somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হক সাহেবের জুতা

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রোদের তেজ অনেক বেড়ে গেছে । জানালা দিয়ে ঘরের ভিতর এসে পরছে । রোদ সরাসরি চোখে এসে লাগছে হক সাহেবের । তা সত্ত্বেও হক সাহেব বিছানা এখনো ছাড়েননি । একবার উঠে গিয়ে জানালার পর্দাটা টেনে দিলেন । পর্দা দেয়ায় রোদ এখন বলতে গেলে লাগছেই না । যে টুকু আসছে তা সয়ে নেয়ার মতো । সরাসরি রোদ না লাগলেও রোদের গরম তেজটা ঠিকই অনভুত হচ্ছে । আরো কিছুক্ষণ বিছানায় থাকার ইচ্ছা ছিল হক সাহেবের । কিন্তু গত দশ মিনিট ধরে যা হচ্ছে , তাতে তিনি ঠিক মতো শুয়ে থাকতে পারছেন না । বারবার একই শব্দ হলে শুয়ে থাকা কষ্টকর । এপাশ ওপাশ করে অবশেষে তিনি বিছানা থেকে উঠে বসলেন । শব্দটা আসছে বাড়ির সদর দরজা থেকে । কেউ থেকে থেকে সদর দরজায় ধুমধাম করে শব্দ করছেন । কিন্তু দরজা কেউ খুলছে না । হক সাহেব আর দাঁড়িয়ে না থেকে সদর দরজার দিকে হাঁটা দিলেন । এখনই না গেলে দরজার ওপাশে যিনি আছেন তিনি বোধয় দরজাটা ভেঙেই ফেলবেন । মেজাজটা তীক্ষ্ণ হতে লাগল হক সাহেবের । বাড়ির অকর্মা লোক গুলো গেছে কই । একটাও কাজের না । খালি খায় আর ঘুমায় । ঘুমাতে ঘুমাতেই তাঁদের দিন পার হয়ে যাচ্ছে । এতো বেলা হয়ে গেল কেউ উঠে নাই ভেবে মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেল হক সাহেবের । তিনি না হয় একটু দেরি করে উঠতেই পারেন কিন্তু বাড়ির তাগড়া পোলাপান গুলার কোন সাড়াশব্দ নাই দেখেই মেজাজ খারাপ হয়েছে হক সাহেবের । মুখে প্রচণ্ড বিরক্তি ভাব নিয়ে হক সাহেব দরজা খুললেন । দরজা খুলে তিনি দেখলেন পিয়ন এসেছে । পিয়নকে ধমক দিতে যাবেন তিনি এই ভেবে মাত্র মুখটা খোলার চেষ্টা করলেন তার আগেই পিয়ন বলে উঠল , ‘ বাড়ির লোক গুলা মরছে নাহি । দরজা বাইরাতে বাইরাতে আমার হাত ব্যথা হইয়া গেল গা । জান গিয়া কোন হক সাহেবের টেলিগ্রাম আইছে ডাহা থেইক্কা ।’
হক সাহেব মেজাজটা ঠিক রাখতে পারলেন না , চেঁচিয়ে বলে উঠলেন ‘ হারামজাদা এতো জোরে শব্দ করস কেন দরজায় । দরজা ভাইঙ্গা ফালাইবি নাকি । দে আমারে টেলিগ্রাম । ’
পিয়ন আরো এক কাঠি সরেস , ‘ গালি দেন ক্যা । মুই কিন্তু গালি দিবার পারি । জান গিয়া বড় কর্তারে ডাহেন । হের হাতেই দিমু , আপনের মতো গাইল পারা হারামজাদার মালীর কাছে দিমু না । ’
হক সাহেব এবার পিয়নকে আর কি বলবেন ! এও তো গালি মারা শুরু করসে । এখনই পরিচয় দিয়ে দেয়া উচিত । তা না হলে আরো খারাপ গালি দিয়া বসতে পারে । তাই হক সাহেব নিজের পরিচয় পিয়নের কাছে বলার উদ্যোগ নিলেন ।
‘ আমিই হক সাহেব । আমার নামেই টেলিগ্রাম আছে না ! আমারে দে টেলিগ্রামটা , আর সিগনেচার নিয়া ভাগ । ’
পিয়ন চমকে যায় । ভুল হয়ে গেছে বুঝতে পারে । তাড়াতাড়ি মাপ চেয়ে নেয়া ভালো । যদি ডাকঘরে গিয়া অভিযোগ করেন হক সাহেব তাহলে চাকরি চলে যেতে পারে । তাই পিয়ন কানে হাত দিয়ে মাফ চাওয়ার ভঙ্গিতে বলল ,
‘ আপনে হক সাহেব নি । চিনতে পারি নাইক্কা । গালি দিয়া ফালাইসি । মাফ কইরা দেন ।’
‘ হইসে হইসে । আর মাফ চাওন লাগব না । আমি তোরে গালি দিসি তুইও আমারে গালি দিসস । শোধবোধ হইয়া গেসে । ’
‘ মাফ করসেন তো আমারে ?’
