somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ সরি!

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাগ্নি রত্নাকে ফোন করলো মামা বদরুল। বললো, ‘তোর মা বাবা আবার কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে।’
‘মামা, তুমি যে কি না! এটা ফোন করে বলার মতো কোন কথা হলো?’
আসলেই এটা ফোন করে বলার মতো কোন ঘটনা নয়। পঁয়ত্রিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে মিস্টার খলিল রেগে গেলে স্ত্রীর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন এবং বাসার কাঁচের বাসনপত্র ভাংচুর করেন। স্ত্রীর সাথে এক বিছানায় না শুয়ে ড্রইংরুমের সোফায় শুয়ে রাত কাটান তিনি।
কথাবার্তা বন্ধের এই মেয়াদ কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েকদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকে। তারপর কিভাবে কিভাবে যেন তাদের মধ্যে আবার কথাবার্তা শুরু হয়। তাদের একমাত্র সন্তান রত্না ছোটবেলা থেকেই এমন ঘটনা দেখে আসছে। বিশেষ করে চাকরি থেকে খলিল সাহেবের অবসর গ্রহণ ও রত্নার বিয়ে হয়ে যাবার পর থেকে এমন ঘটনা বেড়ে গেছে। তাই বাবা মা পরস্পরের সাথে কথা বলছেন না, এটা রত্নার কাছে কোন খবরই নয়। বাবার কোন কিছুর প্রয়োজন হলে কাজের বুয়া ফাতেমার মাকে ডেকে বলেন, ‘এই, রত্নার মাকে বল আলমারি থেকে আমার সবুজ রঙের পাঞ্জাবিটা খুঁজে দিতে।’ অথবা মা হয়তো ফাতেমার মাকে ডেকে বলেন, ‘রত্নার বাবাকে বাজার থেকে সজনের ডাঁটা আনতে বলিস।’
প্রতি মাসে এভাবে তিন চার দফা মিডলওম্যান হিসেবে বুয়া ফাতেমার মা নিষ্ঠার সাথে খলিল সাহেব ও তার স্ত্রীর মধ্যে বাক্য বিনিময়ের এই গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছে। তাই মামার ফোন পেয়ে রত্না মহা বিরক্ত। রত্না তখন তার চার বছরের ছেলে সুমনকে বাথরুমে নিয়ে সাবান দিয়ে গোসল করাতে ব্যস্ত ছিল। খুবই চঞ্চল প্রকৃতির ছেলেকে গোসল করাতে গিয়ে সে এমনিতেই পেরেশান। ঠিক এই সময় মামার ফোন। বিরক্ত মুখে মোবাইলের সংযোগ কেটে দিয়ে সে বাথরুমে ঢুকে দেখলো, শাওয়ারের কল ফুল ফোর্সে ছেড়ে দিয়ে সুমন ন্যাংটো হয়ে আনন্দে লাফালাফি করছে। ছেলেটা এখনই পা পিছলে পড়বে আর চিৎকার করে বাড়ি মাথায় তুলবে। রত্না গিয়ে তাকে ধরার আগেই সেটা ঘটে গেল। ছেলের পিঠে ধুম ধাম দুটো ঘা বসিয়ে দিয়ে রত্না তার আর্ত চিৎকার ফুল ভলিউমে তুলে দিল। এরপর টাওয়েল দিয়ে জড়িয়ে ওকে নিয়ে বাথরুম থেকে বেরতেই আবার ফোন এল। আবার মামার কল। বিরক্তি আর কাকে বলে?
‘কি হলো? বার বার ফোন করছ কেন?’
‘রত্না, এবার কিন্তু ব্যাপারটা সিরিয়াস হয়ে গেছে রে। তোর বাবা রেগে বেডরুমের জানালার কাঁচ ঘুষি মেরে ভেঙ্গে ফেলেছে। তার হাত কেটে রক্ত ঝরছে। এ বাড়িতে থাকলে তুই বুঝতে পারতি।’
‘আমার বোঝার দরকার নেই। বাবাকে স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে হাত ব্যান্ডেজ করে নিতে বল।’
‘সে তো করা হয়েছে। তা’ তোর ছেলে কাঁদছে কেন?’
