somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেই সময় গুলো

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন আমি ক্লাস টেনে পড়ি , ঘটনা টা ২য় বার যখন আমি একাই ঢাকা থেকে চিটাগং আসছিলাম । আমি আমার কামরা খুঁজে নিলাম , সিট খুঁজে বসে পড়লাম । হাতে ছিল একটি সদ্য কেনা ওয়ার্ল্ড ম্যাপ , আর ব্যাগ ভর্তি বই আর জামা কাপড় । তো বুঝতেই পারছেন হিমশিম খাচ্ছিলাম এগুলো সামলাতে । আমার পাশের সিটে এক মধ্য বয়স্ক ভদ্রলোক বসেছিলেন ।

আলাপ আলোচনায় ওনার সাথে পরিচিত হতে থাকি । ভদ্রলোক ত্রিশ হাজার স্যালারীর একটা সরকারি চাকরী করেন । সম্ভবত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা । নাহলে সে আমলে ত্রিশ হাজার বেতন হওয়ার কথা না । প্রথম কথোপকথন ভদ্রলোকই শুরু করেন ।

ভদ্রলোকঃ তোমার হাতে লম্বা ওটা কী ?

আমিঃ ওয়াল ক্লথ ।

ভদ্রলোকঃ উহু , ওটা ওয়ার্ল্ড ম্যাপ । তুমি ভুল বলেছো । আচ্ছা চলো আমরা বগীর মাঝা মাঝি বসি । মাঝে সামনা সামনি চারটা সিট ই খালি । আর কেউ তো উঠবেনা । ওখানে জমিয়ে আড্ডা দেয়া যাবে । আর আমাদের সিট তো একদম সামনে পড়েছে এখানে দরজা খোলার আওয়াজ বিরক্তিকর । কী বলো যাবে মাঝের দিকে ।

আমিঃ হুম । কেন নয় ?
ওখানের গ্লাস টাও বড় । বাইরের দিক টা দেখতে ভালই লাগবে । চলুন যাওয়া যাক ।

ভদ্রলোকঃ তোমার হাতের ওয়ার্ল্ড ম্যাপ টা দাও তো । পুরো পৃথিবী ঘুরেছি সরকারি কাজে , আজ একটু স্মৃতিচারণ করে নিই ।

তারপর অনেক্ষণ ভদ্রলোক আমাকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সম্বন্ধে ধারণা দিলেন । তার বিভিন্ন দেশে যাওয়া আসার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন । আমার পরিবারে কে আছেন কজন আছেন , সব ব্যপারে খোঁজ নিলেন । আমি কেন যেন ভয় পাচ্ছিলাম ।


আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি , বয়স আর আট দশটা ছেলের মতই হবে যারা সিক্সে পড়ে । আমাদের এলাকা টা ছিল শান্তিপ্রিয় । আমরা যে দোকান থেকে বাকি নিতাম সে দোকানে একটা ছেলে বসতো । আমি তখন অতকিছু বুঝতাম না । সে আমাকে খুব স্নেহ করতো । আমাকে চকলেট , চিপস , পেপসি এসবের প্রলোভনে মাতিয়ে রাখতো । একদিন সে আমাকে তার বাসায় দাওয়াত দিল । আমি সরল মনে গেলাম । যাওয়ার পর কেন যেন আমার মনে খটকা লাগলো ,
তার আচার আচরণ আমার কাছে বেখাপ্পা ঠেকছিল । আমি পুরো ব্যপার টা এখানে প্রকাশ করতে পারবোনা , কারণ আমারও লজ্জ্বা আছে । এ সমাজে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা কম নিপিড়িত হয়না কিন্তু তা প্রকাশ করতে গেলেই আমাদের এই সমাজ হাসি তামাসা করা শুরু করে । আমি সেই ছেলেটির কুপ্রস্তাব এবং প্রলোভন পাওয়া সত্তেও নিজ গুণে নিজ বুদ্ধিতে সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হই । এখন আমার তৎকালীন অবস্থা জেনে আমরা হয়তো ঠাট্টা করতে পারেন , কিন্তু আপনাদের সতর্ক করছি আপনাদের সন্তান কে কখন কোথায় কেমন আচরণ করে তা খেয়াল রাখা আপনার দায়িত্ব ।

এবার আসি সেই ট্রেণ ভ্রমণের কথায় । ভদ্রলোকের কথায় মুগ্ধ হচ্ছিলাম । ভদ্রলোক আমাকে সব সময় এটা মনে করাচ্ছিলেন আমি প্রেম করি কিনা ? আমার খালতো বোনদের নিয়ে আমি কোনো কাম অনুভব করি নাকি ?

