somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ ময়ূর সিংহাসন

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘আমরণ অনশন’ নামের এক ধরণের প্রতিবাদ কর্মসূচি আমাদের এই উপমহাদেশে বেশ জনপ্রিয়। মহাত্মা গান্ধী ছিলেন এই কর্মসূচির পথিকৃৎ। প্রতিবাদের এই ভাষা প্রয়োগ করে তিনি কিছু সাফল্যও পেয়েছিলেন। নেটিভরা না খেয়ে মারা যাবে ভেবে ইংরেজ শাসকরা বিব্রত হতো। কিন্তু আজকাল এই কর্মসূচির ধার কমে গেছে। এখন কেউ না খেয়ে মরে গেলে কেউ বিব্রত হয় না। তা’ ছাড়া কর্মসূচির প্রথম অংশ ‘আমরণ’ হলেও দাবী দাওয়া আদায় হোক বা না হোক, বাস্তবে তেমন কাউকে আজ পর্যন্ত মরতে দেখা যায়নি। স্বয়ং গান্ধীও না খেয়ে মরেননি, তিনি মরেছিলেন গুলি খেয়ে।

আমাদের বাংলাদেশে প্রায়ই এই কর্মসূচি পালন করা হয়ে থাকে। দাবী দাওয়া আদায়ের জন্য আজ মাস্টার রোলের কর্মচারীদের আমরণ অনশন পালনের কাহিনী শুনুন। নিম্ন পদের এইসব কর্মচারীদের চাকরি দিনমজুরদের মতো। কাজ থাকলে বেতন পায়, না থাকলে নাই। এদের ইনক্রিমেন্ট, বোনাস, পেনশন, গ্র্যাচুইটি কিচ্ছু নাই। অফিসার জবাব দিয়ে দিলে এই চাকরিও নাই। কিন্তু এবার এরা একাট্টা হয়ে আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছে। এরা মরে যেতে রাজী, কিন্তু দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত কিচ্ছু খাবে না। এক ফোঁটা পানিও না। কঠিন অনশন।

এমএলএসএস, অফিস পিওন, নাইট গার্ড, ড্রাইভার, হেল্পার, মালি, দারোয়ান, দপ্তরী, মেসেঞ্জার, প্লাম্বার, কার্পেন্টার, সুইপার ইত্যাদি বিভিন্ন পদের এসব কর্মচারীরা এসেছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। তবে অধিকাংশ কর্মচারীই তাদের উনিশ দফা দাবী সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানে না। ছাপানো লিফলেট পড়েও তারা কিছু বুঝতে পারে না। অনেকে লিফলেট পড়তেও পারে না। তাদের নেতাদের কাছে তারা শুধু এটুকু শুনেছে যে, তাদের কাঁচা চাকরি পাকা হবে। সেই সাথে আরও অনেক সুযোগ সুবিধা পাবে। আশায় বুক বেঁধে তারা তাদের রক্ত জল করা উপার্জন থেকে নেতাদেরকে চাঁদা দিয়ে আমরণ অনশন করতে এসেছে।

নেতারা অনশনস্থলে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে জ্বালাময়ী ভাষায় বক্তৃতা করছে। সকাল আটটা থেকে বক্তৃতা চলছে। বক্তৃতায় ক্ষুদিরাম, সূর্য সেন থেকে শুরু করে চে গুয়েভারা পর্যন্ত সকল বিপ্লবীর গুণগান করা হচ্ছে। নেতারা একের পর এক আসছে আর বিপুল বিক্রমে হাত পা ছুঁড়ে ভাষণ দিচ্ছে। ভাষণের ফাঁকে ফাঁকে বজ্রকন্ঠে সম্মিলিত শ্লোগান উঠছে, ‘অফিসারদের চামড়া তুলে নেব আমরা’। এভাবে দুপুর দু’টো পর্যন্ত ভাষণ শোনার পর কর্মচারীরা ক্লান্ত হয়ে রাস্তার ওপর শুয়ে পড়লো। অবশ্য সকালে অনশন শুরু হবার পরপরই নেতাদের কেউ কেউ রাস্তার ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে পড়েছে। তাদের পাশে স্যালাইন রেডি। সময় হলে তাদেরকে স্যালাইন পুশ করা হবে। নেতাদের শক্ত চেহারায় ধণুর্ভঙ্গ পণ। দাবী আদায় না করে তারা কেউ ঘরে ফিরে যাবে না।

