somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারীর কাছে খোলা চিঠি

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘৃন্যেয় অমানুষ,

সারা বিশ্বে পেট্রোল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও আপনারা সেটি ব্যবহার করছেন মানুষ মারার যন্ত্র হিসেবে। যে কোন ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতায় আপনারা আর কষ্ট করে অনেক টাকা দিয়ে বোমা বা আগ্নেয়াস্ত্র কেনেন না, পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে দেন জ্যান্ত মানুষকে। কি বুদ্ধি আপনাদের মাথায়!! আর কি অর্থজ্ঞান। মূহুর্তের মধ্যে মাত্র কয়েক টাকার খরচে কি সহজেই না মানুষদের পুড়িয়ে মারছেন আপনারা। শুধুমাত্র একটি কাঁচের বোতলে পেট্রোল ভরে বোতলের মাথায় কাপড়ে আগুন লাগিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে ছুড়েই পুড়িয়ে দিচ্ছেন মানুষ, বাস, ট্রাক আরও কত কি!! গত কয়েক মাসে আপনাদের মহান কর্মে আগুনে পুড়ে মারা গেছে প্রায় ৬০ জন জ্যান্ত মানুষ। পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছে। আপনার হয়তো এতে কিছু যায় আসে না, কারণ এখানে আপনার পরিবারের কেউ নেই, আর তাছাড়া পরিবারের কেউ আগুনে পুড়লেই বা আপনার কি, নিজের আত্মীয় বা মানবতার প্রতি দয়া তো মানুষের থাকে। আপনি আসলে মানুষের মত‌ দেখতে কোন পশু। মানুষ নন।
আপনাকে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু তথ্য দেই, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় একটি যাত্রী বাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় হেলপারসহ ৩জন দগ্ধ হয়। সন্ধ্যার দিকে আপনাদের কেউ আলিফ পরিবহনের বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গাইবান্ধায় বাসে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে মারা যায় সাত জন, আর আগুনে পুড়ে যন্ত্রনায় কাতরানো মানুষের সংখ্যা তো অগণিত। আপনি কি জানেন, এদের অনেকে ক্যান্সার ঝুকিতে আছেন, অনেকের একটি করে চোখ নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকের হাত ও পা ভেঙ্গে গেছে বা পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। সারা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আপনাদের হামলার শিকার হয়ে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে, বোঝা হয়ে পড়ছে আরেকজনের উপর। কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এই কর্মক্ষম ব্যক্তির পরিবার এরপর থেকে কিভাবে চলবে? কিভাবে কাটবে তার বাকি জীবন? তার ছোট বাচ্চাটি যদি না খেতে পেয়ে মারা যায়, তার জন্য কিন্তু আপনিই দায়ী। তার স্ত্রী যদি আর কোন পথ না পেয়ে নিজের শরীর বেচতে শুরু করে তার জন্য কিন্তু আপনিই দায়ী।
কখনও কি ভেবেছেন মাত্র ৫০০ বা ১০০০ টাকার জন্য আপনি যে একটি বাসে বা মাইক্রোবাসে পেট্রোল বোমা মারলেন, ঐ বাসে বা মাইক্রোবাসে তো আপনার পরিবারের কেউ থাকতে পারে, আপনি যখন আরেকজন মানুষের বাবাকে পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়িয়ে মারছেন তখন কি নিজের বাবার চেহারা একবারও মনে পড়েনি? যে ছেলেটি পেট্রোল বোমার আঘাতে কাতরাচ্ছে তার ছবি পত্রিকায় দেখে কি নিজের ভাইয়ের কথা মনে পড়েনি? আপনার পেট্রোল বোমার আঘাতে যদি আপনার বোন বিধবা হয়ে গিয়ে নিজের শরীর বিক্রি শুরু করে তাহলে আপনিও বোধহয় একদিন আরেকটি পেট্রোল বোমা মেরে হাজার খানেক টাকা আয় করে তার কাছেই খদ্দের হিসেবে যাবেন। ভুলেই গিয়েছিলাম, আপনি তো আসলে মানুষ না, মানুষের মতো দেখতে পশু; পরিবারের কেউ মরে গেলে আপনার কি যায় আসে?
তবে আমি আপনার সাহসের প্রশংসা না দিয়ে পারি না। সন্ত্রাস বিরোধী আইন(২০০৯) অনুযায়ী পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মানুষ মারলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে। তাছাড়া যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় জড়িতদের ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। পেট্রোল বোমা বহনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবু আপনার কি সাহস!! এর মধ্যেও কেউ আপনাকে আটকাতে পারছে না। মাত্র কিছু টাকার লোভে এই কাজ করার সাহস কয়জনের থাকে?! আপনাদের অনেকে আবার নিজের নেতার কথার প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। দু:খ লাগে আপনার জন্য কারণ কয়েকদিন পর এই নেতা যখন আপনার লাশ নিয়ে ব্যাবসা করবে, রাজনীতি করবে; আপনি তখন দেখার জন্য বেচে থাকবেন না। তবে যতই সাহস দেখান আপনি মনে হয় একটি প্রবাদ জানেন, চোরের দশ দিন আর গেরস্তের এক দিন। আল্লাহর কসম, একদিন যদি আপনাকে হাতে পাই তাহলে আপনার সেদিন মর্গে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
আমরাও তরুণ আপনারাও তরুণ। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি আর আপনারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেন। আপনাদের কাছে অনুরোধ, মানুষ হোন এবং আমাদের সাথে যোগ দিন। সামান্য কিছু টাকার লোভে মানুষকে পুড়িয়ে মারবেন না। দেশের নরখাদক নেতাদের কথায় মানুষের জীবন কেড়ে নেবেন না। আপনার টাকা লাগলে, আপনার শক্তিকে ব্যবহার করে ছোট কোন কাজ করেন দেখবেন দিনশেষে যা আয় করছেন তা দিয়ে একমুঠো ভাত খেতে অনেক শান্তি লাগছে। আর আপনার যদি এতই নেতা হবার ইচ্ছা তাহলে সত্যিকারের নেতা হন। দেশের মানুষের নেতা হন। যারা এইসব কাজে জড়িত তাদের ধরিয়ে দিয়ে দেশের মানুষের সত্যিকারের নেতা হয়ে ওঠেন। আমরা আপনার নেতৃত্ব সানন্দে গ্রহন করবো। আমার কথায় যদি আপনার কঠোর মন গলাতে না পারে, তাহলে দয়া করে যে কোন বার্ন ইউনিটে গিয়ে আগুনে পোড়া মানুষের চিৎকার শুনে আসবেন। অথবা আগুনে পুড়ে মরা কোন মানুষের পরিবারের কারো সাথে কথা বলে আসবেন।
ইতি,
আপনার দেশের আশাবাদী এক মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:০৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×