আমাদের সবার জীবনেরই আছে এমন একটা ধারা। এক সময় জন্ম, তারপর শৈশব, কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব ও বৃদ্ধাবস্থা, যা কখনো কখনো শৈশবের চেয়েও করুণ পরিণতির মুখোমুখি করে দেয় ব্যক্তিকে। তারপর আসে বিদায় নেয়ার পালা। অবশ্য সব জীবনই এ ধারাবাহিকতার সবগুলো ধাপ অতিক্রম করার সুযোগ পায়না। আমাদের কাউকে কাউকে জন্মলগ্নেই, কাউকে শৈশবে, কাউকে কৈশোরে, কাউকে যৌবনেই বিদায়ের পালা পাড়ি দিতে হয়।
জীবন এমনই। জীবনের যিনি স্রষ্টা তিনিই এর শুরু এবং শেষের পরিকল্পনাকারী। এসব তাঁর প্রজ্ঞাধীন। তিনি জীবনের এ চক্র সম্পর্কে বলেছেন, “তাহলে তোমরা জেনে রাখো আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি ধূলিকণা থেকে, তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর গোশতের টুকরা থেকে যা আকৃতি বিশিষ্টও হয় আবার আকৃতি বিহীনও হয়। এটা আমরা জানাচ্ছি প্রকৃত ব্যাপার সুস্পষ্ট করে বিবৃত করার জন্য। আমরা যে শুক্রকে চাই গর্ভাশয়ে তাকে বিশেষ কিছু সময়ের জন্য স্থিত করে রাখি, তারপর একটা শিশুর আকারে তোমাদের বের করে আনি, (তারপর তোমাদের প্রতিপালন করি) যাতে করে তোমরা পূর্ণ যৌবনে পৌঁছে যাও। আবার কাউকে কাউকে তারপূর্বেই ফিরিয়ে নেয়া হয়। আর কাউকে কাউকে বয়সের এমন হীনতম অবস্থায় পৌঁছানো হয় যাতে সব কিছু জানার পরও আবার সে না জানার পর্যায়ে পৌঁছে যায়”। (সূরা আল-হাজ্জ; ২২/৫)
কেন তিনি জীবন মৃত্যুর অবস্থা সৃষ্টি করেছেন? তিনি বলেছেন, “বরকতময় সে সত্ত্বা যাঁর হাতে রয়েছে সার্বভৌম সাম্রাজ্য, এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু এবং জীবন, যাতে করে তোমাদের মাঝে কারা ভালো কাজ করেছে সে বিষয়ে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন”। (সূরা আল-মুল্ক্; ৩০/১-২)
অনাদি কাল থেকেই চলছে জীবন-মরণের এ চক্র। এ থেকে বেরিয়ে যাবার কোন পন্থা কেউ আজো বের করতে পারেনি। তাই জীবনের সার্থকতা শুধু ভাল কাজ করার মাঝেই নিহিত। আসুন আমরা ভালকাজে মনোনিবেশ করে সার্থকতার আশা পোষণ করি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


