somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি বাংলা স্যাহিত্যে

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্রিটিশ আমলে উপমহাদেশে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের ফলে যে জাতিয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল, তার এই ধারাবাহিকতায় উপমাহাদেশে গড়ে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনীতি, স্ব স্ব জাতির জাতিয়তাবাদ। বঙ্গ কখন এই স্রোতের বাহিরে ছিল না। এই সময় বঙ্গের অনেকই স্ব স্ব প্রতিভায় বিকশিত ছিলেন। তাদের এই মারাত্মক প্রতিভার বিকশিত হয়ে ছিল ভাষা আন্ধোলন, স্বাধীনতার যুদ্ধে তাদের লিখনিতে। যার অন্যতম প্রভাবক ছিল জাতিয়তাবধের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলা স্যাহিত্যর একটি পরিপূর্ণ ভাণ্ডার।
ভাষা আন্দোলনের কে ভিত্তি করে বাংলা স্যাহিত্যর গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও তাদের কর্ম সমূহ।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে সালাম, বারকত, রফিক, জাব্বার নিহত হওয়ার প্রতিবাদে কবি মাহবুব উল আলম তাৎক্ষণিক লিখেন তার অমর কবিতা “কাঁদিতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি”। এটি প্রথম কোন স্যাহিত্য কর্ম ভাষা আন্দোলনের পটভূমি নিয়ে লিখা। বাঙালি জাতিয়তাবাদের চেতনার মূর্ত প্রতীক অথবা বলা যায় তীব্র বহিঃপ্রকাশ।

“ কাঁদিতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি”
মাহবুব উল আলম

“এখানে যারা প্রান দিয়েছ
রমনার ঊর্দ্ধমূখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
সেখানে আমি দাঁড়িয়ে কাঁদতে আসিনি
আজ আমি শোক বিহ্বল নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।”

শহিদের স্মরণে ২৪শে ফেব্রুয়ারী শহিদ মিনার মিনার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ২৬শে ফেব্রুয়ারী পুলিশ ও সেনাবাহিনী স্মৃতি স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেলে। এর প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আল আজাদের “স্মৃতিস্তম্ভ” যেন প্রতিবাদের সোচ্চার বানী।
“স্মৃতি মিনার ভেঙ্গেচে তোমরা ? ভয় কি বন্ধু , আমার এখনো চার কোটি
পরিবার খাঁড়া রয়েছি তো। যে ভিত কখনো কোন রাজন্য
পারেনি ভাঙতে।”
হাসান হাফিজুর রাহমান ২১শের ঘটনাকে অবলম্বন করে লিখেছেন তিনটি কবিতা “ফেব্রুয়ারি আমার ঢাকা”, “মিছিলের একমুখ”, “অমর একুশ”। ভাষা আন্দোলনের ১ম বর্ষ পূর্তিতে হাসান হাফিজুর রাহমান সম্পাদিত “ একুশে ফেব্রুয়ারী ” সংকলন গ্রন্থে স্থান পেয়েছে পাঁচটি গল্প।
এই সংকলন গ্রন্থ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত গল্প সমূহ শওকত ওসমানের (মৌন), অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের (দৃষ্টি), সাইয়িদ আতিকুল্লা, সিরাজুল ইসলামের(পলিমাটি) এবং আতিয়ার রাহমানের (অগ্নিবাক)।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ “মাগো ওরা বলে” আমার সবচেয়ে ভাল লাগার কবিতা।
মাগো ওরা বলে
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
“ কুমড়ো ফুল
শুকিয়ে গেছে
ঝরে পড়েছে ডাঁটা
পুইলতাটা নেতানো?
খোকা এলি?
ঝাপসা চোখে মা তাকায়
উঠোনে উঠোনে
যেখানে খোকার শব
শকুনিরা ব্যবচ্ছেদ করে ”
২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কবিতা লিখেছেন শামসুর রাহমান (শহিদ মিনারে কবিতা পাঠ), মহাদেবে সাহার (একুশের গান), আবদুল লতিফ(একুশের গানের), আবদুল গাফফার চৌধুরী (আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো, সুরকারঃ আলতাফ মাহমুদ , ১২টি ভাষায় আনূদিত ) এবং ফজলে লোহানির (একুশের কবিতা), আল মাহমুদের(একুশের ছড়া)।
বাঙালি চেতনার জাগরন শুদু কবিতা সীমাবদ্ধ ছিল না তা ছড়িয়ে পড়ে ছিল গল্পেও। জহির রায়হানের “একুশের গল্প, ১৯৬৯” , সরদার জায়েন উদ্দিন “খ্ররসোত”, শহিদুল্লা কায়সারে “ এমনি করে গড়ে ওঠবে” , সৈয়দ সামসুল হকের “আরেক জন”
প্রথম উপন্যাস লিখেন জহির রায়হান আরেক ফাল্গুন(১৯৬৯), ১৯৫৫ সালে ভাষা আন্দোলন উদযাপন বাঁধা দেওয়াকে উপজীব্য করে লিখা। তারপরে লিখেছেন শওকত ওসমান “আর্তনাদ”, সেলিনা রাহমান লিখেছেন “যাপিত জিবনের কথা, নিরন্তর ঘণ্টা ধ্বনি” ।
নাটকের সর্ব প্রথম মুনীর চৌধুরী কথা স্মরন করতে হয় তার অমর কীতি “কবর” নাটকের জন্য। ১৯৫৩ জেলে বসে তিনি এই অমর কৃীতি লিখেন। এই নাটকের চরিএ গুলো হল সরকার পক্ষের নেতা, গার্ড, হাফিজ, আর নিজস্ব ভাষার পক্ষে মুর্দা ফকির, ছাত্র, কেরানি । আরেকটি নাটকের নাম হল মমতাজ উদ্দিনের “বিবাহ”।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:০২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×