somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হিসেব বিহীন সময়ের গল্প

৩০ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক সময় ধরে ঘুমাচ্ছি, অনেক অনেক দিন, অনেক অনেক মাস, অনেক অনেক কাল...। এখানে তো আর সময়ের হিসেব নেই, তাই সঠিক কত কাল তাও জানি না। থাকগে, এখানে তো আর দিন রাত নেই- সময়ের হিসেব দিয়ে কি বা হবে? তবে হ্যা প্রথম প্রথম মনটা কেমন ব্যকুল হয়ে যেত, ঘুমাতে ইচ্ছা করত না, ছটফট করতাম এক চিলতে আলোর জন্য। সেদিনের কথা এখনো মনে আছে, তখন তো আমি এখানে নতুন, অনেক দিন ঘুমানোর পর জেগে উঠে শুধু আলো নিয়েই তো খেলতাম। মাঝে মাঝে যখন খুব সুক্ষ কোন ফাঁক গলে ঢুকে যেত ঠান্ডা হাওয়া- উহ; সে কি প্রশান্তি। ভাবলে এখনো মনটা ভরে যায়।

কিন্তু কত দিন? মাস বোধয়, না বছর ই হবে, নাকি কত কাল? কি জানি,সময় তো মনে নেই, অনেক কাল আগের কথা তো। কিন্তু সেদিনের কথাটা স্পষ্ট মনে আছে- আমি সবে ঘুম থেকে উঠেছি, হঠাত দেখি সব ছাড়খাড় করা প্রবল আলো, আমি আর্তনাত করে চোখ
বন্ধ করতে চাইলাম কিন্তু তা কি আর হয়! চোখ তো কবেই খসে পরেছে, বন্ধ করব কি? ওহ; সে কি কষ্ট...কষ্ট...কষ্ট! অবশেষে আমার কষ্টের অবসান ঘটিয়ে কারা যেন কিছু মাটি ছুড়ে দিল আমার চোখে। আমি কিছুটা শান্ত হলাম। একটু বেশিই শান্ত, কারন কারা যেন আমার সারা শরীর জুড়ে ছুড়ে ছুড়ে দিচ্ছে মাটি, সেই প্রথম দিনের মত যেদিন এখানে এলাম। সেকি অন্ধকার! সেকি শুন্যতা! যেন বুক ফেটে যায়...। ওইদিন অবশ্য ঘটল অন্য ঘটনা। নিজের শরীরের সমান ভারি আর একটা শরীরের ভারে পিষে যেতে লাগলাম আমি। একদিকে এই যন্ত্রনা, অপরদিকে আবার সেই অন্ধকার। কোথাও এক চিলতে ফাঁক রইল না যেখান দিয়ে আমার জন্য একটু আলো আসতে পারে। বাতাসের আনাগোনা বন্ধ হয়ে গেল চিরতরে। সেই থেকেই তো এই অন্ধকারেই বাস। সময়ের হিসেব আর আমি জানব কিভাবে!

তা সে যাই হোক। সব কথা তো আর মনে করতে পারি না, তাই যতটুকু মনে পরে জেগে থাকলে তাই ভাবি শুয়ে শুয়ে। আলো-বাতসের জন্য এখন আর তেমন ছটফট করি না, শরীরের যন্ত্রনাও আর তেমন অসহ্য ঠেকে না। আচ্ছা কারা কারা এল এখানে? সেই বুড়িটা বোধয়, মাঝি পাড়ায় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে যে ভিক্ষা করত। যার থালা ধরা হাতে ছিল দগদগে ঘা...। তারপর খান বড়ির সেই ছেলেটাও হয়ত, বুড়ির ঘা দেখে যে নাক কুঁচকে ছুড়ে দিত দশ টাকার একটা নোট। আর কে কে এলো এখানে? কি জানি ,সবাইকে হয়ত চিনিও না!
পরিচিত কাউকে তেমন মনে পরে না, না মার চেহারাটাও তো আবছা! সেকি আমায় আদর করত? পাশের বাড়ির বাবুর মা যেমন বাবুকে বুকে জড়িয়ে চুমু খেত! নাহ মনে নেই। আমাকে ছোট রেখেই তো সে চলে গিয়েছিল তার প্রেমিকের হাত ধরে, কি জানি তার সেই প্রেমিক কি তাকে সুখে রাখতে পেরেছিল কিনা! তবে হ্যা, আদর আমাকেও করেছিল একজন, তার বুকে ছিল উন্মাদনার গন্ধ, সেই উন্মাদনায় মেতেছিলাম আমিও। তবে ভালবাসা আর উন্মাদনায় যে পার্থক্য তা তখন বুঝি নি, বুঝেছিলাম পরে। আর ভালবাসা? হ্যা ভালও আমায় বেসেছিল কয়েজন, আমি বেসেছিলাম কিনা জানি না।

মাঝে মাঝে খুব অস্থির লাগে। আচ্ছা, আমায় কি কেউ মনে রাখে নি? কেউ না? কারো মনে কি আমার জন্য ভালবাসার একটি অশ্রু ও নেই? এই পৃথিবীর কোথাও কি আমার অস্তিত্যের এক বিন্দুও অবশিস্ট নেই? তবে আমি কেন আছি? আমি তো এরকম পরিনতি চাই নি! আমি আমার অস্তিত্য চাই,যেভবেই হোক চাই। আমি মুক্তি চাই, স্পর্শ চাই, ভালবাসা চাই, আমি ভালবাসতে চাই, আমি মুক্তি চাই, মুক্তি...।

এক চিলতে আলো এল বোধয়...! কোথ্যেকে এল? কোনদিক দিয়ে? না না, এবার আমি আর এক মুহুর্তও নষ্ট করব না। আমি নিজেকে নিঃস্ব করেই মুক্তির স্বাদ নেব।


এটি একটি বিচ্ছিন ঘটনাঃ

(ঐ দেখ কি সুন্দর একটা ফুল। ইস! কি সুন্দর গোলাপী রঙ! এনে দে না দাদা।
_ না না, আমার ভয় করে। আমি পারব না।
দে না দাদা। আমি গেলে মা বকবে। মা বলেছে মেয়েদের গোরস্থানে যেতে নেই। দে না দাদা, দে না...
_আচ্ছা এক শর্তে, তোর এই বাক্সে কি আছে আমায় দেখাবি?
দেখাব, তুই এনে দে।
_এই নে।
ইস! কি সুন্দর! কি সুন্দর!
_খবরদার ঠোট ছোয়াবি না, দূর থেকে ঘ্রান নে।
কি সুন্দর ফুল! কি সুন্দর!
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:২৬
২৬টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্থ ইসরায়েলি জনপদ!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২



সুরা আ’রাফের ৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে,”আর এমন বহু জনপদ রয়েছে, যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। তখনই আমাদের শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল রাতে অথবা দুপুরে যখন তারা বিশ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×