‘ হ মাফ কইরা দিসি । এখন টেলিগ্রামটা দে দেহি ।’
‘ খারান । অহনি দিতাসি ।’
‘হ দে তাড়াতাড়ি ।’
‘এই লন টেলিগ্রাম । আর এই হানে সই মারেন । আর এই টাহাটা রাহেন । এইটাও টেলিগ্রামের লগে আইসে । ’
হক সাহেব সিগনেচারের জায়গায় নিজের পুরা নাম লিখলেন হায়দার হক । তারপর টাকাটা নিলেন । পুরো টাকাটা গুনে দেখলেন ঠিক আছে কিনা । তারপর পিয়নকে বিদায় দিয়ে তিনি সদর দরজা লাগিয়ে ঘরের দিকে রওনা হলেন । অর্ধেক আসতেই হক সাহেবের বড় মেয়ে বাইরে আসল ।
তাকে দেখে হক সাহেব বলল , ‘ কই ছিলি ? দরজা ধাক্কাইতে ছিল খেয়াল করস না তোরা ! ’
‘ আব্বা আমি তো গোসলখানায় ছিলাম । তাই খুলতে পারি নাই । কে আসছিল ? ’
‘ ডাকপিয়ন । টেলিগ্রাম দিয়া গেল একটা । ’
‘ কার টেলিগ্রাম আব্বা ? ’
‘ তোর ফুপুর । ঢাকা থেকে পাঠাইসে । ’
‘ কি লিখসে টেলিগ্রামে ? ’
‘ এখনো পড়ি নাই । আয় দুজনে মিললা পড়ি । ’
হক সাহেব টেলিগ্রাম পড়া শুরু করলেন , তাতে লেখা আছে
‘ ভাইজান , আশা করি ভালো আছেন । আমরা আগামী সপ্তাহে দেশের বাইরে যাচ্ছি চার বছরের জন্য । আপনাদের দেখার খুব ইচ্ছা করতেসে । তাই কিছু টাকা পাঠালাম । সবাইকে নিয়ে ঢাকা চলে আসেন । একসাথে সবার সাথে দেখা হয়ে যাবে । আমার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গ্রামে আসতে পারছি না । তাই সবাইকে নিয়ে ঢাকা চলে আসেন । ’
আলিয়া
‘ কি বুঝলি তুই ? ’ মেয়েকে প্রশ্ন করলেন হক সাহেব ।
‘ সবাইকে ঢাকা যেতে বলেছে । কিন্তু সবাই তো যেতে পারবে না । কাল থেকে বুবুনের পরীক্ষা । আমি তো যেতেই পারব না । সোহেলের অফিস আছে । বললে হয়ত ছুটি নিতে পারবে ! গ্রামের অফিস না ! । ’
‘ থাক আমি একলাই যাব । কাউকে যেতে হবে না । আমি দেখা দিয়ে আসি । এতো করে দেখতে চাইল । না যেয়ে কি পারি ! নে অর্ধেক টাকাটা রাখ । বাকিটুকু আমি সাথে নিয়ে যাচ্ছি । ’
‘ আব্বা কখন রওনা দিবা ? ’
