
মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী কস্তুরবা তাঁকে ছাগলের দুধ খেতে বলেন; যেহেতু তিনি বাছুরকে বঞ্চিত করে গরু বা মহিষের দুধ খেতেন না। স্ত্রী তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে ছাগলের দুধ খেলে তাঁর এই ভঙ্গ হবে না। ছাগলের কি বাছুর হয়না? তাই, বাপু পুরোপুরি কনভিন্সড না হলেও বৌ এর কথা মেনে নেন। মেনে নিয়ে ছাগ দুগ্ধ খেতে থাকেন, আর তাই ছাগল নিয়েই দেশ-বিদেশ ঘুরতে লাগলেন। নোয়াখালীর দাঙ্গা বন্ধে ছাগল নিয়েই তিনি সেখানে সফরে আসেন। ছাগদুগ্ধের শক্তিতে তিনি একশত ষোলো কিলোমিটার খালি পায়ে হেঁটে নোয়াখালীর প্রায় ৪৭টি গ্রাম ঘোরেন। উনার যাওয়ার পথে স্থানীয়রা মানুষের মলমূত্র আর বাঁশের ফাল গেঁড়ে রাখত, যারা তাঁর শান্তি মিশনের বিরোধী ছিল। হিন্দু এবং মুসলিম দুই পক্ষই উনাকে অবিশ্বাস করত।
.
একপর্যায়ে তাঁর ছাগলটা চুরি হয়েছে এমন গল্প প্রচার শুরু করে তারা। উদ্দেশ্য ছিল উনাকে একটু হাস্যকর হিসেবে দেখানো। ব্যাপারটা ওইভাবে কাজে না লাগলেও প্রভাব ছিল। নোয়াখালীর নির্যাতিত হিন্দুদের রাগ কমানোর জন্য তিনি যখন হেঁটে চলেছেন, তখনই বিহারে চলছিল মুসলিম নিধন। উনার অহিংস বাণীতে সহিংসতা কমছিল না। তাই বলা যায় মানুষ উনার ছাগল চুরি বিশ্বাস করুক আর নাই করুক, এই চুরির গল্প প্রচারে একধরনের কৌতুক বলার মজা আছে – এটা বিশ্বাস করেছিল। তাই আজ আশি বছর ধরে মানুষ নোয়াখালীতে বাপুর ছাগল চুরির এই গল্প হোমারের ইলিয়াডের মতোই মুখে মুখে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ছাগলের জাবর কাটার মতো করে কেটে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।









