অনিরুদ্ধের মোবাইল বেজে উঠল ফোনটা তুলে নিয়ে দেখলো একটা অচেনা নাম্বার । হ্যলো বলতেই অন্যপ্রান্ত থেকে একটা মিষ্টি কন্ঠস্বর ভেসে এল,
“হ্যলো তনিমা আছে ?” অনিরুদ্ধের বুঝতে অসুবিধা হোলনা যে এটা রং নাম্বার, ফোনের গলাটা এতই মিষ্টি অনিরুদ্ধ কথা চালিয়ে যাবার জন্য বললো “ না মানে ও তো একটু বেরিয়েছে মোবাইলটা ফেলে গেছে ফিরলে কি বলবো ? ” ফোনের ও প্রান্তর কন্ঠস্বর বল্লো “ ও আচ্ছা ঠিক আছে ও এলে বলবেন রমা ফোন করেছিল ” তারপর ফোনটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল । অনিরুদ্ধ কিছুতেই গলাটা ভুলতে পারেনা, মেয়েটার নাম জানে, মোবাইল নং জানে ,আর জানে মেয়েটার গলা খুব মিষ্টি । দুদিন পর অনিরুদ্ধ রমার নাম্বারে কল করলো
“হ্যলো রমা বলছেন ? আমি অনিরুদ্ধ ” রমা বল্লো “কে অনিরুদ্ধ ?” অনিরুদ্ধ বললো “ প্রথমেই বলি আমি অত্যন্ত দুঃখিত সেদিন আপনাকে মিথ্যে হয়রানী করার জন্য ” তারপর অনিরুদ্ধ পুরো ব্যপারটা রমাকে বুঝিয়ে বলার পর রমাতো প্রথমে বেশ রেগেই গেল, পরে অবস্য রাগ টাগ ভুলে হেসেই ফেললো । পরদিন রমা নিজেই ফোন করলো বেশ অনেক কথাই হল ।
এখন রোজ নিয়ম করে অনিরুদ্ধ একবার সকালে আর রাতে ফোন করে, রমা অবশ্য রোজ না হলেও এক দুদিন ছাড়া দুপুরের দিকে ফোন করে। আপনি ছেড়েছে দুজনেই এখন তুমি তুমি সম্পক । অনিরুদ্ধ রমার দেখা হয়নি এখনও, নাইবা হোক দেখা তবু কোথাও যেন প্রেম বাসা বেঁধেছে । একদিন ঠিক হল অফিস ছুটির পর কফি হাউসে দেখা করবে, কিন্তু দুপুরে রমা ফোন করে বললো “ আজ হবেনা বুঝলে মায়ের হঠাৎ শরীর খারাপ এখনি দেশের বাড়ি যেতে হবে ” অনিরুদ্ধর মন খুব খারাপ হয়ে গেল ছয় মাস রমার সাথে ওর সম্পক একদিন ও দেখা করতে পারলো না । রমা থাকে গড়িয়ায় একটা মেসএ ঠিকানা ও জানে অনিরুদ্ধ ,কিন্তু মহিলাদের মেস হুট করে চলে যাওয়াটা ঠিক হবে না ভেবে যায়নি কোনদিন।
পরদিন ফোন এলোনা রমার ,অনিরুদ্ধ সকাল থেকে কয়েকবার ট্রাই করেছে কিছুতেই ফোন লাগছে না । রমা অবশ্য বলেছিল ওর দেশের বাড়ীতে নেটওয়াক এর একটু সমস্যা আছে , কিন্তু ও তো জানে অনিরুদ্ধ চিন্তা করবে ।
পাঁচ দিন কেটে গেল কোনো খবর নেই রমার ,মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে একবার শেষ চেষ্টা করবে ,তারপর না হয় গড়িয়ার মেসে যোগাযোগ করে রমার দেশের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে সেখানেই যাবে এমনটাই ভাবলো অনিরুদ্ধ । রমার নাম্বারে ডায়াল করতেই রিং হচ্ছে ...উফঃ বাঁচলো অনিরুদ্ধ, রমা তাহলে ফিরেছে আজ অনিরুদ্ধ বলবেই তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকা আমার পক্ষে অসম্ভব, ফোন বেজে চলেছে “হ্যলো কে ?” ওপ্রান্তে এক পুরুষের গলা । অনিরুদ্ধ বললো “রমাকে একটু ফোনটা দিননা ?” ফোনের ও প্রান্ত থেকে ভেসে এলো “আপনি বোধহয় ভুল নম্বর ডায়েল করেছেন, কারন রমা বলে এখানে কেউ থাকেনা ” ফোনটা কেটে দিলেন ভদ্রলোক। অনিরুদ্ধর শরীর অবস হয়ে আসছে আবার সে রমার নম্বর ডায়াল করল সেই ভদ্রলোক ফোন ধরে বেশ ঝাঁঝের সঙ্গেই বললো “আপনি কি বাংলা ভাষা বোঝেন না? বলছি তো রমা টমা বলে কেউ থাকে না এখানে” অনিরুদ্ধ খুব ঠান্ডা মাথায় বললো “ আপনাকে বিরক্ত করার ইচ্ছে আমার নেই আসলে ৯৬৮১২৩৫৭৫৭ এই নাম্বারে গত ছয় মাস যাবৎ আমি রমার সাথে কথা বলে আসছি তাই আজ ওকে খুঁজছি এই নম্বরে” ভদ্রলোক বললেন “সবই তো বুঝলাম কিন্তু আমার নাম অনন্ত সোম পেশায় অধ্যাপক আর গত পাঁচ বছর ধরে ৯৬৮১২৩৫৭৫৭ নম্বরটি ব্যবহার করি আর কিছু সাহায্য লাগলে বলবেন” উনি ফোন রেখে দিলেন । অনিরুদ্ধ কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা ,হঠাৎ মনে হল ভদ্রলোক ঠিক বলছে কিনা যাচাই করা উচিত, অনিরুদ্ধর এক বন্ধু টেলিকম এ চাকরী করে বেশ উচু পোস্ট ,ওকে বললে কাজ হবে। অনিরুদ্ধ সেই বন্ধু কে রমার নম্বর দিয়ে বললো একটু যাচাই করতে । আধ ঘন্টা পর সেই বন্ধু ফোন করে যা বললো তাতে অনিরুদ্ধর যেন শরীর আর মন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, ভদ্রলোক যা যা বলেছিলেন অনিরুদ্ধকে ফোনে, মিলে গেল ওর বন্ধুর কথার সঙ্গে । বিকেলে গড়িয়ার মেসের ঠিকানায় অনিরুদ্ধ গিয়ে যা শুনলো তাতে অনিরুদ্ধর হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল, মেসের মালকানী বললেন ছয়মাস আগে রমা বলে একটি মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল সেই থেকে মেস খালি, নতুন কেউ আসলে দুদিন থেকেই ভয়ে পালিয়ে যায়।
অনিরুদ্ধ তার মোবাইল এর ইনবক্স এ রমার পাঠানো এস এম এস গুলো খুঁজতে লাগলো একি?.... এস এম এস গুলো কেউ যেন নিপুণ হাতে ডিলিট করে দিয়েছে ।
ভালো লাগলে পরেরটুকু দেব

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৩:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



