somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ভাবনা :-B - শালীনতা, ইভ-টিজিং X( সাম্প্রতিক ঘটনার কারনে রিপোস্ট

১১ ই মে, ২০১২ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(সাম্প্রতিক ইউল্যাবের ঘটনাটির কারনে এটি রিপোস্ট করা যুক্তিসংত বলে মনে করছি।)

আজকাল ফেসবুক, বিভিন্ন ব্লগে দেখলাম, শালীনতা নিয়ে খুব হইচই, পেজ এর পর পেজ খোলা হচ্ছে, সেখানে বলা হচ্ছে মেয়েদের পর্দা করতে, ওড়না ঠিক করে পড়তে ইত্যাদি। ভালো কথা; কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে ভদ্রতাবোধ এর মত শালীনতাবোধ ও যার যার কাছে। আপনি কোনোদিনও এই ব্যাপারটা কারো মধ্যে জোর করে আনাতে পারবেন না। শালীনতাবোধ যদি না থাকে তাহলে কেউ বোরখা পড়লেও তাকে খারাপ লাগবে। যেমন, আমাদের ক্লাসের মেয়েদের মধ্যে ২ জন ছিল, যাদের একজন ফতুয়া-জিন্স পড়ত। সে পড়ত একটু লম্বা, কিছুটা ঢিলে ফতুয়া যার হাতা লম্বা, আর ইয়া বড় ওড়না, মাথা আর শরীর এমনভাবে ঢাকা থাকত যে কোনোভাবে তাকে দৃষ্টিকটু বলা যাবে না। ধর্মের মত মেনে চলাও হল। আর আরেকজন যিনি বোরখা পড়তেন, এমনভাবে পড়তেন নাউজুবিল্লাহ্, এর বেশি কিছু বলার নাই। শালীনতাবোধ থাকলে যে পোষাক পড়া হোক না কেন, সেটা নিয়ে কিছু বলার নাই।


ইভ-টিজিং এর প্রধাণ কারন মেয়েদের পোষাক হতে পারে না, হ্যাঁ, কিছু কিছু আছে যারা এদেশীও না বিদেশীও না তাদের জন্য বাংলাদেশ এর অন্য মেয়েদের খারাপ বলা যাবে না, আর তারা ইভ-টিজিং এর শিকারও হয় না (ব্যাতিক্রম ছাড়া)। ইভ-টিজিং এর শিকার এর বেশীরভাগ ই গ্রাম/ মফস্বলের মেয়েরা বা স্কুল-কলেজের মেয়েরা। এদেশের কোনো স্কুল-কলেজের মেয়েরা পোষাক দৃষ্টিকটু নয়। একইভাবে গ্রাম/ মফস্বলের মেয়েরা সাধারণত দৃষ্টিকটু পোষাক পড়ে না। কারণ, এসব জায়গায় মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক কড়াকড়ি, যারা দৃষ্টিকটু পোষাক পড়বে তাদের জন্য বাস করাটাও সহজ না সেখানে।

তাহলে ইভ-টিজিং এর কারন??? আমার কাছে মনে হয় সামাজিক ও ব্যাক্তিগত মূল্যবোধের অভাব। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম কি শিখছে? তারা সিনেমা দেখে শিখে কিভাবে এক বখাটে ছেলের সাথে নায়িকার প্রেম হয়, তারা শিখে যা করা হোক না কেন দোষ হবে মেয়েদের। আমার এক বক ধার্মিক বন্ধু আছে, মেয়েদের শালীনতা নিয়ে কথা বলতে বলতে মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়; অথচ, নিজে প্যান্ট নামিয়ে এমনভাবে পড়ে যে, তার নিচে কিছু পড়ে থাকলে সেটা দেখা যায়, প্যন্ট চলে যায় গোড়ালির নিচে, তো তাকে কিছু বললে সে বলে, ছেলেদের এসব না মানলেও চলে (!!!!!), আর মেয়েদের রুচিহীন পোষাক দেখলে কমেন্ট করলে কোনো দোষ হয় না। কেন? এতোই যখন রুচিহীন মনে হয়, কমেন্ট করার সময় কি রুচিতে বাধে না?



কোনো মেয়ে দৃষ্টিকটু পোষাক পড়লে তাকে টিজ করার অধিকার চায় যারা, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, টিজ করে কি কারো মধ্যে শ্লীল-অশ্লীলবোধ আনা সম্ভব?? সবচেয়ে বড় কথা, যারা এমন না তাদের আপনারা টিজ করছেন কোন অধিকারে?


ব্যাক্তি-স্বাধীনতা অবশ্যই আছে, কে কি পড়বে না পড়বে তা সম্পূর্ণ তার নিজের ব্যাপার। কিন্তু, শ্লীল-অশ্লীলবোধ সবার থাকা উচিত। একমাত্র পরিমিত শ্লীল-অশ্লীলবোধ এর জন্যই কারো পড়া বোরখা-শাড়ি অশ্লীল মনে হয়, আবার কারো ওয়েস্টার্ন পোষাক পড়া দেখতে খারাপ লাগে না।

কেউ যদি এসব ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে যান, যেমন ইভ-টিজিং এর প্রতিবাদ করলে তাকে বলা হয় নারীবাদী, আবার পরিমিত শ্লীল-অশ্লীলবোধ নিয়ে বলতে গেলে মৌলবাদী। ঢালাওভাবে মেয়েদের বা ছেলেদের দোষ দিয়ে দেয়া হয়, কিন্তু, সমস্যা বা সমাধান নিয়ে কেউ ভাবে না।
আইন করে কখনো কোনো সমস্যার সমাধান হয় নি। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দরকার, পারিবারিক বন্ধনের দৃড়তা, যেন আমরা আমাদের সন্তানকে অন্যায়পথে যাওয়া থেকে রুখতে পারি, যেন আমরা বোঝাতে পারি যে, নারীদেরকে ভোগপণ্য হিসেবে না দেখা হয়। সামাজিক মুল্যবোধ, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। অপ-সংস্কৃতির প্রভাব থেকে দূরে রাখতে হবে তরুন সমাজকে; আমি বলছি না যে, বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই, বাইরের বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নতির পথে চলতে হলে আমাদের অবশ্যই তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে, তাদের সংস্কৃতির ভালো দিক গুলো (যেগুলো আমাদের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ) গ্রহণ করতে হবে, আর খারাপ দিকগুলো বর্জন। আমাদের সংস্কৃতির উন্নতি সাধন করতে হবে যেন এর প্রভাব অন্য সংস্কৃতির প্রভাবকে কমিয়ে দেয়

আশা করি, একদিন এ দেশ থেকে ইভ-টিজিং নামক ব্যাধি কমে যাবে.....

একা এক স্বপ্নীল পথিক
১১/০৫/২০১২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×