somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্রগতি বিশ্বাস
জীবন ও সমাজ সম্পর্কে আমার ভাবনার ভিত্তি মূলত দর্শনশাস্ত্র, বিশেষত স্টোয়িক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রজ্ঞা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তাই একজন মানুষের প্রকৃত শক্তির উৎস। আমি একজন সেকুলার মানুষ—যিনি যুক্তি, মানবিকতা এবং বৈজ্ঞানিক

পাকিস্তান ক্রিকেট কেবল মাত্র সোনালী অতীত

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নব্বই দশকের শেষের দিকে, যখন বাংলাদেশ তখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেভাবে পদার্পণ করেনি, তখন এদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। সেই সময় আমি ভারতের সমর্থক ছিলাম। সমর্থনের মাত্রা এতটাই প্রবল ছিল যে, ভারত হেরে গেলে রাতের ঘুম নষ্ট হয়ে যেত। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ হলে উত্তেজনা অন্য মাত্রা পেত। চারপাশে পাকিস্তান সমর্থক বেশি থাকায়, ভারত হেরে গেলে ট্রলের শিকার হতে হতো।


তবুও অস্বীকার করার উপায় নেই, সেই সময় পাকিস্তানের দল ছিল এক অসাধারণ কম্বিনেশন। ওয়াসিম আক্রাম, ওয়াকার ইউনুস, মুশতাক আহমেদ, সাইদ আনোয়ার—এদের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের খেলা দেখার অভিজ্ঞতাই ছিল ভিন্নরকম। তাই বর্তমান সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের দুরবস্থা দেখে সত্যিই মায়া লাগে। একসময় যে দলের জয় খারাপ লাগত, আজকাল সেই পাকিস্তান হারলে খারাপ লাগে, আর জিতলে ভালোই লাগে।


বর্তমান সময়ে আফগানিস্তান ক্রিকেটের দিকেও নজর রাখতে ভালো লাগে। মনে হয়, ভবিষ্যতে এই দল আরও বড় কিছু করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশের কথা উঠলেই মনটা ভারী হয়ে যায়। দেশে খেলার মাঠ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে, আর তরুণদের হাতে ক্রিকেট ব্যাট নয়, স্মার্টফোন। আড্ডায় গল্প নেই, আছে শুধু পর্দায় অবিরাম স্ক্রলিং। এই অবস্থা হতাশাজনক হলেও এর চেয়েও ভয়ঙ্কর হলো—তরুণদের এক বড় অংশ রাজনৈতিক অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়ছে।



কখনো তাদের ব্যবহার করা হয় সস্তা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে, কখনো তারা মাঠের খেলার পরিবর্তে রাজপথে সংঘর্ষে নেমে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেখানে গবেষণা, শিক্ষার পরিবেশ আর খেলাধুলা বিকশিত হওয়ার কথা, সেখানে ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ছে দলীয় কোন্দলে, মারামারিতে, এমনকি প্রাণঘাতী সহিংসতায়। অল্প বয়সে যারা বই হাতে বা খেলাধুলার মাঠে থাকার কথা, তারা রাজনৈতিক ‘ক্যারিয়ার’-এর আশায় জীবন ধ্বংস করে ফেলছে।

ফলস্বরূপ একটি প্রজন্ম শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় পিছিয়ে পড়ছে। যে শক্তি দেশকে এগিয়ে নেয়ার কথা, সেই তরুণ শক্তিই বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আজকে মোবাইল আসক্তি, কালকে রাজনৈতিক হানাহানি—এই দুই মিলেই তরুণদের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে।




সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ৮:৩৮
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের জেন জি নিয়ে মূল্যায়ন এবং জেন জি'কে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মূল্যায়ন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯



লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের এইসব কথার সাথে একটু দ্বিমত আছে। কারণটা বলছি..

২০১৯ থেকে আমার যে বিপুল সংখ্যক নারীদের সাথে সুন্দর, নির্ভেজাল ও পরিচ্ছন্ন বন্ধুত্ব হয়েছে, এর ৬০%-ই হচ্ছে জেন জি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×