস্টামেন্ট ১০০০ সালে এবং নিউ-টেস্টামেন্ট ১৬০০ সালে আরবি ভাষায় অনুদিত হয়েছে; কোরআনের ৩৫০/১০০০ বছর পর।
• বাইবেল সমগ্রের মূল রচয়িতা সর্বমোট ৪০ জন। প্রতিটি মেজর রিভিশনে ন্যূনতম ৩০জন বিশিষ্ট পণ্ডিতের মন্তব্য ও নির্দেশনা অনুসৃত হত। সর্বশেষ রিভিশনে ৩২জন পণ্ডিত এবং ৫০ চার্চের নোমিনেটেড ব্যক্তি ছিল। এর আকার সর্বাধিক ১৫ টি সুরার সমপর্যায়ের। কোরআনের ক্ষেত্রে একজন উম্মী (নিরক্ষর) এর মাধ্যম। তাদের ভাষায়, A One man job. (if at all!)
বাইবেলে A prophet to come প্রফেসি আলোচনা উহ্য রাখা হল।
• আমরা যদি কারও প্রশংসা করতে চাই তাকে কতটি বিশেষণে বিশেষিত করতে পারবো? ৫/৬ টি? করুণাময়, শক্তিমান, দানশীল কতটি? একজন পণ্ডিত ব্যক্তি যদি সারাদিন ভাবতে থাকে ১৫টি বিশেষণের বেশী খুঁজে পেতে কি অবস্থা হবে? কোরআনে সৃষ্টিকর্তার ৯৯টি Atribute আছে। কোনটি নাম নয় প্রশংসাবাচক/বিশেষণমূলক নাম এবং একটি Proper Noun "আল্লাহ"। দুটি নয় ১টি এবং ৯৯টি। সম্ভব? এ প্রসঙ্গে একজন পাদ্রী ও অনুবাদক (নাম মনে পড়ছে না) বলেন, "Though Muhammad authored the book, it is a miracle indeed."
• কোরআন কোন কবিতা নয়, কোন গল্প নয়। God's word কি? যে কোন গ্রন্থের একটি ধারাবাহিকতা থাকে। কোন ধর্মগ্রন্থ পড়লে মুখে God's word বললেও স্বীকার করতে হবে এটা লুক বলেছে বা জন, ম্যাথিউ বা X/Y/Z বলেছে। কোরআনের ক্ষেত্রে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ বলছেন/নির্দেশ দিচ্ছেন। এটি ধারাবাহিকভাবে নাযিল হয়নি এবং মুখস্থ করে রাখার প্রচলন তখন থেকে এখনও চলমান। অথচ এমন কোন আয়াত/বাক্য পাওয়া যাবেনা যা অন্যটির সাথে বিতর্কের সৃষ্টি করে। যখনই কেউ কোন প্রশ্ন তুলেছে তার উত্তর খুঁজতে যেয়ে কোরআনের সুনিপুনতা আরও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোরআন পৃথিবীর একমাত্র গ্রন্থ যেখানে সকল ভাষ্য সৃষ্টিকর্তার এবং যার সমতুল্য কোন গ্রন্থ নেই। উল্লেখ্য এ প্রসঙ্গে কোরআনে চ্যালেঞ্জও দেয়া হয়েছে।
• আজ যদি পৃথিবীর সকল গ্রন্থ কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধ্বংস-প্রাপ্ত হয় তবে একটি গ্রন্থই শুধু অবিকল উত্থাপন করা যাবে সেটি কোরআন।
• প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাভূত করার সহজ উপায় তাকে হেনস্তা করা। খ্রিস্টান ধর্ম মূলত ইসলামের প্রতিপক্ষ বা হুমকি যাই বলি, এটি মুহাম্মদ (সাঃ) এর অজানা ছিল না। তিনি যদি বলতেন, "কেউ পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করবে এটা কি বিশ্বাসযোগ্য"? যদি নিজে রচয়িতা হতেন তবে এই একটি বাক্য তার অনুসারীদের বললে পৃথিবীতে খ্রিস্টানদের হয়তো বাইবেল সংশোধন করে জন্মের বিষয়টি মুছে ফেলতে হত। অথচ তাঁর অলৌকিক জন্মকে স্বীকৃতি দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
• কাউকে যদি বিশ্বের সেরা নারীর উপাধি দেয়ার কথা বলা হয় সে নিজের মা, স্ত্রী বা কন্যা ছাড়া কারও কথা কি ভাববে? কোরআনে বলা হচ্ছে মরিয়ম (আঃ) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী! হযরত মুহাম্মদ (সঃ)এর মা, স্ত্রী বা কন্যা নয় ঈশা(আঃ) এর মা সেরা নারী! কেন?
• ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। কোরআনে কি বলা নেই? জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে, প্রার্থনা, দান, আইন, পরিবার, বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য, জীবন সংশ্লিষ্ট কোনটি অবশিষ্ট আছে এ কোরআনে? প্রত্যেকেই তার সৃষ্টির কৃতিত্ব চায়। ওল্ড-টেস্টামেন্টের কিছু অধ্যায়ের কথা বলা হয় মুসা(আঃ) রচিত। অথচ কোরআনের মত একটি গ্রন্থের রচনার দাবীদার মুহাম্মদ (সঃ) নয়! তিনি বলেছেন এটি আল্লাহর কালাম।
আল্লাহ'র বান্দা ও রাসুল
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে শুধু আল্লাহর বান্দা হিসাবে, প্রেরিত নবী ও রাসুল হিসাবেই অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং যতবার এ প্রসঙ্গ এসেছে বলা হয়েছে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক/অংশীদার নেই। ২৩ বছর নবুয়্যতের ১৩ বছরই তিনি আল্লাহর একত্ববাদের বাণী প্রচার করেছেন। এ কারণেই মুসা(আঃ) এর জুডিয়া এলাকার নামানুসারে জুডায়িজম, যীশু খ্রিস্টের নামানুসারে ক্রিশ্চিয়ানিটি হলেও মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুসারীদের মোহামেডান বানানোর চক্রান্ত সফল হয় নি। জুডায়িজমের মত যিশুর অনুসারীদের প্রারম্ভিকভাবে নাজারাথান/নাসারা বলা হলেও প্রতিপক্ষ তাদের নির্দিষ্ট করতো এভাবে যে এরা খ্রিস্টের উপাসক এরা ক্রিশ্চিয়ান। তাদের কেউই তাদের জীবদ্দশায় জুডায়িজম বা ক্রিশ্চিয়ানিটি বা মোহামেডান নাম শোনেন নি। ব্যতিক্রম রাসুল (সাঃ) কারণ তিনি কোরআনের অনুসরণে নির্দিষ্ট করে গেছেন, এটা ইসলাম যা তাঁর পূর্ববর্তী নবী/রাসুলগণেরও ধর্ম ছিল এবং আমরা মুসলিম।
আমরা এভাবে অনেক প্রসঙ্গের অবতারণা করতে পারি যা কোরআন তথা ইসলামকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে।
আমরা কোথায় আছি? আমরা কি আদৌ মুসলিম হবার যোগ্য?
কোরআনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আল্লাহর একত্ববাদে, যে গুনাহের ক্ষমা নেই। আমরা এখন শাব্দিক অর্থে কত ঈশ্বরের পূজারী? আমরা টাকা উপার্জনের জন্য টাকাকে ঈশ্বরের সম-গুরুত্ব দিয়ে শিরক করছি, আমরা নামের জন্য সুনামকে ঈশ্বরের সম-গুরুত্ব দিয়ে শিরক করছি, আমরা ক্ষমতার জন্য অনৈতিকতাকে ঈশ্বরের সম-গুরুত্ব দিয়ে শিরক করছি, ইসলামের নামে কেউ ভণ্ডামি করছি কেউ ইসলাম নিয়ে ব্যবসা করছি। যে মূল চেতনা নিয়ে ইসলামের বিকাশ ঘটেছে সে চেতনার অবক্ষয় ঘটেছে। আমরা নামায, রোজা যদি করে থাকি তবে সেটাও একান্তই নিজের জন্য। নিজের মোক্ষের জন্য।
আল-কোরআনে দেড়-শতাধিক-বারের বেশী বলা হয়েছে "কুল" "বল", আমরা কিছু বলি নি। বলা হয়েছে, "জানো, যদি না জান যে জানে তার কাছ থেকে জানো"; আর আমরা ৫টি মোমবাতি মানত করেছি। আমরা কতজন ঠিক মত যাকাত দেই? দুইবার হজ্জ করলে বেশী সওয়াব হবে কিনা তার উত্তর খুঁজে পাইনি, রাসুল(সাঃ) নিজে একবার হজ্জ করেছেন জানি; কিন্তু রাজনীতির জন্য আলহাজ্জ্ব টাইটেল না থাকলে মনে হয় ভোট পাওয়া যায় না।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সম্পূর্ণ জীবনের পরতে পরতে শুধু ক্ষমা, উদারতা আর শান্তির দৃষ্টান্ত। এখন ইসলাম মানে জেহাদি সন্ত্রাসী। আমরা হয়তো জানিই না নবী (সাঃ) মায়ের সেবা করাকে'ও জেহাদ বলেছেন। বলা হয়েছে কোন মুসলিম যেন কারও ক্ষতিসাধন না করে, যুদ্ধক্ষেত্রেও যেন শিশু ও নারীরা হত্যা নির্যাতনের শিকার না হয়। আমরা ইসলামের নামে ধর্ষণ করি। বলা হয়েছে, যে মুসলিমের হাত থেকে তার প্রতিবেশী/মুসলিম নিরাপদ নয় সে রাসুলের অনুসারী নয়, আমরা নিজেরা নিজেদের নিধনে বা ক্ষতিসাধনেই বেশী ব্যস্ত ছিলাম।
আমরা ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী বোঝার চেষ্টা করিনি, কখনো প্রচার করিনি। আমরা ইসলামকে শুধু ব্যবহার করেছি। স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশের এক বছর পর নির্বাচনের আগে খোমেনী রুশদীর মাথার মূল্য নির্ধারণ করে। এক বছরে কোন শব্দ করেনি। আমরা ইসলামের নামে বড় বড় কথা বলি, মাদ্রাসা খুলি, নিজেদের সন্তানকে ইসলামী শিক্ষায় মানুষ করাকে হীন বলে মনে করি। একদল অশিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিতের হাতে ইসলাম কেন, কিছুই নিরাপদ থাকতে পারে না। এ নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমরা দায়ী। আমরা আমাদের দায়ভার কোনদিন অস্বীকার করতে পারবোনা। আমি এখন লিখছি কিছুক্ষণ পরে ভুলে যাব কি লিখেছি। আমাদের অকৃতজ্ঞতা, সত্যানুসন্ধানী না হওয়া, সরল-সহজ পথের অনুসারী না হবার অপরাধ ক্ষমার যোগ্য নয়। জানি না পরম করুণাময় ক্ষমা করবেন কি-না!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