‘ওর নানা নানির বুড়ো বয়সে ভীমরতি হয়েছে তাই।’
‘এই শোন, শোন।’
মামার কথা শুনবে, নাকি ছেলের কান্না থামাবে? রত্না ফোনের সংযোগ কেটে দিয়ে সুমনের কান্না থামানোর জন্য ওর পিঠে আরও দুটো ঘা বসিয়ে দিল। সুমন কিন্তু এবার সত্যি সত্যিই থেমে গেল। সে ছোট হলেও মায়ের রাগ ঠিকই বুঝতে পারে। তখন কান্না থামিয়ে সে শুধু ফোঁস ফোঁস করে। কাঁদলে মায়ের হাতে আবার মার খেতে হবে, এটা সে বেশ বোঝে।
ছেলের গা মাথা মুছে ভাত খাইয়ে বিছানায় শুইয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিল রত্না। সুমনের বাবা ফিরোজ লাঞ্চ করতে বাসায় এল। ঘরে ঢুকে শার্ট খুলে হ্যাঙ্গারে রাখার পর ফিরোজ দেখলো, রত্নার মোবাইলে কল এসেছে। টেবিলের ওপর থেকে ফোনটা তুলে রত্নার হাতে দিয়ে সে বললো, ‘কথা বলো। তোমার মামার ফোন।’
রত্না ফোন রিসিভ করে কানে ধরতেই শুনল মামার উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর। ‘রত্না, ফোনটা রাখিস না মা। আমার কথা শোন। ফাতেমার মা দুই সপ্তাহ ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছে। এদিকে তোর মা বাবা কথা বন্ধ করে বসে আছে। ফাতেমার মায়ের ডিউটি এখন আমাকে করতে হচ্ছে। বুয়া না থাকায় তোর মায়ের মেজাজ ভীষণ গরম। আমাকে যা’ তা’ বলছে। দুলাভাইও আমার সাথে ভালো ব্যবহার করছে না। তুই তো জানিস, তোর বাবা কখনো আমার পুরো নাম ধরে ডাকে না। নামের প্রথম অংশ বদ বলে ডাকে। সেসব না হয় সহ্য করা গেল। কিন্তু আমি তো ঢাকায় এসেছি দুই দিনের জন্য। বায়িং হাউসে আমার একটা ইন্টারভিউ আছে। সেটা হয়ে গেলে আমি আবার গ্রামের বাড়ি চলে যাবো। তখন কি হবে, বল?’
রত্না রাগে থর থর করে কাঁপছিল। সে শুধু ‘রাবিশ’ বলে মোবাইল সেটটা ড্রেসিং টেবিল লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারলো। আয়নার কাঁচ ভাঙ্গার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলটা কয়েক টুকরা হয়ে ছড়িয়ে গেল মেঝেতে। ফিরোজ হতভম্ব হয়ে বললো, ‘এটা কি করলে?’
