somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাইকোর্ট সংক্রান্তে লো টক-

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘‘মাই লর্ড ’’ উপনিবেশিক এই শব্দটি এখনো চালু থাকবে?

বৃটিশরা তাদের উপনিবেশগুলোতে মানুষের মনে এই ধারণার সৃষ্টি করেছে যে, বিচারকরা ভুলের উর্দ্ধে। তারা খোদার সমতুল্য। ধর্মাবতার। তার জন্যে বিচারকদের সম্মোধন করার নিমিত্তে তারা সেই ধরনের শব্দ চয়ন করে চালু করে গেছেন। হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের “মাই লর্ড” সম্মোধন করা তেমনি একটা ব্যাপার। ভারতে এই মাই লর্ড সম্মোধনের প্রথাটি উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে 'ইউর অনার' বা অনারেবল কোর্ট সম্মোধন করা হয় সেখানে। বলাই বাহুল্য, এতে সম্মানিত বিচারকদের সম্মানকে কোনভাবেই খাটো করা হয়নি। বরং বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কেননা বিচারকদের “মাই লর্ড” সম্মোধনকে জনগণ কখনোই ভাল চোখে দেখেনি। আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গেও এটা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই বিচারপতিদের “মাই লর্ড” সম্বোধন করা হয় না। করা হয় “ইউর অনার” বলে। (সংবাদ ইত্তেফাক, ২৮ এপ্রিল ২০০৬) বিচারকদের প্রতি মাথা নোয়ানোর রীতিটিরও বিলুপ্তি ঘটাতে হবে। এর দ্বারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী বিচারপতি কিম্বা আইনজীবী সকলেই বিব্রতবোধ করে থাকেন। আর এ রীতিটা যুক্তির বিচারে সরাসরি অনৈসলামিকও বটে।

বিচারকদের ‘বিব্রতবোধ’ কতটুকু আইনসম্মত:

একজন বিচারপতি শপথ নেয়ার সময় সংবিধান অনুযায়ী পাঠ করে-‘‘আমি ........ বিচারপতি নিযুক্ত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষন করিব। আমি বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব এবং আমি ভীত বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবতী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরন করিব।’’ -এরূপ শপথ নেয়ার পর কোন বিচারপতি বিচার করতে গিয়ে যদি বলেন, তিনি বিব্রতবোধ করছেন, তাহলে এটা কি তার শপথের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ন কিম্বা আইনসম্মত হলো ? সম্মানিত বিচারপতিদের প্রতি জনগনের পক্ষে আমার প্রশ্ন রইল।

হাইকোর্টের বিচারকগণ ‘জাষ্টিস‘ নাকি ‘জজ’

আমাদের সংবিধানের ৯৪নং অনুচ্ছেদের (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করিবেন। এটার ইংরেজী ভার্সন হলো- The Chief Justice, and the Judges appointed to the Appellate Division, shall sit only in that division and the other judges shall sit only in the High Court Division.
সুতরাং সংবিধান অনুসারে দেখা যাচ্ছে, কেবল মাত্র প্রধান বিচারপতিকে চীফ জাষ্টিস হিসাবে আখ্যায়িত করা যাবে। বাকিরা সবাই জজ বা বিচারক হিসাবে আখ্যায়িত হবেন। কিন্তু সংবিধান এখানে একটা ধুয়াশার সৃষ্টি করেছে। অনেক বিচারপতি থাকলে সেখানেই কেবল প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন আসে। অন্যরা জজ হলে তিনি প্রধান জজ হিসাবে আখ্যায়িত হওয়ার কথা। কিন্তু সংবিধানে ব্যবহৃত এসব শব্দগত মারপ্যাচে আইনের ভাষায় বলতে গেলে এটা বলাই সঙ্গত হবে যে, প্রধান বিচারপতি বা চীফ জাষ্টিস ছাড়া হাইকোর্ট বা সুপ্রীম কোর্টের সকল বিচারকই জজ হিসাবে গন্য হবেন, বিচারপতি নামে নয়। সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ীও ব্যাপারটি স্বীকৃত বটে। বাংলায় প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্যান্যদের বিচারপতি না বলে বলা হয়েছে বিচারক। সম্প্রতি সংবিধান পঞ্চদশ সংশোধনী হলেও এ ব্যাপারটি আবারো উপেক্ষা করা হয়েছে।

‘বাংলা ভাষা’-এদেশের উচ্চাদালতে চলার যোগ্যতা কখন অর্জন করবে?

