somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলাভোলার মুক্তিযুদ্ধ।

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(]মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যাদের এখনও সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধাপুর্ন ভালবাসা আছে এ লেখাটা তাদের জন্য। মুক্তিযুদ্ধে আমার অংশগ্রহন নিয়ে যদি সন্দেহ থাকে তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে ডিজিলাইজড তালিকাটি দয়া করে দেখে নিবেন,তবু মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাকে অপমানজনক মন্তব্য করবেন না। ধন্যবাদ।)


আামি আজও অবাক হয়ে ভাবি-৫০ বছর আগের আমার মত হাবাগোবা ছেলেটি একাত্তুরে কেমন করে যুদ্ধের মতো ভয়ংকর এবং প্রানহানীর শতকরা ১০০ ভাগ আশংকাময় একটি কাজে জড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
আব্বা ছিলেন আমাদের এগার ভাইবোনের কাছে এক ভয়ংকর ব্যাক্তিত্ব। আব্বা যা বলতেন তা আমাদের এগার ভাইবোনের কাছে ছিল অনিবার্য আদেশ।পারতে ধারে কাছে যেতামনা।কোনভাবে সামনাসামনি পরে গেলে মাথাটা নিচু করে দ্রুত সরে পড়তাম।আমাদের প্রতি তার স্নেহ আর আমাদের পক্ষ হতেও তার প্রতি শ্রদ্ধার কোন অভাব ছিলনা। কিন্তু দুপক্ষেরই Expression ছিল একদিকে গম্ভীর এবং অন্যদিকে ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধা।সে সময়ের হেডমাষ্টারদের চেহারাটা বোধহয় এমনই ছিল।তিনিও ছিলেন একজন হাই স্কুলের হেডমাষ্টার।তার সামনে সন্তানদের নিয়ে একমাত্র গোল ছিল -লেখাপড়া কর,চাকরী কর। রাজনীতি-কক্ষনও না।
তাই-আমি নিজেই অবাক হই-আমার মত বাপের আলাভোলা এবং ভিতু টাইপের আহ্লাদি পোলাটা শুধু রাজনীতি নয়,যুদ্ধের মত ভয়ানক বিষয়ে নিজের প্রান বিলিয়ে দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিল।এটা পরিবারের কাছেও অকল্পনীয় ছিল।
সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বয়সে এত ভয়,এত পারিবারিক পরাধীনতা আমি ছেলেটিকে কিছুটা বিক্ষুব্ধ করে তুলছিল। নিজে কিছু করার মত কিছু কিছু কাজ শুরু করলাম।একই সাথে ভয়ও থাকত যে আব্বা যদি জানেন তবে Minimum dose হিসাবে কানমলা তো অনিবার্য্য।
যদিও খারাপ লাগছিল-তবুও আব্বা আম্মাকে জানিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা কারন পরিবারে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।এবং এ যুদ্ধে আমার পরাজয় নিশ্চিত।কিন্তু ভেতরের আবেগ দিনে দিনে এত বড় আগুনে পরিনিত হতে চলছিল যে আমি তাতে শুধু পুড়ছিলাম-যাতে পারিবারক আবেগ,আদর-স্নেহ দিন দিন অনেক দুরে সরে যাচছিল।
আমার ভয়ভীতি,পরিবারের বড় ছেলের জন্য আদর আহ্লাদ সব বিসর্জন করে আমার গ্রামের আরো একত্রিশ জন যুব দের সংগে নিয়ে জুনের মাঝামাঝি অন্ধকার রাতে পালিয়ে যুদ্ধের জন্য নৌকায় উঠি। পকেটে মাত্র পাকস্হানি ১৩ টাকা।
পরবর্তী আগামী পর্বে.....
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩২
১২টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাকাতদর্শন

লিখেছেন মৃত্তিকামানব, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩০


আমাদের ছোটবেলায় প্রতিদিন নিয়ম কইরা দিনের বেলায় চুরি হইত আর রাতের বেলায় ডাকাতি।ডাকাতরা বেবাক কিসিমের মুখোশ পইরা, অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আইসা স্বর্ণালংকার, টাকাকড়ি থেকে শুরু কইরা শ্বশুরবাড়ি থেকে আসা পিঠাপুলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার উপদেশ বা অনুরোধ

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৩



একটা গল্প দিয়ে লেখাটা শুরু করি-
একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ভদ্রলোক তরমুজ বিক্রি করছেন। তরমুজের মূল্যতালিকা এমন: একটা কিনলে ৩ টাকা, তিনটা ১০ টাকা।
একজন তরুণ দোকানে এসে একটা তরমুজের দাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

লিখেছেন শাহ আজিজ, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৪






সকালে তৎপর মিডিয়া দেখাচ্ছিল বাবার মোটর বাইকে চড়ে মিন্নি কোর্টে এসেছে মাস্ক পরে । এই তিনটার সময় বাবা মিন্নি ছাড়াই বাইক নিয়ে ফিরে গেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিস্তায় চীনাদের যোগ করার কোন প্রয়োজন নেই, বাংগালীদের পারতে হবে।

লিখেছেন চাঁদগাজী, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯



ভারতের সাথে তিস্তার পানি বন্টন ও বন্যা কন্ট্রোল কোনভাবে হয়ে উঠছে না; ভারতের পানির দরকার, এতে সমস্যা নেই; ওদের প্রয়োজন আছে, বাংলাদেশেরও প্রয়োজন আছে, এই সহজ ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মবিল

লিখেছেন সাদা মনের মানুষ, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪৮


ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে আখাউড়া উপজেলার ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী মিনারকোট পদ্মবিল। টিভির খবরটা দেখেই কয়েকজন বন্ধু নিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম পদ্মবিল দেখতে। প্রত্যন্ত অঞ্চল হলেও ওখানটায় গাড়ি নিয়ে যাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×