একটি নতুন বাসস্থানের আশায় পুরাতন রাজ্যকে বিদায় জানিয়ে বেড়িয়ে পরলাম অজানার উদ্দেশ্যে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক বালিকার ঘন কেশ সমৃদ্ধ মাথা খুজেঁ পেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম সেখানেই নতুন রাজ্যের সূচনা করবো। পুরো রাজ্য ছিলো আমার রাজত্বে। ধীরে ধীরে রাজ্যে জনসংখ্যা বাড়তে থাকলো। ভালোই কাটছিলো দিন গুলো কিন্তু যখনই জনসংখ্যার বিস্ফোরণ হলো তখনই রাজ্যে নেমে আসলো দুর্গতি। বালিকা বুঝতে পারলো তার মাথায় আমি সুখের রাজ্য গড়ে তুলেছি। অস্ত্র নিয়ে বালিকা নেমে পরলো আমাদের উচ্ছেদ করার জন্য। কিন্তু আমরা সংখ্যা তে ছিলাম বেশি তাই বালিকা পেরে উঠছিলো না আমাদের সাথে। একটানা যুদ্ধ চলতে থাকলো, একসময় বালিকা যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যুদ্ধে বিরতি দিলো আর সেই বিরতি তে আমাদের সংখ্যা আরোও বেড়ে গেলো, আমরা আরো শক্তিশালী হলাম। হঠাৎ একদিন দেখি রাজ্যে অন্য অস্ত্রের হানা, এইটা ছিলো শক্তিশালী অস্ত্র যার সাথে পেরে উঠা খুবি কঠিন ছিলো তারপরও আমরা নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে ধরার কিন্তু আমি যে পালিয়ে বেড়ানো তে এক্সপার্ট। তাই প্রথম দিন কোন রকমে নিজেকে রক্ষা করতে সফল হয়েছিলাম কিন্তু অনেক প্রজা ধরা পরেছিলো। রাজ্যে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে, কি করবে সেটা ভাবতে বসেছে সবাই। অবশেষে সবাই একসাথে বালিকার মাথায় তান্ডব শুরু করে, বালিকা প্রায় পাগলপ্রায় আমাদের অত্যাচারে। কিন্তু বালিকা সেইদিন আর যুদ্ধে নামেনি। পরের দিন আবার যুদ্ধ শুরু। আবারও নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা কিন্তু আজ ব্যর্থ। ধরা পরে যাই। দুই আঙ্গুলের নখের চিপায় পিষ্ট হয়ে মারা যাবার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করলাম কিন্তু এ কি কান্ড!! আমাকে পিষ্ট না করে নিচে ফেলে দিলো। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম, যাক এখন পলায়ন করার পালা। যেই পালানোর জন্য দৌড়ানো শুরু করলাম তখনই একটা পিঁপড়া কামড় বসিয়ে দিলো তার কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি পিঁপড়া চলে আসলো। দুজনে আমাকে যেন টেনে ছিঁড়ে ফেলার উপক্রম। কিযে এক দুর্বিষহ যন্ত্রণা, ধীরে ধীরে পিঁপড়ার সংখ্যা বেড়ে গেলো। তারা তাদের বিষালো দাঁত দিয়ে আমাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিলো আর আমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পরলাম। পরে রইলো আমার নিথর দেহ।।
এভাবেই একটি উকুনের জীবনের ইতি ঘটলো।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



