
বৃদ্ধ ব্যক্তির নাম রহমত আলী।বয়স ৭০।নানান রোগে আক্রান্ত এই বৃদ্ধ দীর্ঘ ৫বছর ধরে ঘর বাড়ি ছাড়া। তার বাড়ি বরিশাল বরগুনায়। আমার নিজের জেলার বলে অনেক্ষন কথা হয় তার সঙ্গে গত রাত ১০টার সময়।
তিনি নির্ঘুম রাত কাটান রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায়। দিনের বেলায় একটু সাহায্যের আশায় মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করেন তিনি। তার একটি পা অবশ তাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে হয় তাকে। এই অমানবিক জীবনযাপন করলেও কোন আত্মীয়-স্বজন কেউই খোঁজ নেয় না তার। বৃদ্ধ রহমত আলীর স্ত্রী সালেহা বেগম দীর্ঘ ৫বছর আগেই মারা গেছে বলে জানান তিনি।
পূত্রবধূদের অত্যাচার আর অপমান সইতে না পেরেই তার স্ত্রী মারা যাবার পরপরই ঘর ছাড়া হয়ে তিনি এই রাজধানীর ঢাকা শহরে ভিক্ষা করতে আসেন।
এই বৃদ্ধ বয়সে এসেও ভিক্ষা করেন কেন? জানতে চাইলে বলেন, “মোর তো কেউ নাই।পেটের কান্না থামাইতে অইলে এই পথ ছাড়া কোন উপায় নাই। মুই তো আর কোন কঠিন কাজ করতে পারিনা। আর কাজ না করতে পারলে তো কেউ বাসাইয়া বসাইয়া টাকা দিবেনা।”
পরিবারে কে কে আছে জানতে চাইলে বলেন, “দুই পোলা এক মাইয়া। পোলা-মাইয়া সব বিয়া দেওয়া শেষ। বিয়ে কারাই দেওয়ার পর তারা প্রথমে খোজ খবর নিলেও এহন আর খোঁজ রাখেনা।”
শীতের তীব্রতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতে ফুটপাতে রাত কাটানো ভীষণ কষ্টের। কিন্তু এই শত্তুর বছর বয়সের বৃদ্ধের কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। একটি চাদড় মুড়ো দিয়েই পুরো শীত কাটিয়ে দেন এমনটাই জানান রহমত আলী।
সুপ্রিম কোর্ট এলাকার কয়েজন লোকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক কষ্টে করে তিনি জীবন কাটান রহমত আলী।তাকে অনেক বছর ধরেই এইখানে দেখে আসছি।এলাকার বৃত্তশালীরা যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন তাহলে এই বৃদ্ধ বয়সে এসে তাকে এই কষ্টের বোঝা বইতে হত না।
রহমত আলীর এলাকার ইউপি সদস্য মাহতাব হোসেনের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এই বৃদ্ধের বিষটি জানা নেই তার।বিষয়টির খোঁজ নিয়ে এই বৃদ্ধের বয়স্ক ভাতা এবং অন্যান্য অনুদানের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