আমি সব কটার উত্তরে সবিনয়ে না বললাম । বিব্রত বোধ করছিলাম খানিকটা । অতঃপর ভদ্র লোক আমার বুকে হাত বোঝালেন আমার কী কখনো আমার খালতো বোনদের বুকে হাত দেয়ার ইচ্ছে হয়নি ?

আমি অতঃপর সবিনয়ে না বললাম ।

কিন্তু ভদ্রলোকের আমার বুকে হাত দেয়ার ব্যাপারে টি আমার ভাল লাগেনি । যাই হউক , আমি ভদ্রলোক কে জিগ্যেস করলাম আপনি বিয়ে করেছেন ?

উত্তরে ভদ্রলোক বললেন সারা জীবন লেখাপড়া করতে করতে আর দেশের কুটনৈতিক কাজে এ দেশ থেকে ওদেশে ঘুরতে ঘুরতে বিয়ের বয়স যে পার হয়ে গেল তা টের পাইনি ।
আর এখন আমার শরীর মধ্যবয়সী । কিন্তু মনতো তরুণ , তারপরেও এ বয়সে তো আর তরুণীও পাবোনা তো আর কী করার , একা থাকাই শ্রেয় ।

কী বললেন আপনি এটা ? আমাদের সমাজে তো চাইলে আপনি ক্লাস এইটের মেয়ে বিয়ে করতে পারেন । আর সতের আঠারো পারবেন না কেন ?

আরেহ বলোনা , কোনো DU অথবা CU এর মেয়ে কী পাবো আমি এ বয়সে ? আমার জীবন সঙ্গী এমন একজন হবে যে আমার সাথে সব বিষয়ে কথা বলার যোগ্যতা রাখবে ।
এ বয়সে আমি অল্প বয়সী শিক্ষিতা মেয়ে পাবো কোথায় বাবু ?

আমি ভাবলাম ভদ্র লোকের কথায় যুক্তি আছে ।

টিটি এসে জানান দিল আমাদের টিকিট শো করতে হবে । টিটি আমাকে কিছু বললেন না । টিকিট চেক করে চলে গেলেন , কিছুক্ষণ পর টিটির সাথে থাকা রেল পুলিশ একা আমার সামনে হাজির । আর বললেন আপনি তো শোভোন শ্রেণীর নন এসির , আপনি প্রথম শ্রেণীতে ভুলে এসেছেন মনে হয় । যাই হউক আমাকে ৫০ টা টাকা দিন আমি আর কোনো সমস্যা করবোনা ।
আমি আর কথা না বাড়িয়ে দিয়ে দিলাম টাকাটা ।

ভদ্রলোক আমাকে তার নাম্বার দিলেন । আমি যেন চিটাগং পৌঁছে ফোন দেই । ভদ্রলোক আমাকে তার ছেলের মত দেখতে চাইলেন । নিজের বাচ্চা কাচ্চা নেই তাই আমাকে কিছু সময় সংগ দেয়ার অনুরোধ করলেন ।

যথাসময় স্টেষণে ট্রেণ দাড়ালো । আমি ক্লাস সিক্সের সেই ঘটনার কথা মনে করে ভয় পেলাম । সিদ্ধান্ত নিলাম কখনো ফোন দেবনা ভদ্রোলোক কে।
একজন কুলি খুঁজে পেলাম । ত্রিশ মিটার দূরত্বে কুলি কে নিয়ে যাই সিএনজি পর্যন্ত । কুলি ২০ টাকার ন্যায্য হিসাব বাদ ৫০ টাকা চেয়ে বসে থাকলেন ।
আমি অবশ্য ২০ টাকার বেশি দেইনি । যাই হউক একটু পর আবার ভদ্রলোকের সাথে দেখা হলো । শেষ বিদায় নিয়ে চলে আসলাম ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৬
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

×