আমার এক আত্নীয়ের একটা বিকাশ এ্যাকাউন্টে কিছু টাকা ছিলো হঠাৎ করে একদিন দেখে এ্যাকাউন্ট ইনএ্যকটিভ হয়ে আছে।তিনি মোবাইল নিয়ে আমার কাছে আসলো। আমি তাদের হেল্প লাইনে কল দিলাম, কোন সামাধান না দিয়ে বললো বিকাশ সেন্টারে! যোগাযোগ করতে। তিন মিনিটে কলচার্জ প্রায় আট টাকা কেটে নেয়া হলো। তারপর এতো ব্যস্ততার মধ্যেও রমজান মাসে ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে তাকে নিয়ে বিকাশ সেন্টারে গেলাম।
সেখানে গিয়ে দেখি কাষ্টমার কেয়ারের নামে মুরগীর খোপের মতো একটা রুম। সেখানে গাদাগাদি করে ৩০/৪০ জন পুরুষ মহিলা অসহায়ের মত দাড়িয়ে আছে। আমি টোকেন নিলাম। চারটা কাউন্টার থাকলেও ১টা বন্ধ বাকি তিনজন মোবাইলে কিছুক্ষন পর পর কথা বলার জন্য উঠে যাচ্ছেন পাশের রুমে। আর সবাই মোটামুটি গবেট, অদক্ষ, অথর্ব কিসিমের লোক। দ্রুত গ্রাহকসেবা দেবার নামে রিতিমতো গ্রাহক নির্যাতন চলছে ওখানে। মেজাজ গরম হয়ে যাবে যে কারো ওখানে গেলে।
২ঘন্টা ৩০ মিনিট পর আমাদের সিরিয়াল আসলো। আমরা কাউন্টারে গেলাম। জানতে চাইলাম এ্যাকাউন্ট কেন ইনএ্যাকটিভ করা হলো? আর খোলার তরিকা কি? জবাবে জানালো আপনার এনআইডি দিয়ে একাধিক বিকাশ এ্যাকাউন্ট চালু আছে তাই। আমি বললাম একটি এনআইডি দিয়ে যদি একাধিক ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খোলা যায় তাহলে বিকাশ একাউন্ট কেন খোলা যাবেনা। আর একাধিক এ্যাকাউন্ট খোলার সময় কেন আটকানো হলো না? উত্তরে বললো, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার আছে। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের কত তারিখের কোন সার্কুলার? আর আমার অন্য এ্যকাউন্ট গুলোতেও তো টাকা ব্যালেন্স আছে কি করবো তাহলে? উত্তর দিলো-বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন সার্কুলার জানিনা। তবে আপনার পাসপোর্ট দিয়ে ১টা বিকাশ খুলতে পারনে আর ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে ১টা বিকাশ খুলতে পারবেন।
তাহলে ব্যাপারটা কি দাড়ালো? প্রতারনার ফাক-ফোকর থেকেই গেল। আবার আমার মতো কেউ না কেউ হয়রানির শিকার হবে। রোজার মাস, আমি আর কথা বাড়ালাম না যা বোঝার বুজলাম। এ্যকাউন্ট এ্যকটিভ করে চলে এলাম।
বিকাশ আমার কাছে মনে হয় হুন্ডির ডিজিটাল সংস্করন ও একটি অনিরাপদ ব্যাংকিং সেবা এবং জুলুমবাজী। যেখানে ১হাজার টাকা পাঠাতে গেলে ১৮.৫০/২০ টাকা চার্জ দিতে হয় অথচ কোন ব্যাংকে টাকা জমা রাখলেও ৮% বা ৯% এর বেশি আপনাকে দিবেনা। সবই যায়েজ করে নিয়েছে তারা। বিকাশ দেশে চালু হবার পর ঘুষের লেনদেন এখন বিকাশে হচ্ছে, চাঁদাবাজী বিকাশে হচ্ছে। খেটে খাওয়া শ্রমজিবী মানুষকে টার্গেট করে মানি মেকিং করছে সুকৌশলে। কারন তাদের প্রতিবাদের রাস্তা নাই। বিকাশের এইসব হয়রানি সবার চোখের সামনে ঘটলেও দেখার কেউ নাই। প্রতিদিন কতো মানুষ প্রতারিত হয়েছে, হচ্ছে তার খবর আমরা তো প্রায়ই শুনি বা দেখি।ব্র্যাকের প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানই শ্রমজিবী মানুষকে শোষন করছে কৌশলে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

