somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদা কাগজ - ( পর্ব ২ )

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রতিদিন ডাইরি লেখা নাকি প্রত্যেকেরই উচিত । বিশেষ করে রাতের বেলা । রাতের বেলায় ডাইরি লিখলে নাকি এটা বোঝা যায় যে কোন কাজটা আজকে ঠিক মতো করা হয়েছে আর কোনটি হয়নি । যেটা হয়নি সেটা কিভাবে ঠিক ভাবে করা যায় সেই বিষয় নিয়ে নাকি গভীর ভাবে চিন্তা করা যায় । পত্রিকায় কথা গুলো পরেছিলাম বলে মনে হয় । ডাইরি লেখা কোন কাজে আসুক বা না আসুক সেটা নিয়ে ভাবা আমার কাজ নয় । আমি লিখতে পছন্দ করি তাই লিখি । সেটা ডাইরিতেই হোক বা কম্পিউটারে ভার্চুয়াল ব্লগে হোক না কেন – সেটাতো লেখাই । আমিও ডাইরি লিখার চেষ্টা করি । সেখান থেকেই কিছু চুম্বক অংশ আজ এখানে দেয়ার চেষ্টা করছি ।
মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন ? বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন সারাদিনের অর্জিত স্রিতি যখন মানুষ বাস্তবে নিজের জীবনে প্রতিফলন হিসেবে দেখতে চায় তখন কল্পনা মানুষকে স্বপ্নের মাধ্যমে তা দেখায় । কিছু স্বপ্ন চিরকাল মনে রাখার মতো আর কিছু মনে না রাখতে পারলে মানুষ আরাম অনুভব করে । অন্যের অবস্থানে নিজেকে দেখতে চাওয়া মানুষের স্বভাবজাত ইচ্ছা । সবারই স্বপ্ন থাকে । কারও স্বপ্ন পূরণ হয় আবার কাউকে হাতছানি দিয়ে যায় । মানুষ ঘুমের সময় যে স্বপ্ন দেখে থাকে তার সাথে বাস্তবে কোন মিল না থাকলেও নিজেকে ঐ অবস্থানে দেখলে সবার মাঝেই কিছু না কিছু অনুভূতির জন্ম হয় । কারও অনুভূতি হয় সুখের আবার কারও দুঃখের অথবা ভীতিকর । বাস্তবে স্বপ্নের সাথে মিল না থাকলেও অভিজ্ঞতা আর কঠোর পরিশ্রম করেই মানুষ পরিপক্ক হয়ে উঠে । প্রায় সবাই তার অভিজ্ঞতা অন্যর সাথে বিনিময় করে । কিন্তু এমন কিছু অভিজ্ঞতা থাকে যা সবার সাথে বিনিময় করা যায় না । সেটা মনের মধ্যেই থাকে । অথবা তা ডাইরিতেই লেখা হয় ।

এই লেখার নিচে কোন তারিখ দেইনি । কেন দেইনি সেটা মনে নেই ।

প্রচণ্ড চাপ অনুভব করছি । লেখা আসতে চাচ্ছে না হাত দিয়ে । কিন্তু মনকে থামাতে পারছি না । একটার পর একটা লাইন আসছে । কিন্তু লিখতে গিয়ে সেসব লাইন হারিয়ে ফেলছি । কেন এমন হচ্ছে জানি না । রাতে ঠিক মতো ঘুম হচ্ছে না । মাথার ভিতর লাইন গুলো ঘুরপাক খাচ্ছে । এগুলো বড় বিরক্ত করছে । মাথা থেকে লাইন গুলো বের না করতে পারলে মনে হচ্ছে শান্তি পাব না । তাই আবোল তাবোল যা মনে হচ্ছে তাই লিখছি । আমার একটা বড় সমস্যা সেটা হল – কোন লেখার শুরুটা বেশ ভালো হয় , মাঝে আটকে থাকি , শেষ আর হয় না । প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এমন হচ্ছে । কিন্তু মস্তিষ্ক তো আর থেমে থাকে না । সেখানে প্রতিনিয়ত লাইন তৈরি হচ্ছে । কিন্তু লেখা হচ্ছে না । স্টিফেন হকিংস মাইন্ড রিডার জাতীয় কিছু মনে হয় ব্যবহার করে । সেটা ব্যবহার করতে পারলে বোধহয় ভালো হতো । এটা বলছি এই অর্থে যে এতে করে ভালো ভালো লাইন গুলো হারিয়ে যেত না । যেটা আমার লিখতে গিয়ে হচ্ছে । লেখার মান প্রচণ্ড খারাপ হচ্ছে বুঝতে পারছি । চোখে এখন ঘুম ভর করেছে । চোখ বন্ধ হয়ে আসছে ঘুমে । তাও জোর করে লাইন গুলো মাথা থেকে উগলিয়ে দিয়ে মাথাটাকে শান্ত রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করছি । এখন এমন অবস্থা যে চোখ দিয়ে পানি পরবে । অবশ্য সেটা শুরু হয়ে গেছে । চোখে ঝাপসা দেখছি । লেখা গুলো অস্পষ্ট হচ্ছে । কেন হচ্ছে তা বোঝার বাকি নেই । ঘুম পাচ্ছে । তবে চাপটা কম মনে হচ্ছে । আমি আবোল তাবোল সস্তা লেখা লিখছি । সেটাতে অসুবিধা নেই । মন শান্ত হচ্ছে । মস্তিস্কের উপর চাপ কমছে । আরাম অনুভূত হচ্ছে । মজা লাগছে । আহ কি শান্তি ! বেশ ভালো লাগছে ।

