মিশরের যেই সেনাবাহিনী সামান্য কটা ইসরাইলী ট্যাংকের সামণে ইদুরের মত লেজ গুটিয়ে দৌড়ে পালায়, সেই সেনাবাহিনী মিশরের জনগণের উপর দৌদর্ন্ডপ্রতাপে ছড়ি ঘুরায়। মিশরের রাজনীতি তো বটেই বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নিয়ন্ত্রণে। জনগনের ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তি তাদের পছন্দের না হলে তাকে ক্ষমতায় থাকতে দেয় না সেনাবাহিনী। সুদীর্ঘ ৬০ বৎসর ধরে সেনাবাহিনী পুরো মিশরকে এইভাবে গ্রাস করেছে। শক্তিতে না পারায় ইসরাইলের সাথে একরকম আপোষ করে নিয়েছে তারা। আরব বসন্তের ফলে জনগণ ভোট দিয়ে মুরশীকে নির্বাচিত করলে সেনাবাহিনী সেখানেও নানা টালবাহানা করে। কিন্তু জনরোষের ভয়ে একটি বৎসর অপেক্ষা করে। ব্যস। যা করার তা করে ফেলে। জনগণের সেবক নাম ধারণ করে আবারো সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। মুরশী ভাল হোক আর মন্দ হোক, তাকে চার বৎসরের জন্য নির্বাচিত করেছে জনগণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মিশরে জনগণের রায়ের বিন্দুমাত্রও কোন মূল্য নেই। বন্দুকের নলই সেখানে সকল ক্ষমতার উৎস। বন্দুক যার হাতে সবকিছু চলে তার ইচ্ছেতেই।
আরব বসন্তের পর মিশরে গণতন্ত্র দেখে যারা পুলকিত হয়েছিলেন, এবার তাদের সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। ধারনা করা যাচ্ছে, আরো অনেক রক্ত বইবে সেখানে, কেননা, অন্ততঃ একটি বৎসরের জন্যে হলেও মিশরের জনগণ গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল। কাজেই তারা সেই গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই করবে না সেটা ভাবা বোধ করি ঠিক হবে না। কেননা মিশরের জনগণ অন্যান্য আরবদেশের জনগনের তুলনায় কিছুটা হলেও বেশী সচেতন।
একথা বলাই বাহুল্য যে, মুরশীর সরকার দেশকে ইসলামী করনের দিকেই বেশী নজর দিয়েছেন। তিনি একজন কট্টর সুন্নী এবং ইরান বিরোধী হওয়া সত্বেও আমেরিকার ও তার অনুগত দেশ সৌদি আরব মুরশীকে সহ্য করতে পারছিলেন না মুলত একটি কারণে তাহলো, মুরশীর বেশীরভাগ সিদ্ধান্তই ইসরাইলের বিপক্ষে যাচ্ছিলো। ক্রমেই ইসরাইলের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠছিলেন তিনি। তাই আমেরিকার নির্দেশেই সৌদি আরব ও সংযু্ক্ত আরব আমিরাত মিশরের সেনাবাহিনীর সমর্থণে দ্রুত এগিয়ে এসেছে। আমেরিকা এখানে ইসরাইলকে দিয়ে খেলাতে রাজি নয়, ইসরাইলকে সাইড লাইনে রাখা হয়, বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের কারনে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