উচ্চাদালতের সিদ্ধান্ত বিদেশেও চলে, সে কারণে উচ্চাদালতের রায় বিদেশের আদালতগুলোতে যায়। স্বভাবতই এখানে ইংরেজীর ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু তাই বলে বাংলা চলবে না এটা কেমন যুক্তি? ইতিহাস ঘেটেঁ যতটুকু জানা যায়, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো ১৯৬৬ সালের ৫ই ডিসেম্বর ঢাকা হাইকোর্টের শামসুদ্দীন আহমদ নামীয় আইনজীবী একটি ফৌজদারী রিভিশনের দরখাস্ত বাংলায় লিখে হলফনামা করানোর জন্য দাখিল করেন। কিন্তু দরখাস্তটি ইংরেজীতে লিখিত না হওয়ার কারণে তা গৃহীত হয়নি। হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার একটি লিখিত আদেশ দ্বারা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এ আদেশের বিরুদ্ধে একটি রীট পিটিশন হয়। কিন্তু হাইকোর্ট সে রীট পিটিশন খারিজ করে দেন। যদিও সেটা পাকিস্তান সংবিধানের ২১৫ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ছিল।
৫২ এর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। এদেশের নাম বাংলাদেশ। জাতি হিসাবেও এখন আমরা বাঙ্গালী। কিন্তু বাংলাটা আজো এখানে সেই আগের মতই অবহেলিত আছে। এখনো এদেশের হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্টে বাংলা ভাষা অচল। ব্যবহারের অযোগ্য। যদিও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খাইরুল হক কিছু জাজমেন্ট বাংলায় লিখেছেন। ঐ পর্যন্তই। অথচ আমাদের সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদে ষ্পষ্ট করে লেখা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা” খেয়াল করুন ইংরেজী, হিন্দি বা ফরাসী ভাষার কথা কিন্তু বলা হয়নি। আর জানেন তো, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। আর সর্বোচ্চ আদালত-এ সর্বোচ্চ আইন মানছে না সে ধরনের কথা বলে আমি কি আদালত অবমাননার মামলায় জড়াতে যাব? আপনারাই বলুন।
ব্রাকেটে আরেকটা কথা, যারা বিদেশ থেকে বিরাট বিরাট ডিগ্রী নিয়ে হাইকোর্টে সুপ্রীম কোর্টে প্র্যাকটিস করছেন, মুখে হরদম ইংরেজীর খই ফুটিয়ে নিজের পান্ডিত্য জাহির করেন, (সবার কথা বলছি না, ব্যতিক্রম অবশ্যই আছেন) তারা ভাল বাংলা বলতে পারেন না বা বাংলা তেমন আসে না” জাতীয় একটা হাবভাব প্রদর্শন করতে কসুর করেন না। নিজের রাষ্ট্রভাষা ভুলে যাওয়া কোন গৌরবের কথা হলো ? দু’ লাইনের বাংলা বলতে গিয়ে ১০/১৫টা ইংরেজী শব্দ ঢুকান। এটা বাংলার জন্যে কি কোন ভাল লক্ষণ ? হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্টের বিজ্ঞজনেরা বলছেন, এখানে বাংলা চালু করলে আইনের বারটা বেজে যাবে। কোর্টের মান কমে যাবে। বিদেশে এদেশের আইনের রেফারেন্স দেয়া হবে না। তাই বাংলা চলবে না। যুক্তিগুলো আমিও সমর্থন করি। কিন্তু এদেশে সংবিধান তো অন্য কথা বলছে, এটাই আমি বুঝাতে চাচ্ছি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×