রাস্তা বন্ধ করে এসব করা বেআইনি জানিয়ে সকাল থেকে একদল হেলমেট পরা পুলিশ বার বার তাদের সরে যেতে বলছে। কিন্তু তারা পুলিশের কথায় কর্ণপাত করছে না। পুলিশ মাঝে মাঝে তাদের কারো কারো হাত ধরে তুলে সরিয়ে দিলেও তারা আবার এসে শুয়ে পড়ছে রাস্তায়। ট্রাফিক পুলিশ হুইশেল বাজিয়ে যানবাহন অন্য রাস্তায় ডাইভার্ট করে দেওয়ার ফলে সকাল থেকে সেসব রাস্তায় তীব্র যানজট। একজন পুলিশ অফিসার কর্মচারী নেতাদেরকে বিনীতভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছে এই বলে যে, ‘ভাই, আপনারা রাস্তার ধারে মানব বন্ধনের মতো করে দাঁড়িয়ে অনশন করলেই তো পারেন। অহেতুক রাস্তায় শুয়ে পড়ে রাস্তা বন্ধ করার দরকার কী?’
‘অনশন ধর্মঘট দাঁড়িয়ে নয়, শুয়ে করতে হয়।’ নেতাদের সাফ জবাব।

ইতিমধ্যে পুলিশ দু’তিনবার মৃদু লাঠিচার্জ করে কর্মচারীদের তুলে দিলেও তারা নাছোড়বান্দার মতো আবার এসে শুয়ে পড়েছে রাস্তায়। নেতাদের একজন ড্রাইভার আকরাম মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলছে, ‘পুলিশ তুমি যতই করো, তোমার বেতন একশো বারো’।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হেল্পার মনসুর জিভে কামড় দিয়ে ফিস ফিস করে বললো, এইডা কী কইলেন ওস্তাদ? আন্নে তো ফাউল করি হালাইছেন! ফুলিশের বেতন একশো বারো টিয়া আছিল ফাকিস্তান আমলে। অহন তো হ্যাগোর বেতন হাজার হাজার টিয়া।
আর একজন নেতা মাইকে কিছু বলার জন্য অনেকক্ষণ থেকে উসখুস করছিল। এবার সে আকরামকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে মাইকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।
‘ভাইসব, এই পুলিশরা ঘুষ খেয়ে আমাদের ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ের কর্মসূচি পণ্ড করে দিতে চায়। কিন্তু শত নির্যাতনেও আমরা রাজপথ ছাড়বো না। মরতে যখন এসেছি, তখন ইয়ে মানে............আপনারা সবাই একসাথে বলেন, মফিজ ভাই ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই।’
এই নেতার নিজের নামই মফিজ। সে একজন নাইট গার্ড। কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ মৃদু কণ্ঠে মফিজের শ্লোগান দিলেও অন্যেরা চুপচাপ বসে রইল। নেতা মফিজ কর্মচারীদেরকে চাঙ্গা করার জন্য শ্লোগান বদলে দিল, ‘ভাইসব, আপনারা সবাই আমার সাথে সাথে বলেন, মফিজ তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে।’ কিন্তু তার এই শ্লোগানেও বিশেষ কাজ হলো না। বরং পুলিশ এসে নেতা মফিজের মাইক কেড়ে নিয়ে তার দুই বগলের নিচে হাত ঢুকিয়ে সরিয়ে নিয়ে গেল।