‘যা করা উচিত, তাই করলাম।’
ফিরোজ আমতা আমতা করে বললো, ‘এটা নিয়ে কিন্তু তোমার তিনটা ফোন ভাঙ্গা হলো’
ঘরের ভেতর এত সব কাণ্ডেও সুমনের ঘুম ভাঙ্গেনি। মায়ের হাতে মার খেলে সেদিন তার ভালো ঘুম হয়। ফিরোজের সাথে ডাইনিং টেবিলে খেতে বসে রত্না বললো, ‘আমার মামা একজন অতি বিরক্তিকর মানুষ। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই না। তুমি তোমার ফোন থেকে মামাকে কল দিয়ে বলো, তার বায়িং হাউসের ইন্টারভিউ হয়ে গেলে যেন এক মুহূর্ত দেরি না করে সে গ্রামের বাড়ি চলে যায়।’
খাওয়া শেষে মামাশ্বশুরকে ফোন করলো ফিরোজ। রত্নার বক্তব্য তাকে জানিয়ে দিল সে। বদরুল বললো, ‘ফোনটা ওকে দাও তো। একটু কথা বলি।’
‘আপনার সঙ্গে তো সে কথা বলতে চাচ্ছে না, মামা।’
‘কি মুশকিল! কথা না বললে কি করে হবে? ফাতেমার মা দুই সপ্তাহ ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। তোমার শ্বশুর শাশুড়ি কথাবার্তা বন্ধ করে বসে আছে। আমি তো মহা বিপদে পড়লাম দেখছি।’
ফিরোজ মোবাইলের নিচের অংশটা হাত দিয়ে চেপে ধরে রত্নাকে বললো, ‘ফাতেমার মা দুই সপ্তাহ ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছে। তোমার বাবা মা কথা বলা বন্ধ করে বসে আছে।’
‘তাতে কি হয়েছে? আমার বাবা মাকে আমি চিনি না? মামার কাছ থেকে চিনতে হবে? মামা চলে গেলে তারা ঠিকই কথা বলা শুরু করবে। মামাকে অহেতুক হই চই করতে নিষেধ করো।’
ফিরোজ বললো, ‘মামা, আপনি চলে গেলে ওনারা ঠিকই কথা বলা শুরু করবেন। আপনি অহেতুক হই চই করবেন না।’
‘তোমরা বুঝতে পারছ না মামা। এবারের পরিস্থিতি আগের মতো নয়। দুলাভাই বলেছেন, আজরাইল এসে ডাক দিলেও তিনি বুবুর কাছে এক গ্লাস পানি চেয়ে খাবেন না। খুব কঠিন অবস্থা।’
ফিরোজ আবার ফোনের নিচের অংশ চেপে ধরে রত্নাকে ফিস ফিস করে বললো, ‘আজরাইল এসে ডাক দিলেও বাবা নাকি মায়ের কাছে এক গ্লাস পানি চেয়ে খাবেন না। খুব কঠিন অবস্থা।’ রত্না বিরক্ত হয়ে বললো, ‘দেখ, বাবার এসব হুমকি ধামকি জীবনে অনেক শুনেছি। তুমি মামাকে বলো ফালতু ব্যাপারে মাথা না ঘামিয়ে কাজ শেষে তিনি যেন বাড়ি চলে যান।’
ফিরোজ তার মামা শ্বশুরকে বললো, ‘মামা, আপনার কাজ শেষ হয়ে গেলে বাড়ি চলে যান। আমার শ্বশুরের এমন হুমকি ধামকি জীবনে আমরা অনেক শুনেছি। এটা কোন ব্যাপার না।’
উপায়ান্তর না দেখে বদরুল শেষে তাই করলো। ইন্টারভিউ শেষ করে অশ্রুসজল চোখে বোন দুলাভাইয়ের কাছে বিদায় নিয়ে সে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় চলে গেল। তবে যাবার আগে সে গোপনে তার দুলাভাইয়ের কানে কানে কিছু কথা বলে গেল। শুনে খলিল সাহেব বললেন, ‘শালা বদের মাথায় বুদ্ধি কত! এত বুদ্ধি নিয়ে তুই ডিগ্রী পরীক্ষায় ফেল করিস কিভাবে?’