‘ বিকালের ট্রেনে ।’
‘ তাহলে আমি সব কিছু গুছিয়ে রাখব নে । ’
‘ আচ্ছা । আর হ্যাঁ ঐ জুতা জোড়া বের করে রাখিস । ওটা পরেই যাব । ’
‘ কোনটা ? ’
‘ তোর মার সাথে মিলে শেষবার যে জুতা জোড়া কিনেছিলাম ওইটা । ’
‘ ওটা তো পালিশ করা হয়না অনেক দিন । ধুলা জমে আছে । আর ওটা পরেই যাবে কেন ? অন্য ভালো জুতা পরে যাও । ’
‘ না ওটা পরেই যাব । এটার স্রিতি আলাদা । তুই বুঝবি না । ’
‘ বুঝব না কেন ? মা ’র দেয়া শেষ ভালোলাগার স্রিতি । তাই ওটা পরেই ঢাকা যেতে চাচ্ছ ।’
‘ বেশি বুঝা লাগবে না অতো । যা যেই কাজ করছিলি তা কর গিয়া । ’
বিকালের ট্রেনে হায়দার হক ঢাকার দিকে রওনা দিলেন । তিনি উঠেছিলেন সাধারণ কামরায় । টিকিট বেশি না । মাত্র বিশ টাকা । কিন্তু হায়দার হকের কাছে এটাই অনেক লাগছিল । এর চেয়ে কমের টিকিট নেই । তাই বাধ্য হয়েই তিনি এতে চড়লেন । এর আগে অবশ্য জুতাটা পালিশ করিয়ে নিয়েছিলেন ষ্টেশন থেকে । পালিশ করার ফলে জুতা জোড়া একেবারে নতুনের মতো চকচক করছিল । হক সাহেব সরল মনে বিশ্বাস করেই ট্রেনে উঠেছিলেন । এর মাঝেই এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয় । ভদ্রলোকটি ঢাকায় প্রায়ই আসা যাওয়া করেন । তাই ট্রেনে কথা না বললে তার সময় কাটে না । সময় কাটানোর জন্য তিনি অপরিচিত লোকের সাথে পরিচিত হয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন । এতে তার সময় বেশ কেটে যায় । আজ তার সঙ্গী হয়েছেন হায়দার হক । হক সাহেবের সাথে পরিচিত হতে লোকটি কথা বলা শুরু করল ।
‘ ভাইসাব কি ঢাকায় প্রায়ই আসা যাওয়া করেন ? ’
হায়দার হক বললেন , ‘ না । দুই তিন বছরে একবার । ’
‘ ও তাই নাকি ’
‘ আপনি ’
‘ সপ্তাহে অন্তত তিনবার । ব্যবসা করি তো তাই । ’
‘ ও আচ্ছা । আজও কি ঢাকায় যাচ্ছেন আপনি ? ’
‘ না । আজ আরো আগেই নামতে হবে । ’
‘ আপনার নামটা যদি বলতেন ভাইসাব ’
‘ হায়দার হক । আপনার ?’