কর্মচারীদেরকে নেতাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে, দুপুরের আগেই মন্ত্রী মহোদয় এসে তাদের সব দাবী দাওয়া মেনে নেবেন এবং তিনি নিজের হাতে অনশনকারিদেরকে শরবত খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করাবেন। এসব দৃশ্য ভিডিও করার জন্য মোবাইল নিয়ে সবাই প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তিনটা বেজে পার হয়ে গেলেও মন্ত্রী মহোদয় এলেন না। শরবত তো দূরের কথা, ওয়াসার হলদে রঙের নোংরা পানিও দেখা যাচ্ছে না কোথাও।

কোন কোন নেতা গোপনে প্যান্টের পকেটে কলা নিয়ে এসেছিল। সেই কলা লুকিয়ে খেতে গিয়ে তারা অন্যদের কাছে ধরা পড়ে গেল। এই নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ভীষণ উত্তেজনা। ধরা পড়া নেতারা প্রথমে হম্বি তম্বি করলেও কর্মচারীদের চড় থাপড় খেয়ে পরে তারা চুপসে গেছে। নেতাদের দুই গ্রুপের মধ্যে এ নিয়ে কয়েকবার হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হলেও পুলিশ নির্বিকার। তারা দাঁত বের করে হাসছে। এর মধ্যে একজন নেতা সিগারেট ধরালে আবার শুরু হয়ে গেল তর্কাতর্কি। সিগারেট খেলে অনশন ভঙ্গ হয় কী না এই নিয়ে তুমুল ঝগড়া। আধাঘণ্টা এ নিয়ে তর্কাতর্কির পর ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত কর্মচারীরা সবাই শুয়ে পড়লো রাস্তায়।

আর এক নেতা মেসেঞ্জার শাহজাহান তার সহকর্মীদের নিয়ে ধ্বস্তাধস্তি করে পুলিশের কাছ থেকে মাইক ছিনিয়ে নিয়েছে। সে এখন তার ডানহাতের তর্জনী উপরে তুলে বজ্রকন্ঠে ভাষণ দিচ্ছে
‘প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এখানে অনশন করতে এসেছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের সাথে ছোটলোকের মতো ব্যবহার করছে। যেন আমরা মানুষই না। এত অসভ্য পুলিশ পৃথিবীর আর কোন দেশে নাই। আপনারা লন্ডনে গেলে দেখবেন সেখানকার উঁচু উঁচু টুপি পরা পুলিশরা মাথা নিচু করে আপনাকে সালাম দিচ্ছে। আপনি সালাম দিলে ওরাও ওয়ালাইকুম আস সালাম বলে জবাব দিবে। ওরা কত ভদ্র! আর...............।’

শাহজাহানের ভাষণ শুনে বিরক্ত হয়ে গেল কর্মচারীরা। তাদের ভেতর থেকে এক পাটি স্যান্ডেল ছুঁড়ে মারলো কেউ। একজন চিৎকার করে বললো, ‘ওই ব্যাটা, লুকাইয়া কয়ডা কলা খাইছস আগে হেইডা কইয়া ফালা। তারপর তর ভাষণ শুনুম।’ শাহজাহান থতমত খেয়ে মাইকের সামনে থেকে সরে গেল। এই স্যান্ডেল ছোঁড়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে কিছুক্ষণ তর্ক বিতর্ক ও হাতাহাতি হলো। কিন্তু সকাল থেকে দানাপানি কিছু পেটে না পড়ায় নিস্তেজ কর্মচারীরা বেশিক্ষণ তা’ চালিয়ে যেতে পারলো না। শুকনো মুখে রাস্তার ওপর আবার শুয়ে পড়লো তারা।

পুলিশ তাদের হ্যান্ড মাইকে বার বার ঘোষণা দিচ্ছেঃ আপনাদেরকে আর দশ মিনিট সময় দেওয়া হলো। এর মধ্যে যদি রাস্তা খালি করে আপনারা সরে না যান তো আমরা এ্যাকশন নিতে বাধ্য হবো।
কিন্তু কর্মচারীরা মরার মতো পড়ে রইল রাস্তায়। দাবী দাওয়া আদায় না হলে অনশন করে তো মরতেই হবে। পুলিশের হাতে মারা পড়লে লাভ ছাড়া ক্ষতি নাই। কর্মচারীদের মধ্যে একটা লোভনীয় গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ মারা গেলে তার পরিবারকে সরকার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা আর আহত হলে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সুতরাং পুলিশ যা করে করুক, কর্মচারীরা রাজপথ ছেড়ে যাবে না।

