সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়িন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য দ্বীন সম্পর্কিত ৪০টি হাদীছ শরীফ সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্বিয়ামতের দিন ফক্বীহ (ধর্মীয় বিষয়ে বিজ্ঞ) করে উঠাবেন এবং ক্বিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশ করবো ও সাক্ষী হবো।” (মিশকাত শরীফ)
হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, যে ব্যক্তি ৪০টি হাদীছ শরীফ হিফাজত (মুখস্থ, প্রচার) করবে, সে কী সওয়াব পাবে?
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আল্লাহ পাক তাকে আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালাম এবং উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সঙ্গে হাশর করাবেন। (সুবহানাল্লাহ)
ফযীলত হাছিলের জন্য নিম্নে চল্লিশটি হাদীছ শরীফ পেশ করা হলো-
নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, (১) আল্লাহ পাক উনার উপর ঈমান আনবে, উনার জাত ও ছিফতের প্রতি বিশ্বাস রাখবে, (২) আখিরাতের দিনকে বিশ্বাস করবে, (৩) ফেরেশতাগণ উনাদের অস্তিত্বের উপর বিশ্বাস করবে, (৪) পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের উপর বিশ্বাস করবে, (৫) সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর বিশ্বাস রাখবে, (৬) মরণের পর পুনঃজীবিত হওয়ার উপর বিশ্বাস করবে, (৭) তাক্বদীরের উপর বিশ্বাস করবে (ভাল-মন্দ যা কিছু হয় সব আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে হয়), (৮) এই কথার সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কোন মা’বুদ নেই এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সত্য রসূল, (৯) প্রত্যেক নামাযের সময় পরিপূর্ণরূপে ওযূ করে নামায আদায় করবে, (১০) যাকাত আদায় করবে, (১১) রমাদ্বান শরীফ-এ রোযা রাখবে, (১২) যদি মাল থাকে তবে হজ্জ করবে অর্থাৎ সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করবে, (১৩) প্রত্যহ বারো রাকায়াত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামায আদায় করবে। উহার বিস্তারিত বর্ণনা এই যে, ফজরের ফরয নামাযের পূর্বে দু’রাকায়াত, যোহরের ফরযের পূর্বে চার রাকায়াত ও পরে দু’রাকায়াত, মাগরিবের ফরযের পরে দু’রাকায়াত এবং ইশার ফরযের পরে দু’রাকায়াত, (১৪) বিতর নামায কোন অবস্থায়ই ছাড়বেনা। যেহেতু ইহা ওয়াজিব, কেননা ইহার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, (১৫) আল্লাহ পাক উনার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, (১৬) শরাব (মাদকদ্রব্য) পান করবে না, (১৭) ব্যভিচার করবে না, (১৮) মিথ্যা কসম খাবে না, (১৯) নফসের খাহেশ মোতাবেক আমল করবে না, (২০) মুসলমান ভাইয়ের গীবত করবে না, (২১) সতী নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দিবে না। অনুরূপ কোন নেককার পুরুষের বেলায়ও করবে না, (২২) আপন মুসলমান ভাইয়ের সাথে হিংসা রাখবে না, (২৩) খেলাধুলায় লিপ্ত হয়ো না, (২৪) তামাশায় শরীক হয়ো না, (২৫) বেঁটে লোককে দোষারোপ করার উদ্দেশ্য “বামন” বলে সম্বোধন করো না, (২৬) সর্বাবস্থায় আল্লাহ পাক উনার নিয়ামতের শোকর আদায় করবে, (২৭) বালা-মুসিবতের সময় ধৈর্য ধারণ করবে, (২৮) আল্লাহ পাক উনার আযাব হতে কখনও নির্ভয় হয়ো না, (২৯) আত্মীয়-স্বজন হতে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না, (৩০) আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে, (৩১) আল্লাহ পাক উনার কোন মাখলুককে অভিশাপ দিও না, (৩২) উত্তম ওই ব্যক্তি যে কুরআন শরীফ শিখে ও শিক্ষা দেয়, (৩৩) জুমুয়া ও ঈদের নামায কখনও ত্যাগ করবে না, (৩৪) এই কথার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, সুখ-দুঃখ যা কিছু তোমার নিকট এসেছে উহা তাক্বদীরে নির্দিষ্ট ছিল। তা কখনও না এসে পারে না। আর যা আসে নাই উহা কোন প্রকারেই আসবে না, (৩৫) কুরআন শরীফ তিলাওয়াত কোন অবস্থাতেই ত্যাগ করবে না, (৩৬) উত্তম ইবাদত হচ্ছে কুরআন শরীফ শিক্ষা দেয়া, (৩৭) মু’মিনের নিয়ত তার আমল থেকে উত্তম, (৩৮) কোন নেক কাজকেই ছোট মনে করো না, (৩৯) দানে সম্পদ কমেনা ও (৪০) দ্বীনের মধ্যে ইখলাছ পয়দা কর, অল্প আমলই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১০ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



