somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামীহাহ্‌র বেড়ে উঠা

০১ লা জুলাই, ২০০৭ ভোর ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার মেয়ে সামীহাহ্‌! দেখতে দেখতে বড় হয়ে যাচ্ছে, মাশা’আল্লাহ্‌। কদিন বাদে ও ৬ বছর হয়ে যাবে। এই সেদিন সে স্কুলে [প্রি-কিন্ডারগার্টেন] যেতে শুরু করে। আর ২৫ জুন সে কিন্ডারগার্টেন গ্রাজুয়েশন করলো। আমি তার গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি বলে তার মন খারাপ - অনুষ্ঠানের সময়ে আমার পেশাগত দায়িত্ব থাকায় আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সে এখন অভিমান করা শিখেছে। সে আরেকটু যখন বড় হবে তখন মান-অভিমানের আরো অনেক ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাবে, তার প্রয়োজন বাড়বে, চাহিদা বাড়বে, সামাজিক পরিমণ্ডল প্রসারিত হবে, জীবনে নতুন উপলব্দির উদয় ঘটবে। বাহ্যিকভাবে অন্তত বাবা-মায়ের ভুমিকা হয়ে পড়বে অনেকটা গৌণ। তার নিজের সংসার হবে, দায়িত্ব বাড়বে, প্রৌঢ়ত্ব পাড়ি দিয়ে হয়তো বুড়োও হবে। তারপর বিদায় নেয়ার পালা।

আমাদের সবার জীবনেরই আছে এমন একটা ধারা। এক সময় জন্ম, তারপর শৈশব, কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব ও বৃদ্ধাবস্থা, যা কখনো কখনো শৈশবের চেয়েও করুণ পরিণতির মুখোমুখি করে দেয় ব্যক্তিকে। তারপর আসে বিদায় নেয়ার পালা। অবশ্য সব জীবনই এ ধারাবাহিকতার সবগুলো ধাপ অতিক্রম করার সুযোগ পায়না। আমাদের কাউকে কাউকে জন্মলগ্নেই, কাউকে শৈশবে, কাউকে কৈশোরে, কাউকে যৌবনেই বিদায়ের পালা পাড়ি দিতে হয়।

জীবন এমনই। জীবনের যিনি স্রষ্টা তিনিই এর শুরু এবং শেষের পরিকল্পনাকারী। এসব তাঁর প্রজ্ঞাধীন। তিনি জীবনের এ চক্র সম্পর্কে বলেছেন, “তাহলে তোমরা জেনে রাখো আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি ধূলিকণা থেকে, তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর রক্তপিণ্ড থেকে, তারপর গোশতের টুকরা থেকে যা আকৃতি বিশিষ্টও হয় আবার আকৃতি বিহীনও হয়। এটা আমরা জানাচ্ছি প্রকৃত ব্যাপার সুস্পষ্ট করে বিবৃত করার জন্য। আমরা যে শুক্রকে চাই গর্ভাশয়ে তাকে বিশেষ কিছু সময়ের জন্য স্থিত করে রাখি, তারপর একটা শিশুর আকারে তোমাদের বের করে আনি, (তারপর তোমাদের প্রতিপালন করি) যাতে করে তোমরা পূর্ণ যৌবনে পৌঁছে যাও। আবার কাউকে কাউকে তারপূর্বেই ফিরিয়ে নেয়া হয়। আর কাউকে কাউকে বয়সের এমন হীনতম অবস্থায় পৌঁছানো হয় যাতে সব কিছু জানার পরও আবার সে না জানার পর্যায়ে পৌঁছে যায়”। (সূরা আল-হাজ্জ; ২২/৫)

কেন তিনি জীবন মৃত্যুর অবস্থা সৃষ্টি করেছেন? তিনি বলেছেন, “বরকতময় সে সত্ত্বা যাঁর হাতে রয়েছে সার্বভৌম সাম্রাজ্য, এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু এবং জীবন, যাতে করে তোমাদের মাঝে কারা ভালো কাজ করেছে সে বিষয়ে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন”। (সূরা আল-মুল্‌ক্‌; ৩০/১-২)

অনাদি কাল থেকেই চলছে জীবন-মরণের এ চক্র। এ থেকে বেরিয়ে যাবার কোন পন্থা কেউ আজো বের করতে পারেনি। তাই জীবনের সার্থকতা শুধু ভাল কাজ করার মাঝেই নিহিত। আসুন আমরা ভালকাজে মনোনিবেশ করে সার্থকতার আশা পোষণ করি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০০৭ রাত ৩:৫৬
১০টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কারণে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনার ঘরেই উঠবে B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪



কারণ আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত, মেসি-মার্তিনেজরা অপ্রতিরোধ্য। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচেই একছত্র আধিপত্য দেখিয়ে জয়লাভ করে প্রবল বেগে ফাইনালের দিকে ধ্বাবিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে গতবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানে দরীদ্রদের হাতে নগদ টাকা পৌঁছানোর নীতি বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭



ইরানের ২০১০ সালে প্রবর্তিত 'টার্গেটেড ক্যাশ ট্রান্সফার' বা সরাসরি গরিবের হাতে নগদ টাকা পৌঁছানোর নীতিটি বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সাহসী পরীক্ষা হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪



হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×