ঘটনার এক সপ্তাহ পর খলিল সাহেব জামাইকে ফোন করে বললেন, ‘কি ব্যাপার, রত্নার ফোন সব সময় বন্ধ থাকে কেন? বার বার ট্রাই করেও কল যাচ্ছে না। এদিকে সুমনের নানি সুমন সুমন করে অস্থির হয়ে গেছে। কাল তো তোমার অফিস ছুটি। একবার তোমরা আসো না বাবা। পরিবাগ থেকে মগবাজার আর কত দূর? ছুটির দিন রাস্তায় জ্যাম থাকবে না।’
ফিরোজ বললো, ‘আচ্ছা, রত্নাকে বলে দেখি।’
রত্নার যাওয়ার ইচ্ছা নেই। তবু ফিরোজের প্রস্তাবে সে রাজি হলো। শুধু বললো, ‘তুমি যে চিন্তা করে যেতে চাচ্ছ তা’ ঠিক নয়। গিয়ে দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে। বুয়ার অভাবে মায়ের একটু কষ্ট হচ্ছে, এই যা।’
রত্নার কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল। মিস্টার ও মিসেস খলিল পরদিন সকালে ফ্ল্যাটের দোতলায় দক্ষিণমুখি বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে গল্প করছিলেন। গেট দিয়ে রত্নাদের গাড়ি ঢুকতে দেখে দুজনেই উঠে দাঁড়ালেন। খলিল সাহেব তড়িঘড়ি করে নিচে নেমে নাতি সুমনকে ছোঁ মেরে ওর মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ওপরে চলে এলেন। স্ত্রীকে বললেন, ‘সুমন সুমন করছিলে, এই নাও সুমন সাহেব নিজেই এসে হাজির।’
নানির কোলে চড়ে সুমন বললো, ‘হিসু করবো।’
‘চলো চলো সোনা, বাথরুমে চলো।’ এই বলে সুমনকে বাথরুমে নেয়ার আগেই সুমন ওর নানির শাড়ি ভিজিয়ে দিল। এরপর এক ঘণ্টার মধ্যেই সে সারা বাসা লণ্ডভণ্ড করে ফেললো। একটা ফুলদানি, একটা সিরামিকের মগ আর দুটো চায়ের কাপ ভেঙ্গে ফেললো। ডাইনিং টেবিলে রাখা প্লাস্টিকের জগ উল্টে ফেলে সেই জগের পানিতে টাইলসের মেঝের ওপর পা পিছলে পড়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। মায়ের হাতে মার খাওয়ার ভয়ে ছুটে পালিয়ে গিয়ে সে ড্রইংরুমের কার্পেটের নিচে আশ্রয় নিল। খলিল সাহেব আনন্দে হাততালি দিয়ে তাকে কার্পেটের নিচ থেকে উদ্ধার করে ওর মায়ের ডান বাম দুই হাতের চড় থাপড় থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ওকে রক্ষা করতে লাগলেন। নাতির ভাংচুরের ক্ষমতা দেখে নানা নানি দুজনেই খুশি।
খলিল সাহেব জামাইয়ের জন্য বাজার থেকে বড় আকারের রুই মাছ আর এক নম্বর খাসির মাংসের সিল মারা ভেড়ার মাংস কিনে নিয়ে এলেন। দুপুরে ভরপেট খাওয়া দাওয়া হলো। এরপর বৈকালিক চা-নাস্তা পর্ব চলাকালে রত্না ওর মাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘এবার কথাবার্তা বলা বন্ধ ছিল কত দিন?’
‘তোর বাবাকেই জিজ্ঞেস কর।’
খলিল সাহেব জামাইয়ের সামনে একটু লজ্জা লজ্জা করছিলেন। মেয়ের ধমক খেয়ে মিন মিন করে বললেন, ‘না, বেশিদিন না। কাল বিকেল থেকে তোর মা কথা বলছে।’
মিসেস খলিল হতবাক হয়ে বললেন, ‘আমি বলছি না তুমি বলছ?’
রত্না বললো, ‘মামা তো চলে গেছে চার পাঁচদিন আগে। ফাতেমার মাও নেই। তাহলে এই ক’দিন চললো কিভাবে?’
মিস্টার ও মিসেস খলিল দুজনেই চুপ। রত্না হাতের আঙ্গুল গুলো অর্থপূর্ণভাবে নাড়াচাড়া করে দেখিয়ে বললো, ‘ইশারা ইঙ্গিতে?’
