somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রংনম্বার Part 1

০৭ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনিরুদ্ধের মোবাইল বেজে উঠল ফোনটা তুলে নিয়ে দেখলো একটা অচেনা নাম্বার । হ্যলো বলতেই অন্যপ্রান্ত থেকে একটা মিষ্টি কন্ঠস্বর ভেসে এল,
“হ্যলো তনিমা আছে ?” অনিরুদ্ধের বুঝতে অসুবিধা হোলনা যে এটা রং নাম্বার, ফোনের গলাটা এতই মিষ্টি অনিরুদ্ধ কথা চালিয়ে যাবার জন্য বললো “ না মানে ও তো একটু বেরিয়েছে মোবাইলটা ফেলে গেছে ফিরলে কি বলবো ? ” ফোনের ও প্রান্তর কন্ঠস্বর বল্লো “ ও আচ্ছা ঠিক আছে ও এলে বলবেন রমা ফোন করেছিল ” তারপর ফোনটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল । অনিরুদ্ধ কিছুতেই গলাটা ভুলতে পারেনা, মেয়েটার নাম জানে, মোবাইল নং জানে ,আর জানে মেয়েটার গলা খুব মিষ্টি । দুদিন পর অনিরুদ্ধ রমার নাম্বারে কল করলো
“হ্যলো রমা বলছেন ? আমি অনিরুদ্ধ ” রমা বল্লো “কে অনিরুদ্ধ ?” অনিরুদ্ধ বললো “ প্রথমেই বলি আমি অত্যন্ত দুঃখিত সেদিন আপনাকে মিথ্যে হয়রানী করার জন্য ” তারপর অনিরুদ্ধ পুরো ব্যপারটা রমাকে বুঝিয়ে বলার পর রমাতো প্রথমে বেশ রেগেই গেল, পরে অবস্য রাগ টাগ ভুলে হেসেই ফেললো । পরদিন রমা নিজেই ফোন করলো বেশ অনেক কথাই হল ।
এখন রোজ নিয়ম করে অনিরুদ্ধ একবার সকালে আর রাতে ফোন করে, রমা অবশ্য রোজ না হলেও এক দুদিন ছাড়া দুপুরের দিকে ফোন করে। আপনি ছেড়েছে দুজনেই এখন তুমি তুমি সম্পক । অনিরুদ্ধ রমার দেখা হয়নি এখনও, নাইবা হোক দেখা তবু কোথাও যেন প্রেম বাসা বেঁধেছে । একদিন ঠিক হল অফিস ছুটির পর কফি হাউসে দেখা করবে, কিন্তু দুপুরে রমা ফোন করে বললো “ আজ হবেনা বুঝলে মায়ের হঠাৎ শরীর খারাপ এখনি দেশের বাড়ি যেতে হবে ” অনিরুদ্ধর মন খুব খারাপ হয়ে গেল ছয় মাস রমার সাথে ওর সম্পক একদিন ও দেখা করতে পারলো না । রমা থাকে গড়িয়ায় একটা মেসএ ঠিকানা ও জানে অনিরুদ্ধ ,কিন্তু মহিলাদের মেস হুট করে চলে যাওয়াটা ঠিক হবে না ভেবে যায়নি কোনদিন।
পরদিন ফোন এলোনা রমার ,অনিরুদ্ধ সকাল থেকে কয়েকবার ট্রাই করেছে কিছুতেই ফোন লাগছে না । রমা অবশ্য বলেছিল ওর দেশের বাড়ীতে নেটওয়াক এর একটু সমস্যা আছে , কিন্তু ও তো জানে অনিরুদ্ধ চিন্তা করবে ।
পাঁচ দিন কেটে গেল কোনো খবর নেই রমার ,মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে একবার শেষ চেষ্টা করবে ,তারপর না হয় গড়িয়ার মেসে যোগাযোগ করে রমার দেশের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে সেখানেই যাবে এমনটাই ভাবলো অনিরুদ্ধ । রমার নাম্বারে ডায়াল করতেই রিং হচ্ছে ...উফঃ বাঁচলো অনিরুদ্ধ, রমা তাহলে ফিরেছে আজ অনিরুদ্ধ বলবেই তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকা আমার পক্ষে অসম্ভব, ফোন বেজে চলেছে “হ্যলো কে ?” ওপ্রান্তে এক পুরুষের গলা । অনিরুদ্ধ বললো “রমাকে একটু ফোনটা দিননা ?” ফোনের ও প্রান্ত থেকে ভেসে এলো “আপনি বোধহয় ভুল নম্বর ডায়েল করেছেন, কারন রমা বলে এখানে কেউ থাকেনা ” ফোনটা কেটে দিলেন ভদ্রলোক। অনিরুদ্ধর শরীর অবস হয়ে আসছে আবার সে রমার নম্বর ডায়াল করল সেই ভদ্রলোক ফোন ধরে বেশ ঝাঁঝের সঙ্গেই বললো “আপনি কি বাংলা ভাষা বোঝেন না? বলছি তো রমা টমা বলে কেউ থাকে না এখানে” অনিরুদ্ধ খুব ঠান্ডা মাথায় বললো “ আপনাকে বিরক্ত করার ইচ্ছে আমার নেই আসলে ৯৬৮১২৩৫৭৫৭ এই নাম্বারে গত ছয় মাস যাবৎ আমি রমার সাথে কথা বলে আসছি তাই আজ ওকে খুঁজছি এই নম্বরে” ভদ্রলোক বললেন “সবই তো বুঝলাম কিন্তু আমার নাম অনন্ত সোম পেশায় অধ্যাপক আর গত পাঁচ বছর ধরে ৯৬৮১২৩৫৭৫৭ নম্বরটি ব্যবহার করি আর কিছু সাহায্য লাগলে বলবেন” উনি ফোন রেখে দিলেন । অনিরুদ্ধ কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা ,হঠাৎ মনে হল ভদ্রলোক ঠিক বলছে কিনা যাচাই করা উচিত, অনিরুদ্ধর এক বন্ধু টেলিকম এ চাকরী করে বেশ উচু পোস্ট ,ওকে বললে কাজ হবে। অনিরুদ্ধ সেই বন্ধু কে রমার নম্বর দিয়ে বললো একটু যাচাই করতে । আধ ঘন্টা পর সেই বন্ধু ফোন করে যা বললো তাতে অনিরুদ্ধর যেন শরীর আর মন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, ভদ্রলোক যা যা বলেছিলেন অনিরুদ্ধকে ফোনে, মিলে গেল ওর বন্ধুর কথার সঙ্গে । বিকেলে গড়িয়ার মেসের ঠিকানায় অনিরুদ্ধ গিয়ে যা শুনলো তাতে অনিরুদ্ধর হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল, মেসের মালকানী বললেন ছয়মাস আগে রমা বলে একটি মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল সেই থেকে মেস খালি, নতুন কেউ আসলে দুদিন থেকেই ভয়ে পালিয়ে যায়।
অনিরুদ্ধ তার মোবাইল এর ইনবক্স এ রমার পাঠানো এস এম এস গুলো খুঁজতে লাগলো একি?.... এস এম এস গুলো কেউ যেন নিপুণ হাতে ডিলিট করে দিয়েছে ।


ভালো লাগলে পরেরটুকু দেব


সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৩:৪২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন মরুঝড়: রেড নোটিশের খোঁজে আরিয়ান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৬



দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচের বিলাসবহুল পেন্টহাউসের কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের কৃত্রিম দ্বীপগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলেন সায়েম চৌধুরী। একসময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×