somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘুম

২১ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোকবূল সাহেব ঘুমিয়ে ছিলেন জানলার পাশে বসে । তার এই আসনটা পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে , ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ গামী ট্রেনে আসন পাওয়া আর লটারিতে টাকা জেতার মধ্যে তেমন ফারাক নেই দুইটাই ভাগ্যের হাতে তবে এখানে কৌশোলেরও ব্যাপার আছে এবং তা নিপুন কৌশল অনেকটা যুদ্ধ জিততে যেরকম কৌশল দরকার সেরকম । তাছারা মানুষ জন একটা সিট পাবার আশায় ট্রেন ছারার এক ঘণ্টা আগে এসে স্টেশনে দাড়িয়ে থাকে অর্থাৎ ট্রেন সাহেবের স্টেশনে আগমন ঘটার সাথে সাথে এক ইলাহি কাণ্ড শুরু হয়ে যায় একদিকে তারা যারা ট্রেন থেকে নামতে ব্যাস্ত অন্য দিকে তারা যারা উঠতে এই দুই দলের ভিতর প্রচণ্ড ঠেলা ঠেলি । অনেকে জানলা দিয়ে সিট রাখে , তারাও শান্তিতে থাকেনা কারন জায়গা রাখলে কি হয়েছে উঠতে মহা ঝক্কি আরেকজন জায়গা দখল করে নিতে পারে , এই জায়গা দখল বেপারটা নিয়ে গণ্ডগোল নিয়মিত যাত্রী দের জন্য ডাল ভাত এসব তাদের গা সহা । মকবুল সাহেব আজকে ট্রেন ছারার ঠিক এক ঘণ্টা আগে স্টেশনে এসেছিলেন এবং একটা ছোট খাট যুদ্ধে জিতে জানালার পাশের এই সিটটা পেয়েছেন । গত ২০ মিনিট ধরে যুদ্ধ জয়ের আনন্দ এবং সারা দিনের ক্লান্তি এই দুজনকে নিয়ে আরামের ঘুম দিয়েছেন ট্রেন ছাড়ার পর তার ঘুমে কোন সমসসা হয়নি তিনি মরার মত ঘুমাচ্ছেন । ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে ৭ মিনিটের ভিতর গেণ্ডারিয়া এসে পৌছাল এবার বগিতে অ্যারও ন্মানুস এসে উথল কনটা কার মাথা আর কোনটা কার শরীর বোঝা দায় গরম বাড়ল চেচামেচি বাড়ল কিন্তু মকবুল সাহেবের ঘুমের কোন বেঘাত ঘটল না,তিনি ঘুমিয়েই চলছেন । ট্রেন গেণ্ডারিয়া ছাড়ল পরবর্তী স্টেশন পাগলা ।

পাগলা পৌছাতে তেমণ দেরী নেই । মোকবুল সাহেবের হাতটা ঘুমের ঘোরে জানলা দিয়ে একটু বের হয়ে ছিল যা খুবি বিপদজনক কারন ঢাকা , নারাইয়ানগাঞ্জ ট্রেন লাইনের পাশে খুবি ঘিঞ্জি ভাবে দোকান পাট বসা আর এই সব দোকানের বাশের খুটি গুলো বেকায়দায় বের হয়ে থাকে জানলা দিয়ে হাত বের হয়ে থাকলে যেকোনো সময় দুরঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে । এমনি এক সময় সরু ধারায় ট্রেনের ছাদ থেকে হালকা সোনালি রঙ এর ঈষৎ উষ্ণ পানি তার বেরিয়ে থাকা হাতের উপর এসে পরল এবং উষ্ণ পানির ছোঁয়ায় সাথে সাথে তার আরামের নিদ্রা ভেঙে গেল । মকবুল সাহেব লাফিয়ে উঠলেন , হটাৎ তার এই অবস্থার পরিবর্তন দেখে ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীদের কৌতূহলী চোখ তার দিকে এসে আটকে গেলো । এক জন কৌতূহলী মকবুল সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেন কি অইসে ভাই এমনে হুয়াত্থে খাড়ায় গেলেন ? কারেন্টের শক খাইসেন নাকি ? মকবুল সাহেব তার ঘুমিয়ে ফোলা , লাল চোখ কটমট করে বললেন ছাদের থে কোন এক হারামজাদা মুতসে অর মুত আমার হাতে আইসা পরসে । আসে পাশে একটা কৌতুক মিশ্রিত অনুশোচনার আওয়াজ শোনা যেতে থাকল । ভিরের ভিতর থেকে কোন একজন বলল এইটা নিশ্চিত ঐ ফাজিল টোকাই ছেমড়া গুলার কাম , এইগুলার কুনো কাম কাজ নাই দুই ছার পইসা পাইলেই আঠা কিন্না নিশা করবো আর মাইন্সেরে জালাইবো । আরেক জন বললেন হাসা কইসেন ভাই এই ভাবেই কথার লেজ ধরে কথা অন্য দিকে চলে গেলো মকবুল সাহেবের কথা কার মনে থাকল না । মকবুল সাহেব নিজের ব্যাবস্থা নিজেই করে নিলেন তিনি অন্য এক সহ যাত্রী থেকে পানি নিয়ে নিজের হাত ধুয়ে ফেললেন এবং আবার সস্থানে গিয়ে বসলেন ট্রেন পাগলা পৌছতে পৌছতে তিনি আবার ঘুমিয়ে গেলেন । ঘুম আরামের ঘুম ।

ট্রেনের সাইরেন বেজে উঠলো ফতুল্লা যেতে আর কিছুক্ষণ । মকবুল সাহেব আবার তার স্বপ্নের দেশে ফেরত চলে গেছেন মাঝখানে যে তিনি নোংরা প্রিথিবিতে ফিরে এসেছিলেন তার প্রমান খুজে পাওয়া দুষ্কর হবে । হটাৎ একসাথে বাইরে থেকে অনেক মানুষের চিৎকার এক সাথে ভেসে এলো বগির সব মানুষ জানালার দিকে ঝুকে গেল কিহয়ছে দেখার জন্যে এই হুরা হুরিতে মকবুল সাহেব আবার নোংরা পৃথিবীতে ফিরে আসতে বাধ্য হলেন , তিনি চোখ ঘসতে ঘসতে তার নাকের সামনে বগল রেখে যে ব্যাক্তি জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল তাকে জিজ্ঞেস করলেন কি অইসে ভাই ট্রেন থামল কেন ফতুল্লায়তো এখনো আইয়ে নাই ।আরে ভাই ছাদ থেইক্কা কোন এক পোলা নিচে পইরা গেসে একদম চাক্কার তলে কিসসু বাকি নাই শেষ । এবার মকবুল সাহেবের ভিতরেও কিছু কৌতূহল দেখা যায় তিনিও জানলার বাইরে তাকান কি হচ্ছে দেখার আশায় । এরি মধ্যে কেও একজন বলে উথে মরসেতো মরসে ট্রেনটা ছারে না কেন ? ৫ মিনিত পর ট্রেন ছাড়ে সবার নানান কথা নানান মন্তব্য মকবুল সাহেম কিছুক্ষণ শুনেন সেসব তার পর আমর তার সীটে গা এলিয়ে দেন তার স্টেশন আসতে দেরি আছে অ্যারও ২ স্টপ পর আর ঘুমান যাবে । ঘুম আরামের ঘুম ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৩৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×