somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

প্রতিনিধিত্ত্ব ছাড়া কোনো করারোপ করা যাবে না

০৮ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়াসিংটন ডি. সি. তে গাড়ির নম্বর প্লেটে এখনো এই স্লোগানটা লেখা থাকে, TAXATION WITHOUT REPRESENTATION.
১৭৬৩ সালের আগে উপনিবেশ স্থাপনকারী আমেরিকানরা ব্রিটিশদের চাইতে কম কর প্রদান করতো. ব্রিটিশরা চিন্তা করলো প্রতিরক্ষা খাতে উপনিবেশ স্থাপনকারী আমেরিকানদের আরো বেশি কর প্রদান করা উচিৎ. ১৭৬৪ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জর্জ গ্রেনভিল সুগার এক্ট নাম একটা আইন পাস করলেন. সুগার এক্ট বলা হলেও আইনটার প্রকৃত নাম আমেরিকান রেভিনিউ এক্ট. আর আইনটার মূল উদ্দেশ্য ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে গুড় আমদানির উপর বিশেষ করারোপ করা. এই আইনে আসলে গুড়ের উপর শুল্ক বাড়ানো হয় নাই বরং শুল্ক কমানো হয়েছিল. কিন্তু আইনটার উদ্দেশ্য ছিল কঠোর ভাবে চোরাচালান বন্ধ করে সঠিক ভাবে শুল্ক আদায়করা. এই সুগার এক্ট উপনিবেশ স্থাপনকারী আমেরিকানদেরকে ভীষণ ক্ষুব্দ করে তুলে. এরমধ্যে ১৭৬৪ সালেই আবার পাস হয় কারেন্সী এক্ট. এর আগে আমেরিকান উপনিবেশগুলি নিজেরাই তাদের টাকা ছাপতো. এই আইনের মাধ্যমে উপনিবেশে নিজেদের টাকা ছাপা নিষিদ্ধ করা হয়. এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসুবিধার সম্মুখীন হয়.

১৭৬৫ সালের স্ট্যাম্প এক্ট ছিল সবচাইতে ক্ষতিকারক. এই আইনের মাধ্যমে দলিলপত্র, সংবাদপত্র ও খেলার তাসের উপর করারোপ করা হয়. উপনিবেশ স্থাপনকারী আমেরিকানরা কর দিতে অনিচ্ছুক তা কিন্তু না, আসল ঘটনা হচ্ছে, তারা মনে করেছে এখানে একটা সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত. তাদের যুক্তি ছিল, যেহেতু ব্রিটিশ সংসদে উপনিবেশ স্থাপনকারী আমেরিকানদের কোনো প্রতিনিধি নাই, সেহেতু তাদের উপর করারোপ করার কোনো অধিকার ব্রিটিশদের নাই. এই স্লোগানটা এখনো অমর হয়ে আছে, 'taxation without representation'. ব্রিটিশ সরকার আমেরিকাতে স্ট্যাম্প এক্ট প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়. উপনিবেশিক পরিষদগুলি স্ট্যাম্প এক্ট প্রত্যাখ্যান করলো এবং এই আইনকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটা সঙ্গবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমেরিকার বিভিন্ন উপনিবেশ থেকে প্রতিনিধিরা ১৭৬৫ সালের অক্টোবর মাসে 'স্ট্যাম্প এক্ট কংগ্রেস' এ সমবেত হয়. এই কংগ্রেস থেকে ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয় এবং ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধ স্থগিত রাখা হয়. দাঙ্গাকারীরা ট্যাক্স কলেক্টরদের উপর হামলাচালায় এবং তাদের স্থাপনায় আক্রমণ করে. শেষপর্যন্ত ১৭৬৬ সালের ১লা মার্চ ব্রিটিশ সরকার স্ট্যাম্প এক্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়. আবার একই সময়ে ডিক্লারেটরি এক্ট নাম আরও একটা কালাকানুন জারি করে. ওই আইনে বলা হয়, ব্রিটিশ সংসদ সকল আমেরিকান উপনিবেশের উপর সার্বভৌম. এই কালাকানুন উপনিবেশ স্থাপনকারীদের সংক্ষুব্দ করে তুলে.

এতকিছুর পরও ব্রিটিশদের কোনো বোধোদয় হয় নাই. ১৭৬৭ সালে অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অফ দা এক্সচেকার) চার্লস টাউনশেন্ড সীসা, কাঁচ, রং, তৈল, এবং চায়ের উপর নতুন করে করারোপ করে. আবার উপনিবেশ স্থাপনকারী আমেরিকানরা ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করে. ব্রিটিশরা আবারো পিছু হটতে বাধ্য হয়.
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×