‘ মখলেসুর রহমান ’
‘ ভাইসাব কি বিরক্ত বোধ করতেসেন আমার কথায় ? ’
এতক্ষণ পর সুযোগ পেয়ে সত্যি কথাটা হক সাহেব বলে দিলেন । ‘ জী হ্যাঁ । একটু চুপ করলে শান্তি পেতাম ।’
‘ ও । আমার অবশ্য কথা না বললে চলে না তো । তাই কথা বলতে চাচ্ছিলাম । ’
হক সাহেবের রাগ চড়তে লাগল । হালা বলদ তোরে চুপ থাকতে কইসি তারপরও কথা কস - মনে মনে গালি দিলেন । হক সাহেব বললেন , ‘ আমার ঘুম পাচ্ছে আমি একটু শুচ্ছি ।’
যদিও তার ঘুমের বিন্দু মাত্র লক্ষণ নাই । তবুও তিনি চোখ বন্ধ করে ঘুমাতে লাগলেন । একসময় ঘুমিয়েও গেলেন । তবে লোকটি ছিল চরম বেহায়া ।
নামার আগে হক সাহেবকে ডেকে বললেন , ‘ ভাইসাব আমি নেমে যাচ্ছি । আবার দেখা হবে । ’
হক সাহেবের রাগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছল । তবুও তিনি রাগ সামলে বললেন , ‘জী ভাই ’ ।
মনে মনে অবশ্য গালি একটার পর একটা ছাড়তে লাগলেন । লোকটি নেমে গেলে তিনি আবার শুয়ে ঘুমিয়ে পরলেন ।
ঘুম থেকে যখন উঠেন হক সাহেব তখন ঢাকা প্রায় কাছাকাছি । সন্ধ্যে হয়ে গেছে । কামরার লাইট জালিয়ে দেয়া হয়েছে । আলো ভালোই বলতে হবে । কিন্তু হক সাহেব তার অতি প্রিয় জুতা জোড়া খুঁজে পাচ্ছিলেন না । অনেক আঁতিপাঁতি করে খুজেও তিনি জুতা পেলেন না । বুঝলেন চোর বাবা জুতা খান নিয়ে চলে গেছে । মনে মনে কষ্ট পেলেন অনেক । শেষ চিহ্নটা হারিয়ে গেল বলে । চোরের চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলেন । মেয়েটা বারবার না করেছিল এই জুতা না পরে আসতে । এখন তো একেবারেই গেল । কি আর করা তিনি খালি পায়েই ষ্টেশন থেকে বের হলেন । হাঁটতে একটু কষ্ট হচ্ছিল । তবু তো আলিয়ার বাসা পর্যন্ত তো যেতে হবে । পাকা রাস্তা ইট গুলো কেমন যেন পায়ে বিঁধছে । মাটির রাস্তা হলে অসুবিধা হতো না হক সাহেবের । রাত আঁটটার দিকে ঠিকানা অনুযায়ী আলিয়ার বাসায় এসে পৌঁছলেন হক সাহেব । বাসার দরজায় নক করলেন প্রথম বার । কেউ খুলল না । আবার নক করলেন । গরমে ভিজে একেবারে অবস্থা কাহিল । পায়ের তলা ছুঁলে গেছে মনে হয় । দ্বিতীয় নকের পর দরজাটা খুলল । একটা ছোট মেয়ে খুলল দরজাটা ।
বলল – ‘ মাফ করেন । ভিক্ষা নাই । যান এই খান থেকে । ’ বলেই দরজা বন্ধ করে দিল ।
হক সাহেব কিছু বলার সুযোগই পেলেন না । হক সাহেব আবার নক করলেন । এবার কেউ খুলল না । আবার নক করলেন হক সাহেব । এই বার আলিয়া দরজা খুলল , নিজের ভাইজানকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল । ভিতরে নিয়ে গেল । এইদিকে যে মেয়েটি দরজা খুলেছিল তাকে পাওয়া গেল । সেই এই অবস্থা দেখে ঘাবড়ে গেল । মেয়েটা বাসায় কাজ করে । হক সাহেব বুঝলেন ব্যপারটা । তাই আলিয়াকে কিছু বললেন না ।
শুধু মেয়েটাকে কাছে ডেকে বললেন ‘ যা করেছিস ভালো করেছিস । আর করিস না । পরেরবার আমার মতো ভালো মানুষ নাও হতে পারে । জিজ্ঞেস করে দরজা বন্ধ করিস ।’
মেয়েটা জী আচ্ছা বলে চলে গেল । মনে হল হাফ ছেড়ে বাঁচল ।
