ব্যাঙ্গের ছাতা কি সরকারের অনুমতি ছাড়াই গড়া যায়? যদি ব্যাঙ্গের ছাতা সমর্থনই না করেন, তাহলে অনুমতি দেন কেন? ভ্যাট দেওয়া বা কর কিভাবে কোন কিছুর "মান" বৃদ্ধি করে? বয়সের সাথে সাথে আপনাদের কথা আর চিন্তাতেও তো জং ধরেছে দেখি!
ধরেন, যারা গুলশান-বারিধারার আলিশান বাংলোতে থাকে, সবরকম বিলাসিতা নিজের টাকায় ভোগ করে, তারা সরকারকে নানারকম কর দেয়, কারণ তারা উচ্চমানের জীবনযাপন করে, আর সামনেও এরকম সুবিধা ভোগ করে যেতে চান বলেই কর দেন!
যারা কমলাপুরের বস্তিতে থাকে, তারা কি কর দেয়? না দেয় না। তারা অন্যের জায়গায়, অবৈধভাবে, নিজেরা পলিথিন/বেড়ার একরুমের ঘর বানিয়ে, সবরকম স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুবিধাবিবর্জিতভাবে বসবাস করে। তাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য নেই, কর দেওয়া নাগরিকের সুবিধাও তারা পায় না!
এখন, পাবলিক ভার্সিটিগুলোর পেছনে শত শত কোটি টাকা খরচ করা হয়, কারণ সেখানকার শিক্ষার্থীদের প্রায় বিনাখরচেই উচ্চশিক্ষার সব ডিগ্রি দেওয়া হয়! তাদেরকে কোন করও দিতে হয় না। অথচ করের বিপরীতে সরকার ভোক্তাদের যেসব সুবিধা দেন, সবই তারা ভোগ করে এসব রাজসিক বিনামূল্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
৮ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পাস করিয়ে ১ লাখেরও কম পাবলিক ভার্সিটির সিটের যোগান দিয়ে সরকার খালাস! প্রাইভেট ভার্সিটি ও মেডিকেলগুলো #নানারকমের বেতন, শিক্ষাপদ্ধতি, পরীক্ষাপদ্ধতি, অবকাঠামো, আর আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নিয়ে ৭ লাখ উদ্বাস্তুকে জায়গা দেয়। এদের মধ্যে কয়েকটাতে আসলেই অতিউচ্চবিত্তপর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পড়ে; যাদের অধিকাংশই আমলা-শিল্পপতি-রাজনীতিজীবিদের সন্তান। নীতিনির্ধারকদের চেনাশোনা জগতের পরিবারের মানুষেরাই ওসব ফাইভ-স্টার ভার্সিটিতে পড়তে পারে; তাই তারা তাদের উদাহরণ দিয়েই যাচ্ছে। অথচ, বাকি ভার্সিটিগুলোর শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটা জমকালো না। তারা সরকারী বা বেসরকারী কোন সুযোগ-সুবিধা পায় না; কেন তারা কর দিবে?! তাদের শিক্ষাখরচ, ক্রমবর্ধমান জীবনধারণের খরচ বহন করতেই নাভিশ্বাস উঠে যায়। কোথায় তাদের ছাত্র হিসেবে বসবাস বা যাতায়াতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, কোথায় মান বৃদ্ধির জন্য কিছু ভার্সিটিকে সাহায্য/চাপ প্রয়োগ করা হবে- তা না; বরং ভ্যাট আরোপিত হল!!
ভ্যাট কিভাবে ব্যাঙ্গের ছাতাকে সিংহের গুহায় পরিণত করবে? সেগুলো তো বরং উই-এর ঢিবিতে রূপান্তরিত হবে!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