খলিল সাহেব বললেন, ‘আরে না।’ মেয়েকে বেডরুমে নিয়ে গেলেন তিনি। তারপর টেবিলের ওপর থেকে নিজের এবং স্ত্রীর মোবাইল সেট দুটো হাতে নিয়ে মেসেজ অপশন বের করে রত্নার হাতে দিয়ে খাটের এক কোনায় অপরাধীর মতো বসে রইলেন। রত্না তার মায়ের মোবাইল সেটের পর্দায় দেখলো ইংরেজি হরফে বাংলা লেখা, আমার কালো স্যান্ডেলটা কোথায়? বাবার সেটে লেখা আছে, জানি না। খুঁজে দেখো। খাটের নিচেই তো ছিল। মায়ের সেটে লেখা আছে, চা দাও। ড্রইংরুমে কয়েল দাও। খুব মশা। এরপর বাবার সেটে লেখা, সয়াবিন তেল শেষ। এক বোতল নিয়ে এসো। উত্তরে মায়ের সেটে লেখা, তেল কম খাও। হাই প্রেশার তো আর এমনি এমনি হয়না! তেল কিনতে কিনতে ফতুর হয়ে গেলাম। এরপর মায়ের সেটে লেখা, আচার আছে? বাবার সেটে লেখা, আমের না জলপাইয়ের? মায়ের সেটে লেখা, আমের।
রত্নার আর পড়ার ধৈর্য হলো না। সে বাবার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘এ বুদ্ধি কে দিল তোমাদের?’ খলিল সাহেব লাজুক ভঙ্গিতে বললেন, ‘কে আর দেবে? যাওয়ার আগে তোর ওই বদ মামা শিখিয়ে দিয়ে গেল।’
‘আর তোমরা তাই শিখে মোবাইলে এসএমএস করা শুরু করে দিলে?’
খলিল সাহেব অসহায়ের মতো হাত নেড়ে বললেন, ‘আরে ওই বদের জন্যেই তো এই ক’দিন এসএমএস করে ফালতু কিছু টাকা খরচ হয়ে গেল। তোর নানা যে ওর নাম বদরুল রেখেছিল সে এমনি এমনি না। বদের গুষ্টি বদ।’
‘আমার নানার গুষ্টি তুলে কথা বোলো না বাবা।’
খলিল সাহেব ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললেন, ‘সরি!’
ড্রইংরুমের টি টেবিলের ওপর রাখা খলিল সাহেবের চশমার একটা ডাটি ভেঙ্গে ফেলে সেটা দিয়ে একটা পলায়নপর পিঁপড়াকে মারার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছিল সুমন। টিভি দেখার জন্য ড্রইংরুমে ঢুকে এই দৃশ্য দেখে রত্না তার বাবার ভাঙ্গা চশমাটা হাতে নিয়ে কপালে হাত দিয়ে সোফায় বসে রইল। এই ছেলের দাদা দাদি, বাবা ফুফু সবাই কত শান্তশিষ্ট। অথচ এই ছেলে এতো ডেঞ্জারাস! খলিল সাহেব নাতির এই নতুন ভাংচুর দেখে মহাখুশি। তিনি আনন্দে গদ গদ হয়ে বললেন, ‘সুমন সাহেব ঠিক আমার মতো হয়েছে। ছোট বেলায় আমিও এ রকম ছিলাম। স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে বাবার রেডিও খুলে ফেলে ভেতরের সব পার্টস এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলতাম। বাবার হাতে মার খাওয়ার ভয়ে কতবার যে বাড়ি থেকে পালিয়েছি, তার ঠিক নেই।’
রত্না বললো, ‘তোমার বাবাও নিশ্চয় তার ছোটবেলায় এমনই ছিলেন?’
‘তা’ তো বটেই। তোর দাদার ছেলেবেলার একটা ঘটনা শোন।’
‘আমার শোনার দরকার নেই। আমি বেশ বুঝতে পারছি, আমার ছেলে তার নানার গুষ্টির বদ স্বভাবগুলো সবই পেয়েছে।’
খলিল সাহেব মনঃক্ষুণ্ণ হলেন। বললেন, ‘ওর নানার গুষ্টি তুলে কথা বলা কি ঠিক হচ্ছে, মা?’
রত্না মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ বিড় বিড় করলো। তারপর বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললো, ‘সরি!’
*****************************************************************************************
এই গল্পটি মাসিক মৌচাকে ঢিল পত্রিকার ঈদুল আযহা সংখ্যায় (অক্টোবর/২০১২) প্রকাশিত। ব্লগার বন্ধুরা যারা এটি পড়েননি, তাদের জন্য ব্লগে প্রকাশ করলাম।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৭
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

×