somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফুলকলি-কৃষ্ণকলি

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাঁচটা সুন্দরী ফুলকলি বান্ধবী থাকার চেয়ে একটা অসুন্দরী কৃষ্ণকলি বান্ধবী থাকা অনেক ভালো। শুধু ভালো না হাজার গুণ ভালো। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।
আমার ফুলকলি-কৃষ্ণকলি সবার সাথেই বন্ধুত্ব ছিল। যার ফলে পার্থক্যটা সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছে। ফুলকলিদের আজকে এই প্রবলেম তো কালকে ওই প্রবলেম। আজ এই ছেলে ডিস্টার্ব করেছে তো কাল ওই ছেলে ডিস্টার্ব করেছে। ফোনে কয়েকদিন ধরে অমুক ছেলে ডিস্টার্ব করছে। পরে আমাকে ফোন নাম্বার দিয়ে বলত, দোস্ত দ্যাখতো এই নাম্বার থেকে না খুব ডিস্টার্ব করতেছে। রাতে বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে ফোনে টাকা শেষ করে আমাকে ফোন দিয়ে বলত, দোস্ত একটা হেল্প করনা? আমার ফোনে ২০ টা টাকা রিচার্জ করে দে না।
পরশু তাদের বয়ফ্রেন্ডের জন্মদিন থাকলে আজকে আমাকে তাদের সাথে শপিং এ যেতে হতো। কয়েকদিন পর আবার ওই ছেলের সাথেই ব্রেকআপ হলে আমাকে ফোন দিয়ে কাঁপা গলায় বলত, দোস্ত ছেলেরা এমন ক্যান?
আর আল্লাহতা'য়ালার ত্রিশ টা দিন তাদের ফোন ওয়েটিং থাকত। পরে ফোন ব্যাক করারও প্রয়োজনবোধ করত না। আমার একটা ছোট্ট কাজের জন্য ফোন দিলে দেখা যেত ফোনেই পেতাম না। আর বন্ধুদের মধ্যে এই ফুলকলিকে নিয়ে একটু আকটু ঝামেলা তো হতই। সেটা আর নাইবা বললাম।
আর কৃষ্ণকলি ? সে ছিল একটু অবহেলিত। ফুলকলিদের নিয়েই সবাই ব্যাস্ত থাকত। মাতামাতি হতো। তার দিকে নজর দেয়ার মানুষ ছিল খুব কম।
তাদেরকে রাতের বেলা ফোনে ২০ টাকা রিচার্জ করে দিতে হতো না। তাদের কেউ ডিস্টার্বও করত না। রাস্তায় তাদের কেউ টিজও করতো না যে ছেলেদের গিয়ে থ্রেড দিবো। তাদের বয়ফ্রেন্ডও ছিল না যে তার জন্য গিফট কিনতে যাব। তাদের সাথে কেউ ব্রেকআপও করতো না যে ফোন দিয়ে আমার সাথে কান্নাকাটি করবে।
কিন্তু কৃষ্ণকলিদের সবসময় ফোনে পাওয়া যেত। যেকোনো ক্ষুদ্র সমস্যায় তাদের কাছ থেকে পাওয়া যেত বিরাট সলিউশন। পরীক্ষার সময় তারা সকালে ঘুম ভাঙিয়ে দিত। যখন খুব আপসেট কিংবা ডিপ্রেশন এ ভুগতাম তখন এই কৃষ্ণকলিরাই জীবনের সংজ্ঞা বুঝিয়ে দিত। তাদের বয়ফ্রেন্ড ছিল না যে তাদের জন্য গিফট কিনতে নিয়ে যাবে কিন্তু নিজের ছোট্ট কানের দুল কিনতে ঠিকই টেনে নিয়ে যেত আমায়।
আজ ফুলকলিরা কে কই আছে কে জানে ! শুনেছি কারও কারও নাকি বিয়েও হয়ে গেছে। কিন্তু কৃষ্ণকলিরা এখনও আছে আমার জীবনে। জীবনের সংজ্ঞা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ওরা এখনও আছে। আর জানি ওরাই থাকবে সবসময়। আমি যে জীবনের সংজ্ঞা মাঝেই মাঝেই ভুলে যাই।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×