somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব স্বীকৃত সার্টিফিকেট অর্জন করলো বাংলাদেশের ১৪ বছরের কিশোর

০৮ ই জুন, ২০১১ সকাল ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের এই বাংলাদেশকে বলা যায় প্রতিভাবানদের দেশ। সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই ভূখণ্ডের মানুষ তাদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে। সম্প্রতি এরকম আরেক প্রতিভার প্রমাণ মিললো আমাদের দেশেই। মাত্র ১৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পিএইচপি’র জেন্ড সনদ অর্জন করে বিশ্বজুড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আমাদের শেহাজদ নূর তাউস।

অভিনেত্রী মিতা নূরের পুত্র এ বছর আগাখান স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়া শেহজাদ নূর তাউস শখের বশেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে পড়ালেখা শুরু করে ৪/৫ বছর আগে। এক্ষেত্রে তার মেধার স্বাক্ষর দেখতে পেয়ে তাকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তার পরিবার। ধীরে ধীরে সে সি, সি++, সি#, জাভা, ভিজ্যুয়াল বেসিকের মতো প্রোগামিং ল্যাংগুয়েজগুলো আয়ত্ব করে নিয়ে আসে সহজেই। এর পরে তার নজর পড়ে পিএইচপি’র উপরেই। বিশ্বব্যাপী ওয়েসসাইট এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে পিএইচপি একটি স্বীকৃত এবং বহুল ব্যবহূত প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। ফেসবুক বা ইয়াহু’র মতো সাইটগুলোতেও ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। এক সময় পিএইচপির উপরেও পড়ালেখা করে এক আয়ত্বে নিয়ে আসে শেহজাদ। তবে পিএইচপির সনদ অর্জনের জন্য দিতে হয় পরীক্ষা। প্রায় ২ বছর পিইচপি নিয়ে পড়ালেখা করে এবং এর উপর কাজ করে শেহজাদ তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়। অবশেষে এ বছরে সে সিদ্ধান্ত নেয় পিএইচপি’র সনদের জন্য পরীক্ষা দেবার। বাংলাদেশ প্রথম জেন্ড সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার হাসিন হায়দারের সাথে কথা বলে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে। ২৮ মে ২০১১ তে সে অবর্তীণ হয় পিএইচপি ৫.৩ সার্টিফিশেন পরীক্ষায় এবং সাফল্যের সঙ্গে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শেহজাদ এখন শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বিশ্বের কনিষ্ঠতম জেন্ড সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার (জেড সিই)। বাংলাদেশে জেডসি’ইর সংখ্যা মাত্র ৩৪ জন। আর বিশ্বব্যাপী এ সংক্রান্ত মাত্র ৫ হাজারের কিছু বেশি।

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত অন্যতম সেরা এই সনদপ্রাপ্তিতে শেহজাদের কৃতিত্ব আরো বেড়ে যায়, যখন বয়সের দিক থেকে সে এই সনদপ্রাপ্তদের মধ্যে কনিষ্ঠতম। দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা শেষ করতে সে সময় নিয়েছে এক ঘণ্টারও কম।

শেহজাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আর অষ্টম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন সে অংশ নেই জেডসিই পরীক্ষায়। মে’র ২৯ তারিখ থেকে শুরু হয় তার অষ্টম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষা, আর মে’র ২৮ তারিখে সে অংশ নেয় পিএইচপি’র পরীক্ষায়। এত অল্প বয়সে জেন্ড এর সনদ পেয়েও সবকিছু পাওয়া হয়ে গেছে বলে ভাবছে না শেহজাদ। বরং সে মনে করে এই হলো চলার শুরু মাত্র। বর্তমানে সে মাই এসকিউএল নিয়ে কাজ শিখছে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আউটসোর্সিং এর কাজ করছে শেহজাদ। আর সবসময়ই তার মাথার মধ্যে ঘুরছে নতুন কিছু করার। ঠিক এমন ধরনের কোনো অ্যাপ্লিকেশন সে বানাতে চায়, যা আগে কেউ করেনি। আমরা আশাবাদী, শেহজাদ তা পারবে। শেহজাদের ব্লগসাইট universal thinker. wordpress.com। তার ব্লগেই সে জানিয়েছে তার আকাশ ছোঁয়া লক্ষের কথা-‘আমি ক্রমশই এগিয়ে যেতে চাই আমার সেই স্বপ্নের দিকে। যে স্বপ্নে আমি একদিন বিল গেটস বা মার্ক জুকারবর্গের মতো ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। আমার সে স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে কি না আমি জানি না, তবে তার জন্য চেষ্টায় আমার ঘাটতে থাকবে না’। আমরা বিশ্বাস করি শেহজাদের মেধা আর শ্রম তাকে নিয়ে যাবে তার লক্ষ্যের দোড়গোড়ায়।

সূত্র: Click This Link
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×