কিন্তু বেলা চারটার দিকে পুলিশ যখন সত্যি সত্যিই এ্যাকশন নিল, তখন শত শত কর্মচারী পড়িমরি করে পালাতে শুরু করলো। একদিক থেকে পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ, আর একদিক থেকে জলকামানের হিম শীতল ঠাণ্ডা পানি। সেই পানি আবার লাল রঙের, যেন আসামিকে তার লাল রঙের জামাকাপড় দেখে শনাক্ত করা যায়। পালিয়ে গিয়েও কিছু কর্মচারী দূর থেকে পুলিশের দিকে ইট পাটকেল ছুঁড়তে লাগলো। পুলিশও একের পর এক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে লাগলো। কাঁদানো গ্যাসের ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার।

দেখতে দেখতে আধাঘণ্টার মধ্যে রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেল। ‘পুলিশের চামড়া তুলে নেব আমরা’ শ্লোগান দিতে দিতে নেতা শাহজাহানের নেতৃত্বে কর্মচারীরা কিছু গাড়ি ভাংচুর করলো। পুলিশ ক্ষিপ্রগতিতে তাড়া করে তাদের কয়েকজনকে ধরে ফেললো। তারপর পেটাতে পেটাতে তাদেরকে নিয়ে এলো পুলিশ ভ্যানের কাছে। ধরা পড়া কর্মচারীদের পোশাক আশাক লাল পানিতে ভেজা। ঠাণ্ডায় ও ভয়ে তারা ঠক ঠক করে কাঁপছে। তাদের ক্ষুধার্ত চেহারা, মুখে ছোপ ছোপ লাল রঙ আর কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁঝে রক্তবর্ণ চোখগুলো হরর মুভির ভ্যাম্পায়ারের মতো দেখাচ্ছে। দু’জন পুলিশ তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানোর সময় একজন আরেক জনকে বললো, ‘এদের চেহারা ডাকাতের মতো, তাই না?’

ধরা পড়া আটজন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। হাজত ঘরের বারান্দায় হ্যান্ডকাফ পরে বসে আছে তারা। ওসি সাহেব নিজে দাঁড়িয়ে থেকে থানার মুন্সিকে দিয়ে তাদের নাম ঠিকানা লেখাচ্ছেন। যাদের গাড়ি ভাংচুর হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন থানায় এসেছে জিডি করতে। তারা চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে আছে কর্মচারীদের দিকে। পুলিশ না থাকলে নির্ঘাত দুই পক্ষের মধ্যে ঘুষোঘুষি শুরু হয়ে যেতো। ওসি সাহেব ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। তার ওপর কর্মচারীদের পক্ষে এ পর্যন্ত থানায় কোন ফোন না আসায় তার কোন টেনশন নাই। পান খেতে খেতে আসামিদের সাথে রসিকতা করে কথা বলছেন তিনি।

