ব্রিটিশরা বাংলার সিল্ক এর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো সেই ১৭৬৯ এর মার্চ মাসে। সত্তর এর মন্বন্তর এর শুরুতে। ব্রিটিশ রাজ থেকে কোম্পানী শাষক এর কাছে ফরমান আসে বাংলার সিল্ক এর কারিগররা এখন থেকে শুধু কাঁচা রেশম উৎপাদন করবে। সুতা বুনা থেকে শুরু করে কোন কাপড় যেন আর বাংলায় না বুনা হয়। তারা বংলার সিল্ক এর কাপড় আমদানি পুরপুরি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশেই বাংলায় উৎপাদিত মসলিনের উপর ৮০% পর্যন্ত ট্যাক্স বসায় আর ব্রিটেন থেকে আমদানি করা সিল্ক এ বসায় মাত্র ২% থেকে ৩% ট্যাক্স।
.
ইতিহাস বলে তাঁত এর কাপড় বুননে বাাংলার কারিগরেরা ছিলেন বিষ্ময়কর রকমের দক্ষ। অতি প্রাকৃত পর্যায়ের বুননে অতি মসৃন সেই মসলিন যখন ইংল্যান্ডে যেত সেখানকার পুর বাজার দখল করে ফেলত। এতে ব্রিটিশ সিল্ক উৎপাদকরা লোকশানের মুখে পরছিলো। যার পরিনতি ছিলো ঐ রাজ ফরমান। কিছু কিছু সুত্র বলে বাংলার সিল্ক এর বুনন বন্ধে এখান দক্ষ কারিগরদের বৃদ্ধাগুলি কেটে দিয়েছিলো কোম্পানী শাষক। তারা নিশ্চিত করেছিলো কোন তাঁতী যেন নিজের মত করে সুতা বুনা, কাপড় তৈরী না করে। কাজ করতে পারবে কেবল কোম্পানীর ফ্যাক্টরীতে। অতিরিক্ত কর এ বাজার হারিয়ে এমনিতেও তারা ধুঁকছিলো। এভাবে এক প্রজন্মের মধ্যেই একটা বিশ্বমানের দক্ষ জনগোষ্ঠী ধ্বংস হয়ে গেলো।
.
দিন শেষে দূনিয়ার সবচেয়ে দক্ষ একটা কারিগর গোষ্ঠী পরিনত হলো নিম্ন পর্যায়ের শ্রমিক শ্রেনীতে। এরা যত অদক্ষ নিম্ন পর্যায়ের শ্রমিক হবে, পন্যের পুর সাপ্লাই চেইন এর সবচেয়ে কম হিস্যা তারা পাবে। সব চেয়ে কম বারগেইন পাওয়ার থাকবে। আর এই পুরো ব্যাপারটা দেখভালো করেছে তাদেরই সরকার। যে সরকার মূলত সূদুর ব্রিটিশ রাজের স্বার্থেই বন্দুক হাতে বসে ছিলো।
.
আপনার জন্যে যে নিয়ম কানুন তৈরী করতেছে, আইন বানাচ্ছে সে আপনারই লোক নাকি "পিপলী বেগম " এর লাল পিঁপড়াদের উপর রাজ করা কোন উইপোকা সেটা ভয়াবহ গুরুত্তপূর্ণ।
.
#Afnan_Abdullah

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




