দিনগুলো ছিল প্রচন্ড আনন্দ উল্লাসের। প্রতি বছর স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষা শেষে আমি ও আমার মামাতো ভাই সারোয়ার ছুটি কাটাতে ছুটতাম আরেক মামার বাসায়, এক অজ-পাড়া গাঁয়ে। সেখানে আমাদের সঙ্গী হত আরেক মামাতো ভাই ইয়াকুব, প্রায় আমাদের সমবয়সী। সারাদিন মাঠ-ঘাট, বিল-ঝিলে হই হুল্লোড় করে বেড়াতাম, চলত হাসি ঠাট্টা। রাত্রে চাঁদের জোৎস্নালোকে মাঠের মাঝে বসে চলত তিনজনের গানের আসর, হাসি-আনন্দ উল্লাস। ছুটির দিনগুলো যে কিভাবে পেরিয়ে যেত টেরই পেতাম না।
এরপর কলেজ ভার্সিটিতে পড়া অবস্থায় ব্যস্ততার কারনে আর সেখানে যাওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে সৎ মায়ের সংসারে টিকতে না পেরে ভাগ্যানুসন্ধানে ইয়াকুব বেরিয়ে পড়েছে পথে। সে ময়মনসিংহ, গাজিপুর ও ঢাকার বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকুরি নেয়। তার বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো চাকুরির পূর্বশর্ত পূরণ করতে গিয়ে। মাঝেমধ্যে মোবাইলে কথা হত। ঢাকা শহরের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সে গ্রামে ফিরে যায়, চাকুরি নেয় একটা কীটনাশক কোম্পানিতে। নিয়তির অমোঘ বিধানে সে গ্রামে ফিরে আসে, যেখানে তার মৃত্যু লেখা রয়েছে। আমি ও সারোয়ার প্রায়ই ভাবতাম সময় করে একবার সে গ্রামে বেড়াতে যাব। ওর সঙ্গে গিয়ে অনেক আনন্দ উল্লাস করব। কিন্তু সময় আর হয়ে উঠেনি। আমাদের আকাংখা অপূর্ণই রয়ে গেল। আজও মনে হয় ওর নাম্বারে রিং করলে হ্য়ত ভেসে আসবে ওর সেই চিরচেনা কন্ঠস্বর। ভাই ভালো আছিস!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


