বাস্তববাদী ইন্ডিয়ান
স্টুডেন্ট ভিসায় পড়তে আসা একজন ইন্ডিয়ান ছাত্র তার আনুসাঙ্গিক খরচ চালানোর জন্য এক রেস্টুরেন্টে পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে পার্টটাইম কাজ করে. যাতায়াতের জন্য তার সামর্থ অনুসারে একটা পুরানো গাড়ি কিনেছে. কিছুদিন কাজে আসার পর হিসাব করে দেখলো যাতায়ত খরচ অনেক বেশি হচ্ছে.
সে চিন্তা করলো চাকরিটা বজায় রেখে কি ভাবে যাতায়ত খরচ কমানো যায়. সে তার মালিককে বলে তার তিনজন ইন্ডিয়ান বন্ধুকে কাজ জোগাড় করে দিলো, তাদের যাতায়তের জন্য কোনো গাড়ি নেই. ওই তিনজন হিসাব করে দেখলো ট্যাক্সি ভাড়াকরে আসলে খরচ অনেক বেশি পরবে. তাই তারা গাড়িওলা বন্ধুকে প্রস্তাব দিলো তারা প্রত্যেকে ৫ ডলার করে যাতায়ত খরচ বাবদ দিবে. গাড়িওলা বন্ধু সানন্দে প্রস্তাব গ্রহণ করলো. উভয় পক্ষই লাভবান.
ভাববাদী বাংলাদেশী
ঠিক একই ধরণের পরিস্থিতিতে এক বাংলাদেশী ছাত্র আরেক বাংলাদেশী গাড়িওলা ছাত্রকে অনুরোধ করলো তাকে যাতায়াতে সাহায্য করতে. গাড়িওলা বন্ধু অনেক 'যদি' 'কিন্তু' বলার পর তার গাড়িতে নিতে রাজি হলো. গাড়িওলা বন্ধু দুই তিনদিন যাতায়ত করার পর, সবসময় শুনাতে থাকলো, গাড়িতে কত খরচ. তেল খরচ, মেরামত খরচ ইত্যাদি.
বন্ধু বুঝতে পারলো এবং অনুধাবন করতে পারলো কিছু খরচ শেয়ার করা দরকার. সে খুব বিনয়ের সাথে যাতায়ত খরচ বাবদ কিছু টাকা শেয়ার করতে চাইলো. গাড়িওলা বন্ধু খবেই ক্ষেপে যেয়ে বলতে থাকলো, সে এত ছোটোলোক না যে বন্ধুর কাছ থেকে টাকা নেবে ইত্যাদি.
এর দুই একদিন পর থেকেই গাড়িওলা বন্ধুর ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেলো. ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও তার পক্ষে বন্ধুকে যাতায়াতে সাহায্য করা আর সম্ভব হচ্ছেনা.
সর্বশেষ
এখন গাড়িওলা বন্ধু বলে বেড়াচ্ছে, তার বন্ধু খুবেই অকৃতজ্ঞ, সে তাকে যাতায়াতে কত সাহায্য করেছে, কোনো টাকা নেয়নি ইত্যাদি. সে শুধু অকৃতজ্ঞই না, সে হারকিপটে. সে অন্যের উপর চলতে চায়.
আর অপর বন্ধু বলে বেড়াচ্ছে, তার বন্ধু ছোটোলোক, ভাড়া বাবদ টাকা দাবি করে ছিল, টাকা না দেওয়াতে ব্যাস্ততার অজুহাতে তাকে নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে ইত্যাদি.
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