এই লেখাটা ০১/০৮/১২ তে লেখা ।

আজকের লেখা শুরু করছি একটি প্রশ্ন দিয়ে । প্রশ্নটা হল – মানুষ ডাইরি লেখে কেন ? অনেকেই হয়ত বলবেন এটা লেখার জন্যই বানানো হয়েছে তাই এতে লেখা হয় । আসলেই কি তাই ? মনে হয় না । মানুষ ডাইরি লেখে ভিন্ন ভিন্ন কারণে । কেউ আনন্দের কথা লিখে । আবার কেউ দুঃখ ও আনন্দ দুটোই একসাথে লেখে । ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ এবং ভিন্ন ভিন্ন লেখা । এটা থাকবেই । একে পরিবর্তন করা যাবে না । সাইকোলজিস্টরা বলেন , প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা একটা ডাইরিতে লিখে রাখা উচিত । এতে করে ঘটনা কেন ঘটলো , কিভাবে ঘটলো , এর প্রয়োজন ছিল কি না তা লেখার পর বোঝা যায় । বা এটা থেকে কি শিক্ষা পেলাম অথবা কি ভুল করলাম তা বিবেচনা করার একটা সুযোগ থাকে । তবে সবকিছুতেই কি শিখলাম জিনিসটা খোঁজা উচিত নয় । এমন জিনিস মানুষের জীবনে হয় বা ঘটে যেটা মনে রাখা কষ্টকর হয়ে যায় । তাকে ভুলে যাওয়াই উত্তম । এতে করে নতুন ভাবে পথ চলা সহজ হয় । তাই এটা বলতেই হয় পুরনো ঘটনা আঁকড়ে ধরে থাকলে পরবর্তীতে সমস্যা হয় চলতে । আমাদের পরিবারে লেখালেখির চল আছে অনেকদিন থেকেই । বড় বড় কোন লেখা নয় । ছোট ছোট আনন্দময় ঘটনার কথা লেখা আছে । নানুর মধ্যে যেমন বই পড়ার একটা বাতিক ছিল তেমনি তিনি লিখতেনও । তার কাছ থেকে বই পড়ার বাতিক এবং লেখার কৌশল দুটোই বোধহয় জেনেটিক ভাবে রপ্ত করেছি । তার লেখা কি আমি পড়েছি ? মনে পরছে না । মনে হয় পড়িনি । তবে শুনেছি । আম্মুও লেখালেখি করত । তার লেখা ছাপাও হয়েছে অনেক আগে । জেনেটিক দিক থেকে লেখালেখির হাতেখড়ি আমার আছে বলে মনে হয় ভালোভাবেই । সত্য কিনা এখনো বুঝতে পারছি না । তবে লেখার চেষ্টা করি । মনে হয় কিছুটা পারি ।
ডাইরি লিখে যেমন আনন্দ পাওয়া যায় তেমনি একটি ঘটনা মনে রাখাও সহজ হয় । আবার পুরনো লেখা যখন পড়া হয় তখন সেটা মনের মাঝে পস্ট হয়ে উঠে । ছবির মতো পস্ট । শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত । তবে ডাইরি লিখে নিজের উপর বিপদ ডেকে আনার ঘটনাও ঘটে থাকে । ঘটেছেও । লুকিয়ে লুকিয়ে ডাইরি পড়ে ব্যক্তিগত বিষয় জেনে তাকে আক্রমন করার ঘটনাও ঘটে । প্রত্যেক পরিবারে এমন দুই একটা ঘটনা ঘটেই থাকতে পারে । তবে হ্যাঁ , আমার লেখা আমি লিখি । লিখে যাব । কেউ যদি এটা পড়ে আমাকে তিরস্কারও করে তবে কিছু মনে করার নেই । কারণ ডাইরি আমি লিখছি ইচ্ছা করেই । জানানোর জন্যই লিখছি । অনেকটা ইচ্ছা করেই । যেটা সত্য সেটা জানাবো । ভালো করেই জানাবো । পরিবারে এমন অনেকেই থাকতে পারে যারা এসব ডাইরি পড়ে , যে ডাইরি লিখেছে পরবর্তীতে তাকে খোঁচা মেরে কথা বলেন । খোঁচা মারলে খোঁচা খেতে হয় অনেকটা ইট মারলে পাটকেল খাওয়ার মতো । যে কথা গুলো লিখছি সেটা বিস্ফোরক এর সাথে তুলনা করা চলে । এবং পরবর্তীতে এটা যিনি পড়বেন তিনি যে আমাকে খোঁচা মেরে কথা বলবেন সেই বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত । সেটা জেনেই আমি লিখছি । জানতে চেষ্টা করছি বা বোঝার চেষ্টা করছি কি পরিমাণে কথা শোনানো হয় এটা লেখার জন্য । অপেক্ষা করছি । দেখি কি হয় । সবাইকে এটা পরার জন্য ধন্যবাদ । যিনি আমার সাথে পোক পোক খেলা খেলবেন তাকেও । হা হা হা হা । মজা পাচ্ছি লিখে । কিছু বুঝতে পারলে বুঝবেন আর না পারলে বোঝার চেষ্টা করবেন । গুডবাই সবাইকে ।

এটা লিখেছিলাম ০১/০৯/১২ তারিখে ।

( চলবে )
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×