
বিধাতার পরে দুহাত তুলে
জানাই শুকরিয়া কারণ
অসীম শূন্যতার ভেতরেও
তিনি শুনেছিলেন প্রতিধ্বনি
নিজ সত্তারই গভীর আহ্বান।
তাই তিনি সৃজিলেন দুহু
আলো আর অন্ধকার
দিন আর রজনী
আকাশ আর ধরণী
প্রেম আর প্রত্যাশা।
একটি হৃদয় থেকে আরেকটি হৃদয়ে
প্রবাহিত হোক অনন্তের সুর
এই ছিল তাঁর প্রথম স্বপ্ন।
দুহু হতে বহু
বহু হতে বহুতর জীবন
নক্ষত্রেরা জ্বলে উঠল আকাশে
ধূলিকণায় জন্ম নিল গ্রহের গান।
জলের বুকে উঠল ঢেউ
মাটির বুকে ফুটল প্রথম সবুজ
মানবহৃদয়ে জেগে উঠল ভাষাহীন প্রার্থনা।
একাকীত্ব ভাঙার সেই মহাকাব্য
এখনও লেখা হয় প্রতিদিন
মায়ের কোলেতে শিশুর হাসি হয়ে
বন্ধুর কাঁধে ভরসার হাত হয়ে
প্রেমিকের চোখে অনন্ত প্রতিশ্রুতি হয়ে।
রক্তের ভেতর বয়ে চলে সম্পর্কের নদী
স্বপ্নেরা জুড়ে দেয় বিচ্ছিন্ন দ্বীপসম প্রাণ।
বিধাতা জানেন
একাকীত্বে সৃষ্টির রং ফিকে হয়ে যায়
দুহুর মিলনে জন্ম নেয় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উৎসব।
তাই তিনি ছড়িয়ে দিলেন সম্পর্কের বীজ
রক্তে, মাটিতে, নক্ষত্রে, স্বপ্নে;
যেন প্রতিটি প্রাণ জানে
সে একা নয়, কখনও নয়।
কারণ দুহু থেকে বহু
আর বহু থেকে আবার
একই অনন্তের দিকে ফিরে যাওয়া
এই তো সৃষ্টির চিরন্তন যাত্রা।
কিন্তু
এখন এই চিরন্তন যাত্রায়
বিশ্বজুড়ে মরণপণ যুদ্ধে
মানুষ মানুষকে ভোলে
ভ্রাতা ভ্রাতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়
জীবন ঘাতী ক্ষেপনাস্রের
অগ্নিশিখা গ্রাস করে নগর।
ক্ষমতা, হিংসা আর লোভ
ছিন্ন করছে হৃদয়ের সেতু।
এখন এই সৃষ্টিজগতে ঘটছে
মানবীয় কত সব মরণঘাতি লীলা
ধ্বংসের ভস্মে কি ফুটবে নব অঙ্কুর?
রক্তরাঙা ভোর কি রচনা করবে
আরও নির্মল প্রভাত?
তবে বিধাতা নিশ্চুপ নন
সংঘাতের গভীরে লুকিয়ে রাখেন বোধের বীজ
অন্ধকারের অন্তরালে জ্বালিয়ে দেন
অদৃশ্য প্রদীপ।
মরণপণ যুদ্ধের বুক চিরে
তিনি লিখে দেন সহমর্মিতার শপথ
ভগ্ন সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে
রোপণ করেন পুনর্জন্মের আশা
যথা এটম বোমার পরেও
জাপানের নাগাশিকা
আর হিরোশিমা ।
কারণ তিনি জানেন
দুহুর বিভেদ চূড়ান্ত নয়
সংঘর্ষও শেষ সত্য নয়;
বহুর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে
একটিরই অনন্ত সুর।
তাই ধ্বংসের পরেও সৃষ্টি
বিচ্ছেদের পরেও মিলন
অশ্রুর পরেও হাসি
এই চক্রেই ঘুরে চলে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।
দুহু থেকে বহু
বহু থেকে আবার একে ফেরা
এই তো সৃষ্টির চিরন্তন লীলা
এই তো অনন্তের আহ্বান।
শুভেচ্ছা সকলের তরে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