কয়েকজনের নাম ঠিকানা লেখা হয়ে গেলে নেতা শাহজাহানের পালা এলো। নেতাদের মধ্যে শুধু শাহজাহানই ধরা পড়েছে। অন্য নেতারা পালিয়ে গেছে। ওসি সাহেব হাসতে হাসতে শাহজাহানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই ব্যাটা, তুই তো পুলিশের চামড়া তুলে নিতে চেয়েছিলি, তাই না?’
শাহজাহান কিছু বলার আগেই অন্যেরা সমস্বরে বলে উঠলো, ‘জি স্যার।’ শাহজাহান কাঁপতে কাঁপতে আতংকিত চোখে তাকিয়ে রইল ওসি সাহেবের দিকে।
ওসি সাহেব বললেন, ‘লন্ডনের পুলিশ খুব ভালো। তোকে সালাম দেয়। আর আমরা অসভ্য ছোটলোক, তাই না?’
সুইপার নীতুরাম কুষ্টিয়ার লোক। ওপাশে পশ্চিম বঙ্গের নদীয়া জেলার লোকেদের মতো শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলে। সে বললো, ‘হাঁ স্যার, ও এসব কথা বলেছে। আমরা সবাই শুনেছি। আমাদের কোন দোষ নেই স্যার। আমরা নির্দোষ খালাস।’
‘চুপ কর ব্যাটা! মামলাই হলো না, ব্যাটা এখনই খালাস!’ ওসি সাহেব ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলেন নীতুরামকে। তারপর শাহজাহানকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোর নাম কী?’
‘শাহজাহান। শাহজাহান আলি।’
‘বাপের নাম?’
‘জাহাঙ্গীর আলি।’
‘ওহ্ হো! তুই তো ব্যাটা মোগল সম্রাট শাহজাহান। এই জন্য তোর এত তেজ। তোর বাপও তো সম্রাট ছিল। এবার বুঝতে পেরেছি। আমাদের চামড়া তুই তুলে না নিলে কে নেবে?’ ওসি সাহেব শাহজাহানের পায়ের সামনে পানের পিক ফেলে বললেন, ‘তুই মোগল সম্রাট হয়ে এভাবে হাতে হ্যান্ডকাফ পরে বসে আছিস দেখে আমারই তো লজ্জা লাগছে রে! এই কে আছো, সম্রাট শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসনটা নিয়ে আসো। জাঁহাপনাকে আরাম করে সিংহাসনে বসিয়ে দাও। হাঃ হাঃ হাঃ। সম্রাট শাহজাহান দিল্লী আগ্রা ছেড়ে আমাদের থানায় এসে বসে আছে। তাও নোংরা মেঝের ওপর। ছি, ছি, কী লজ্জার কথা!’

দু’জন সেপাই বৈদ্যুতিক তার ও এ্যাডাপটারযুক্ত একখানা ভারি লোহার তৈরি হাতলওয়ালা চেয়ার ধরাধরি করে এনে শাহজাহানের সামনে রাখার সাথে সাথে সে আতংকে মূর্ছা গেল। ওসি সাহেব মৃদু হেসে সেপাইদেরকে চেয়ারটা ফেরত নিয়ে যেতে ইশারা করলেন। তারপর অন্য সেপাইদেরকে শাহজাহানের মাথায় পানি ঢালার নির্দেশ দিয়ে চলে গেলেন নিজের চেম্বারে।
********************************************************************************************************************
[ এই গল্পটি সমাজের কোন শ্রেনী বা পেশার মানুষের প্রতি কটাক্ষ করে লেখা হয়নি। লেখক বিশ্বাস করেন যে, সমাজে ভালো ও মন্দ, নির্দয় ও দয়ালু, উচিৎ ও অনুচিৎ, ক্ষমা ও ঘৃণা ইত্যাদি বিপরীতমুখী সকল বিষয় প্রাণ সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে, প্রাণের বিলুপ্তি পর্যন্ত তা’ থাকবে।
এই গল্পে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অজ্ঞানতা ও অদূরদর্শিতাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। সমালোচনা করা হয়েছে নিরক্ষরতার অভিশাপ ও অযোগ্য নেতৃত্বকে, যে কারণে অশিক্ষিত দরিদ্র মানুষ কোন কালেই তার প্রাপ্য বুঝে পায়নি। শুধু নিপীড়িত ও নির্যাতিতই হয়ে এসেছে চিরকাল। ]


সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৬
৫০টি মন্তব্য ৫০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



আমার এক বন্ধু আছে। ধরা যাক, নাম তার করিম। করিমকে একদিন চায়ের দোকানে একজন বলল, “আপনি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?” করিম চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, “ভূয়া হলে লাভটা কী?” লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×