এরই মধ্যে জুতার কাহিনী প্রচার হয়েছে । আলিয়া চোরের আটাশ গুষ্টি উদ্ধার করার জন্য তৈরি ! পারলে এখনই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে এমন অবস্থা । আলিয়া পরদিন দোকান থেকে ভালো মানের জুতা কিনে দিবে বলে ভাইজানকে বলে । পরদিন হাজার টাকার জুতা কিনেও দেয় আলিয়া তার ভাইজানকে । জুতা কিনে বাসায় ফিরেও আসে । এর সাথে অবশ্য অনেক কিছুই কেনাকাটা করা হয় । পাঞ্জাবী , টুপি , ভাইয়ের মেয়েদের জন্য শাড়ী , ছেলের জন্য শার্ট আরো কত কি ।
সেদিন বিকেলেই অবশ্য অন্য আরেকটি ঘটনা ঘটে । হক সাহেব সেদিন নামাজ পড়তে মসজিদে গেলেন । হক সাহেব জুতা খুলে কাছাকাছি রেখে নামাজে বসলেন । এরই মধ্যে অনেক লোক এসেছে । অনেকের জুতাই একই রকম । হক সাহেবের জুতার মতো আরো অনেক জুতাই সেখানে ছিল । কিন্তু নামাজ শেষ করে বের হতে গিয়ে দেখলেন তিনি নিজের জুতাই চিনতে পারছেন না । সবই একই রকম লাগে । একসময় এক জোড়া জুতা পায়ে দিয়ে হাঁটা দিলেন আলিয়ার বাসার দিকে । কিন্তু কিছুদূর হাটার পর বুঝতে পারলেন এটা সেই জুতা না । এটা আরেক জুতা । দেখতে একই রকম মনে হলেও এটা সাইজে বড় । হাঁটতে গেলে বোঝা যায় । বাসায় এসে কথাটা কাউকে বললেন না । বললে লজ্জা পেতে হবে যে । অবশ্য আলিয়ার কাছে একটু খটকা লাগছিল ভাইয়ের হাঁটা দেখে । এ নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল ভাইজান কে । কিন্তু সঠিক উত্তর পায়নি ।
ঢাকা থেকে তিনদিন পর গ্রামে ফিরে যাচ্ছিলেন হক সাহেব ট্রেনে করেই । এই কয়দিন ঐ বড় সাইজের জুতা জোড়া পড়তে হয়েছিল তাকে । এবার তিনি যখন ফিরতি ট্রেনে বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন হক সাহেবের মতই এক লোক ঘুমাচ্ছিল ট্রেনে । ঐ লোকের জুতার সাইজ হক সাহেবের পায়ের সাথে মিলে যায় । তাই ট্রেনের কামরা যখন একদম খালি তখন ঐ ঘুমন্ত লোকের জুতার সাথে নিজের জুতা পালটে নিলেন । এবং তার গ্রামের আগের ষ্টেশনে নেমে গেলেন যাতে লোকটি কিছু না বুঝে । আবার ষ্টেশনে জুতাটাকে পালিশ করালেন যাতে নতুনের মতো দেখায় । পরের ট্রেনে তিনি তার গ্রামের ষ্টেশনে পৌঁছলেন । ষ্টেশন থেকে নেমে যখন বেরিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিলেন তখনই ঘটল আরেক ঘটনা । এবার পালিশ করা জুতার নিচের তলি খুলে একেবারেই আলাদা হয়ে গেল । বেচারা হক সাহেব রাগে দুঃখে জুতা ফেলেই হাঁটা দিলেন বাড়ির দিকে । এবার হাঁটতে কষ্ট হয়নি । মাটির রাস্তায় হাঁটার অভ্যাস তার ছিলই । তবু বাড়ির আগে একটা হাঁট আছে , সেখান থেকে এক জোড়া স্যান্ডেল কিনে বাড়ি ফিরে গেলেন । আর ঘটনাটা কাউকে
কোনদিন বলেননি । পাছে লোকে যদি হাসাহাসি করে তাকে নিয়ে । আর আলিয়া জানতে পারলে দুঃখ পাবে তাই কথাটা কাউকেই বলা সমীচীন বোধ করেন নি । নিজের মনেও দুঃখ ছিল শেষ স্রিতি টা হারানোর কারণে । মেয়ে ও ছেলে বারবার জিজ্ঞেস করেছিল জুতার ব্যপারটা । হক সাহেব বলেননি তাদেরও ।









৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×